সময়ের কথা:

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়

Author মামুনার রশীদ, বগুড়া:
    সময় : শনিবার, জুন ২২, ২০২৪, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
  • ৬৪২ Time View

আজ ইচ্ছা নিয়ে একটু শব্দের কিচ্ছা বলবো।যেকোনো কাজ করার যে অদম্য বাসনা তাকেই আমরা ইচ্ছা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করি। আমরা ছোট বেলা থেকেই পড়ে এসেছি,জেনে এসেছি ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। যাকে মিচেল জেনাই বলেছেন,”Where there is a will,there is a way.’ আজও এই লাইনটা আমাদের সামনে আসলে চোখে ভেসে উঠে একটি তৃষার্ত কাক আর কলসীর কথা। আমরা কমপ্লিশন অব স্টোরিতে নৈতিক শিক্ষা কী – তা বুঝাতে লিখেছি Where there is a will,there is a way. আমরা গল্পে দেখেছি কীভাবে প্রবল ইচ্ছা নিয়ে একটা তৃষার্ত কাক তার তৃষ্ণা মিটাই।তবে ওটা ছিল তত্ত্বীয় কথা কিন্তু আজ বলবো বাস্তব কথা। কেন না একটা প্রবাদ আছে ‘Example is better than precept’ অর্থ্যাৎ উদাহরণের চেয়ে দৃষ্টান্ত ভালো। আজ আমি দৃষ্টান্ত দিবো কীভাবে ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।

গত ১২.০৫.২০২৪ খ্রি. তারিখে যখন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলো তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলো বগুড়ার এক পুলিশের ঘটনা।পরের দিনে স্থানীয় পত্রিকায় বের হলো ৫৭ বছর বয়য়ে এসএসসি পাশ! এমন ঘটনা ঘটেছে।এখন আমরা সংবাদটি একটু পড়ে নিই;
“বগুড়ায় কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল আব্দুস ছামাদের (৫৭) অবসরজীবন শুরু হতে বাকি মাত্র ২ বছর ১০ মাস। স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় ৫৭ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

জিপিএ ৪ দশমিক ২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ছামাদ।
রোববার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে তার এ সাফল্যর খবরটি জানা যায়। ছামাদ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত আছেন।

তিনি জানান, ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর ৩৭ বছর আগে পুলিশ বিভাগে চাকরি পান। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান সামাদের আরও দুই ভাই ও এক বোন আছেন। তাই পরিবারের হাল ধরতে সেই সময় অষ্টম শ্রেণি পাশ করেই তিনি পুলিশে যোগদান করেন। পরে কর্মস্থলের বাস্তবতায় আর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়নি। তবে চাকরির শেষ সময়ে এসে স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফলাফলে বাজিমাত করেন সামাদ।”

একটু চিন্তা করুন তো! চাকরির বয়স ৩৭ আর তাঁর বয়য় ৫৭! এমন সময়ে তিনি এসএসসি পরীক্ষা দিলেন এবং সফলতার সাথে কৃতকার্যও হলেন।এর পিছনে কী কাজ করেছে? একটি হলো ইচ্ছা, স্বপ্ন আরেকটি হলো স্ত্রীর অনুপ্রেরণা। এই কারণেই বুঝি আমাদের জাতীয় কবি বিদ্রোহী কবি হিসাবে খ্যাত কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর নারীর কবিতায় বলেছেন,

” কোনো কালে একা হয়নি ক’ জয়ী পুরুষের তরবারী
প্রেরণা দিয়াছে,শক্তি দিয়াছে বিজয় লক্ষ্মী নারী।”

সামাদ সাহেব জীবনে ট্র্যাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনে কতজনকে পথ দেখিয়েন, কতজনকে শুধরে দিয়েছেন তার হিসাব নেই তবে তাঁকে জীবনের পথে আনতে একটা এসএসসি পরীক্ষার সনদ অর্জনে তাঁর স্ত্রী যে ভূমিকা পালন করেছে – তা সত্যি অনন্য, অতুলনীয়।এ কারণেই বুঝি বিশ্বের জ্ঞানতাপস জ্ঞানীদের জ্ঞানী মহান দার্শনিক সক্রেটিস বলেন,’ তুমি যদি ভালো স্ত্রী পাও তবে সংসারে সুখী হবে আর যদি মন্দ স্ত্রী পাও তবে তুমি দার্শনিক হবে।”। আব্দুস সামাদ একজন সহধর্মিণী পেয়েছেন একটা সুখের সংসার পেয়েছেন এবং সুখী হয়ে জয়ী হয়েছে।
আজ আমারও কাজী নজরুলের মতো কণ্ঠ উচ্চকিত করে বলতে ইচ্ছে করছে,

” নারীর বিরহে,নারীর মিলনে নর পেল কবি-প্রাণ
যত কথা তার হইলো কবিতা,শব্দ হইলো গান।”

আমি সামাদ সাহেবের অদম্য ইচ্ছাকে সাল্যুটি করি আর তাঁর এই যে অর্জন তাতে লেখা থাকলো তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী’র অনুপ্রেরণা।এ কারণেই বুঝি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত স্ত্রীকে অর্ধাঙ্গী বলেছেন।

আমি আজ আরও একটি দৃষ্টান্ত দিবো,উদাহরণ নয়।গত ১৫.০৫.২০২৪খ্রি. তারিখের দৈনিক প্রথম আলোতে আরেকটি খবর প্রকাশিত হয় যা দেখে সত্যি আমি বিমোহিত হয়েছি এবং বারবার বলতে ইচ্ছা করছে,’ ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। আমরা এক নজরে আগে খবরটি পড়ে নিই:
“৮৩ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন মেরি ফাউলার নামের এক নারী। এর মধ্য দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বেশি বয়সে ডক্টরেট করার রেকর্ড করলেন তিনি।
এর আগে তিনি ম্যাপল স্প্রিং ব্যাপিস্ট বাইবেল কলেজ এবং সেমিনারি থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি ও দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বলেন, শুরুর দিকে তিনি মনে করেছিলেন, দীর্ঘ এই পথ তিনি পাড়ি দিতে পারবেন না।
ফাউলার ডব্লিউজেএলএ টিভিকে বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি, আমি একটা সেমিস্টারও শেষ করতে পারব। কারণ, সেই স্কুল শেষ করেছি ১৯৫৯ সালে। এটা জানতাম না, ডক্টরেট করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারব কি না।’
তিন বছর পড়াশোনার মধ্য দিয়ে ফাউলার তাঁর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, দেরি বলে কিছু নেই। আমি চাই, সবাই দেখুক আমি যদি ৮৩ বছর বয়সে পারি, তাহলে আপনি কেন পারবেন না?’

আমরা দু’টি ঘটনা থেকে এতটুকু বুঝলাম যে বয়স কখনো বাধা নয়,মানুষের বয়স কখনো কোনোকিছু অর্জনে বাধা হতে পারে না। শরীর হলো একটি ইঞ্জিন আর ইচ্ছা হলো সেই ইঞ্জিনের চালিকা শক্তি।আমাদের ইচ্ছা শক্তি থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবো। ফাউলার কী একটা কথা বললেন’ দেরি বলে কিছু নেই!’ একজন ৮৩ তে এসে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করলেন আরেকজন ৫৭ বছর বয়সে এসে এসএসসি পাশ করলেন।দুইজনের এই সফলতার ভেতর একটা জিনিস ই লক্ষণীয় তা হলো দু’জন ই ইচ্ছা শক্তিতে বলীয়ান। তবে এই দুই ঘটনাতে একটা ব্যাপার লক্ষণীয় তা হলো দু’টোতেই নারীর চরিত্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা আছে। এ কারণেই বুঝি কাজী নজরুল বললেন,
“এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল,ফলিয়াছে যত ফল
নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল”।

আসুন,আমরাও ইচ্ছা করি,আমরাও বয়সকে হারিয়ে বিজয়ীর হাসি হাসি। আমরা সমস্বরে গাই,’ আমরা করবো জয়,একদিন,,,,,,,,,!!
আজকের এ দুই ঘটনা হয়তো লালন শাহ পড়লে হয়তো লিখতেন না,’ সময় গেলে সাধন মিলে না’।
সত্যি, সাধনায় সব হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com