পলাতক হাসিনার প্রাণভোমরা ছিল প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর হাতে। তিনিই হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো এবং পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করছিলেন। ধরা পড়ে তাঁকে বিদায় নিতে হয়েছে। তার মানে এখানেই হাসিনাকে ফেরানো এবং পুনর্বাসনের নীল-নকশা বানচাল হয়ে গেছে তা নয়। এখন আবার নতুন ছকে হাসিনাকে ফেরানোর পরিকল্পনা চলছে।
সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিদায়ের পর হাসিনা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন কি পারবেন না, তা এখন নির্ভর করছে নতুন রাষ্ট্রপতির ওপর। সাহাবুদ্দিন চুপ্পু যে নীল নকশায় এগুচ্ছিলেন,নতুন প্রেসিডেন্টকে সেই পথে নিতে পারলেই হাসিনাকে ফেরানোর নীল নকশা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। আর সেজন্যই এখন ভারতের মদদপুষ্ট আওয়ামী বান্ধব কাউকে নতুন রাষ্ট্রপতি বানানোর তোড়জোড় চলছে।
‘আওয়ামী লীগের ভারতীয় শাখা’ এবং ‘ভারতীয় গোয়েন্দাদের বাংলাদেশ শাখা’ এখন নিজেদের পছন্দের লোককে রাষ্ট্রপতি বানানোর মিশন সফল হতে জোর প্রষ্টো চালাচ্ছে। এটাতে সফল হলেই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর শুন্যতা পূরণ করা সম্ভব। আর সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিকল্প কাউকে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসাতে পারলেই হাসিনাকে নিরাপদে ফেরানো এবং পুনর্বাসনের মিশন সফল হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি হিওসেবে বিএনপির প্রথম সারির অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির নাম জোরালভাবে প্রচার হচ্ছে।
এদের মধ্যে ঘোর ভারতপন্থী এবং প্রবল আওয়ামী বান্ধবরাও আছেন সামনের সারিতে। এদের মধ্যে থেকে যে কাউকে প্রেসিডেন্ট বানাতে পারলেই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অসমাপ্ত মিশন সফল করার ছক আঁটছেন কূশীলবরা।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলছেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনেকগুলো সমীকরণ মাথায় রেখেই তিনি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন।
সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সরকারি চাকরিজীবী কাউকে রাষ্ট্রপতি করার পক্ষে নন তারা। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
ক্ষমতাসীন বিএনপি যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন না করে এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে না পারে তাহলে তাদের নিজের দোষে নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো পরিনতি ভোগ করতে হবে।
আবেগর বশে ভারতীয় প্ররোচণায় প্রলুব্ধ হয়ে রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপির একটা ভুল সিদ্ধান্ত গোটা জাতির জন্য চরম সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। এজন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপিকে চরম অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণদের খুঁজে বের করতে হবে।
বাংলাদেশপন্থী দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি যদি শুধু সরকাারি গোয়েন্দো তথ্যের ওপর নির্ভর করে তাহলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। এক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গেও বিএনপির বসা উচিত। না হলে ওঁৎপেতে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিএনপিকে পথভ্রষ্ট করতে পারে।
…………………………………………………….
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যনালাইসিস
২৫ জুলাই ২০২৬
…………………………………………………….
Leave a Reply