বগুড়ার শিবগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাঙচুর, মারপিট ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এব্যাপারে শুক্রবার রাতে আজবর আলী মন্ডল নামের এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে গত সোমবার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের মেঘাখর্দ্দ গ্রামে এঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মেঘাখর্দ্দ গ্রামের বাসিন্দা আজবর আলী মন্ডলের ছেলে শাকিরুল ইসলাম সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। কিন্তু তার সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটে হেরে যান। এতে বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থক একই গ্রামের বোরহান উদ্দিন তাঁর লোকজন নিয়ে শাকিরুলের লোকজনদের নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলো। একপর্যায়ে সোমবার রাত আটটার দিকে শাকিরুল ইসলামের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় বোরহান উদ্দিন ও তার লোকজন। একই সাথে দোকানঘর ও বাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এসময় আজবর আলী মন্ডল, তাঁর ছেলে শাকিরুল ইসলাম,ভাইয়ের স্ত্রী জোসনা বেগম,নাতি তাহসিন ও ভাগিনা মিন্টুকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে তারা। আহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন স্থানীয়রা। পরে অবস্থার অবনতি হলে জোসনা বেগম ও তাহসিনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আজবর আলী মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, নিজেদের হাতে থাকা অস্ত্রের আঘাতে বোরহান উদ্দিনের চাচা সালাউদ্দিন আহমেদ ভুতুল আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান। যার দোষ আমার দুই ছেলে শাকিরুল ও শাফিরুলসহ নিরীহ মানুষদের ওপর চাপানো হচ্ছে। এমনকি ঘটনার সময় যারা উপস্থিত ছিলোনা তাঁদেরকে মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। তাদের ফসল নষ্ট করা হচ্ছে। বর্তমানে আমরা কয়েকদিন যাবৎ তাঁদের হুমকি ধামকীতে ঘরছাড়া। আমার মেয়ের বাড়িঘরে লুটপাট করেছে। ভাতিজা নান্নু মিয়ার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলেছে। আমার মামা নাজিমুদ্দিনের বাড়ি ঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে তাঁরা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বোরহান উদ্দিন বলেন, তাঁরা আমার চাচাকে হত্যা করেছে। আমার আর এক চাচাও তাদের কারনে মারা গেছে। আমরা সবাই শোকার্ত। আমরা কোন অন্যায় করিনি।
শিবগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রউফ জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply