বাংলাদেশের চেয়ে তুরস্ক, মালয়েশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার লোকজন ভারতকে বেশি ঘৃণা করে। তুরস্কের ৭২ শতাংশ মানুষই ভারতবিরোধী। মালয়েশিয়ার শতকরা ৫৮ পার্সেন্ট এবং অস্ট্রেলিয়ার ৫৫ শতাংশ মানুষ ভারত বিরোধী। বাংলাদেশের মাত্র ৫১ পার্সেন্ট মানুষ ভারত বিরোধী।
মার্কিন গবেষণা সংস্থা ‘পিউ রিচার্সের’ গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৫১ শতাংশ মানুষ ভারতবিরোধী। এর বিপরীতে ৪২ শতাংশ মানুষ ভারতপন্থী। অর্থাৎ, বাংলাদেশের ৫১ শতাংশ মানুষ ভারতকে অপছন্দ করেন আর ৪২ শতাংশ মানুষ ভারতকে পছন্দ করেন।
ভারতের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশি হিসেবে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান এই ভারতবিরোধীতা দুই দেশের পারস্পারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কুটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মার্কিন গবেষণা সংস্থা Pew Research Center-এর ২০২৬ সালের Global Attitudes Survey এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিশ্বের ৩৬টি দেশের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই সমীক্ষা অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার ৭৯ শতাংশ মানুষ ভারতের পক্ষে অনুকূল মনোভাব পোষণ করেন। সেখানকার মাত্র ১১ শতাংশের মতামত ভারত বিরোধী।
বিশ্বের ৩৬টি দেশের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে বড় সমর্থক মিলেছে শ্রীলঙ্কায়। আর সবচেয়ে কম সমর্থক মিলেছে পাকিস্তানে। বাংলাদেশের ভারতের অবস্থা শ্রীলংকার ঠিক বিপরীত।
অন্যদিকে সবচেয়ে নেতিবাচক মনোভাব দেখা গিয়েছে পাকিস্তানে। সেখানে ৯১ শতাংশ মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন, আর মাত্র ৭ শতাংশ ভারতের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।
গবেষণা তথ্য বলছে, আমেরিকায় ৫০ শতাংশ মানুষ ভারতকে নেতিবাচক চোখে দেখে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। অস্ট্রেলিয়াতেও ৫৫ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক চোখে দেখে ভারতকে। মালয়েশিয়ায় ৫৮ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক চোখে দেখে ভারতকে। ব্রাজিলে ৪১ শতাংশ মানুষ ভারতকে নেতিবাচক চোখে দেখে এবং ৩৭ শতাংশ দেখে ইতিবাচক চোখে। মেক্সিকোতেও ভারতকে ৪৪ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক চোখে দেখে, ইতিবাচক চোখে দেখে মাত্র ৩০ শতাংশ; আর্জেন্টিনায় ভারতের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ৪১ শতাংশের, ইতিবাচর মাত্র ২৪ শতাংশের।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নানা টানেপোড়েনে বাংলাদেশে বর্তমানে ভারতের ভাবমূর্তি ইতিবাচকের তুলনায় নেতিবাচক সমালোচনার মুখে পড়েছে। গবেষণায় দেখে যাচ্ছে বাংলাদেশে এই ভারতবিরোধী মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অর্থাত নিকটতম প্রতিবেশি হিসেবে ভারতেকে পছন্দ করার চেয়ে অপছন্দ করার প্রবনতা ক্রমেই বাড়ছে। এটা বড় দেশ হিসেবে ভারতের জন্য খুবই অস্বস্তিকর একটি বিষয়।
‘পিউ’ গবেষণা তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের তুলনায় বাংলাদেশে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ১৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। দুই দেশের সীমান্ত হত্যা ইস্যু, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, কূটনৈতিক বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক সম্পর্কের অবনতিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ভারতের ভাবমূর্তি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে।
শ্রীলঙ্কায় ভারতের সমর্থন বাড়ছে যে কারণে
অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারত শ্রীলঙ্কাকে কয়েকশো কোটি ডলারের ঋণ, জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ দিয়ে সাহায্য করেছিল। সেই সহযোগিতার প্রভাব এখনও সাধারণ মানুষের মনোভাবেও প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। গত কয়েক বছরে দুই দেশের বাণিজ্য, পর্যটন ও কৌশলগত সম্পর্কও আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশে ভারতপন্থীদের সংখ্যা কমছে যে কারণে
সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশের ৪২ শতাংশ মানুষ ভারতের প্রতি ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন, কিন্তু ৫১ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ, বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের ভাবমূর্তি ইতিবাচকের তুলনায় বেশি সমালোচনার মুখে।
৩৬টি দেশের গড় হিসাবে ৪৫ শতাংশ মানুষ ভারতের প্রতি অনুকূল এবং ৪১ শতাংশ মানুষ অননুকূল মতামত দিয়েছেন। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে ভারতের ভাবমূর্তি এখনও ইতিবাচক দিকেই রয়েছে, তবে সব দেশে একই রকম নয়।
এই সমীক্ষা আরও একবার দেখিয়ে দিল, প্রতিবেশী দুই দেশ শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে ভারতের গ্রহণযোগ্যতার ব্যবধান এখন স্পষ্ট। একদিকে শ্রীলঙ্কায় ভারতের প্রতি বিপুল আস্থা, অন্যদিকে বাংলাদেশে সমর্থনের চেয়ে সমালোচনাই বেশি। এটা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে এখন নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই গবেষণা তথ্য দক্ষিণ এশিয়ার ভু-রাজনীতির জটিল মার-প্যাচেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
……………………………………………
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
১৪ আগস্ট ২০২৬
……………………………………………..
Leave a Reply