শিবগঞ্জে প্রতারক চক্রের হাতে সরকারি ভাতাভোগীদের টাকা!

খালিদ হাসান, শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:
    সময় : শনিবার, জুলাই ২৭, ২০২৪, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
  • ৩৪৫ Time View
বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সরকারি ভাতার টাকা হারাচ্ছেন অনেক সুবিধাভোগী। প্রতারক চক্র নানা কৌশলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় জিডি ও সমাজসেবা কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগও করছেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশ বলছে, অভিযোগের পর উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকজনের টাকা। তবে, এসবের জন্য ভাতাভোগীদের অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন সমাজসেবা কর্মকর্তা।
শিবগঞ্জ সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে এই উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় ১৩ হাজার ৩৫৩ জন বয়স্ক,  ৫ হাজার ৭২৩ জন বিধবা ও ৬ হাজার ১৭৭ জন ব্যক্তির নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে। কার্ডধারী প্রত্যেক বিধবা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা, বয়স্ক ৬০০ টাকা ও প্রতিবন্ধী ৮৫০ টাকা ভাতা পান। সেই হিসাবে ৩ মাস পরপর এক বছরে চার কিস্তিতে তাঁদের টাকা দেওয়া হয়। এসব কার্ডধারীদের মুঠোফোনে নগদ হিসাব নম্বরে ভাতার টাকা পাঠানো হয়।
ভাতাভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাকা তোলার সময় মুঠোফোন হিসাব নম্বরের গোপন পিনকোড এজেন্টদের কাছে বলে দেন তাঁরা। এজেন্টরা গোপন পিনকোড প্রতারক চক্রকে জানিয়ে দেয়। এভাবে প্রতারক চক্র টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেককে বিভিন্ন কৌশলে এসএমএস করে গোপন কোড জেনে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্র।
উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের দহপাড়া (আকন্দ পাড়া) গ্রামের রোকেয়া বেগম প্রতিবন্ধী ভাতা পান। তিনি বলেন, ‘আমার মুঠোফোনে এক ব্যক্তি সমাজসেবা অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে কল করে বলে আপনার নতুন ভাতা বই তৈরি হচ্ছে। আমরা বই নাম্বারটা আপনাকে এসএমএস করে পাঠাচ্ছি। আপনি ঐ নাম্বার আমাদের বলেন। এই কথা বলেই আমার মুঠোফোনে ছয় সংখ্যার একটি মেসেজ (খুদে বার্তা) পাঠানো হয। সেই সংখ্যা বলার পর মুঠোফোন থেকে টাকা নাই হয়ে গেছে। পরে এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। কিন্তু আজও টাকা ফেরৎ পাইনি।
কিচক ইউনিয়নের চল্লিশছত্র ঘুঘারপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী রেহেনা বেগম(৩৮) জানান, আমার নগদ একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিয়েছে। কিভাবে টাকা কাটলো কিছুই বুঝতে পারছিনা। আমার ধারনা সমাজসেবা অফিসের কিছু অসাদু কর্মকর্তা প্রতারক চক্রের সাথে জড়িত। তা না হলে, ভাতাভোগীদের তালিকা ও মোবাইল নম্বর হ্যাকাররা কোথা থেকে সংগ্রহ করলো!
একই ইউনিয়নের মাটিয়ান উত্তরপাড়া গ্রামের বয়স্ক ভাতাভোগী ইউসুফ আলী (৭০)বলেন, আমি মোবাইলের তেমন কিছুই বুঝিনা। এজেন্টকে পিন নাম্বার বলি, এজেন্টই টাকা তুলে আমার হাতে দেয়। এবার আমি ভাতার টাকা পাইনি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি আমার টাকা হ্যাক করে তুলে নেয়া হয়েছে।
মোকামতলা ইউনিয়নের ভাগকোলা গ্রামের আসমা বেগম, চকপাড়া গ্রামের বাসু মিয়া, কাশিপুর গ্রামের জিল্লু মিয়া, কিচক ইউনিয়নের চল্লিশছত্র ঘুঘারপাড়া গ্রামের রেহেনা বেগম, মাটিয়ান পুকুর পাড়া গ্রামের মিজু আহমেদসহ উপজেলার অনেক ভাতাভোগীর টাকা এভাবেই প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে।
এ সম্পর্কে শিবগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রউফ বলেন, আমরা মাঝে মাঝেই ভাতাভোগীদের টাকা হ্যাক হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাচ্ছি। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কৌশলে কয়েকজনের কিছু টাকা উদ্ধারও করা হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ শুধু শিবগঞ্জেই নয়, সারা দেশে একই অবস্থা। ভাতাভোগীরা অসেচতন হওয়ায় এমনটি বারবার হচ্ছে। তাছাড়া অনেক ভাতাভোগী মোবাইল ফোনের ব্যবহার জানেন না। আমরা বারবার তাদের সতর্ক করেছি কিন্তু কোন ফল হচ্ছে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com