মির্জা ফখরুলই প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন যে কারণে

Reporter Name
    সময় : বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
  • ১১০ Time View
এফ শাহজাহান :
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিদায়ের পর ভারত কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। হাসিনাকে পুশব্যাক করে বাংলাদেশে পুনর্বাসনের জন্য প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পুই ছিলেন তাদের একমাত্র ভরসা। সে অনুযায়ী নীল নকশাও প্রস্তুত হচ্ছিল। ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরাও নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ চুপ্পুর বিদায় সেই নীল নকশা নতুন করে আপডেট করতে হচ্ছে ভারতকে।
সাহাবুদ্দিন চ্যাপ্টার ক্লোজড হওয়ায় ভারত মনেপ্রাণে চাচ্ছিল সাহাবুদ্দিনের বিকল্প হিসেবে কাউকে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসানো। অর্থাৎ ভারত তাদের বিশ্বস্ত এবং পরীক্ষিত বন্ধু খঁজছিল। সেক্ষেত্রে ভারতের প্রথম চয়েস মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শেষ পর্যন্ত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। এজন্য তাঁকে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ভারতের এক নম্বর পছন্দ মির্জা ফখরুল বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের বেশ পছন্দের নেতা হিসেবে অসাধারণ পারফর্ম করেছেন।
জুলাই বিপ্লব নিয়েও তাঁর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের সঙ্গে মিলে যায়। জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের উত্থানে ভারত যেরকম উদ্বিগ্ন, মির্জা ফখরুলও ঠিক তেমনিই উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা বলেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে যখন মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি, জামায়াতকে আর আমরা মাথায় উঠতে দেব না; তখন ভারত মির্জা ফখরুলকে আর অবিশ্বাস করতে পারে না।
ভারতের সবচেয়ে বড় দুষমন জামায়াতেকে নির্মুল করার ফিলোসফিতেও মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ঘনিষ্ট মিল রয়েছে ভারতের। মির্জা ফখরুল যখন বেশ সাহসের সঙ্গে বলেন , বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে জামায়াতকে নির্মুল করতে হবে-তখন ভারত তাকে বিশ্বস্ত না ভেবে পারে না।
আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থী তথা বাংলাদেশপন্থীদের উত্থান নিয়েও ভারতের সঙ্গে তাঁর মূল্যায়নের পুরাপুরি মিল রয়েছে।
জুলাই সনদ নিয়েও মির্জা ফখরুলের ভূমিকায় খুশি হয়েছে ভারত। জুলাই সনদে সই না করা অংশের দায় নেব না বলেও এর আগে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। ২০২৫ সালের ১নভেম্বর শনিবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন । নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও করেছে। এখন শুধু নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা বাঁকী।
গত মঙ্গলবার সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। তবে এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি।
সিইসি আরও জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা পাওয়ার পর তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।আপনাকে আশ্বাস দিচ্ছি, জামায়াতকে আর আমরা মাথায় উঠতে দেব না।
এছাড়াও দলীয় নানা দৃষ্টিকোণ থেকেই বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেশ জোরালোভাবেই আছেন।
বর্তমানে রাষ্ট্রপতির শূন্য আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সম্ভাবনা বেশ উচ্চ বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরো যে সব কারণে মির্জা ফখরুলই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন,তাহলো-
প্রথমত : দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অবস্থান
বর্তমানে বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। ফলে বিএনপি যাকে রাষ্ট্রপতির জন্য মনোনয়ন দেবে, তিনিই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
দ্বিতীয়ত : দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা
বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির সংকটময় মুহূর্তে দলের মহাসচিব হিসেবে তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার একটি পরিচ্ছন্ন, অভিজ্ঞ ও সর্বজনগ্রাহ্য ভাবমূর্তি রয়েছে, যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক বা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য অত্যন্ত মানানসই।
তৃতীয়ত : রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনায় ভূমিকা
বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে রাষ্ট্রের অলঙ্কারিক ও অভিভাবকত্বমূলক এ শীর্ষ পদে বসানোর বিষয়ে দলের ভেতর বড় ধরনের সমর্থন রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল নিজেই জানিয়েছেন যে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী আগস্টেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। তাই প্রার্থীর চূড়ান্ত নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত বলা না গেলেও, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতির তালিকায় থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরালো।
………………………………………….
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
২৯ জুলাই ২০২৬
……………………………………………

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com