১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি জনমত জরিপে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ক্রমেই কমে যাচ্ছিল এবং শেষের দিকে এসে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বিএনপিকে অতিক্রম করে যাচ্ছিল।
ভোটের সর্বশেষ জরীপে উঠে এসেছে জামায়াতের জয়লাভের পূর্বাভাস। সবকিছু মিলে এবারের নির্বাচনে জামায়াতের বিজয়ের বার্তা জোরালো হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে মোটা দাগে যে সব কারণে জামাাত জিতবে বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলো নিচে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হলো-
প্রথমত : জনআকাঙ্খা ধারণ
জুলাই বিপ্লবের গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক ধারা বিএনপির পুনরাগমনের সুযোগ সৃষ্টি করলেও তারা জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করতে পারেনি। পক্ষান্তরে যে জনআকাঙ্খা থেকে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, সেই জনআকাঙ্খা জোরালো ভাবে ধারণ করতে পেরেছে জামায়াতে ইসলামী।
এর ফলে রাজনৈতিক ভারসাম্যও বদলে গেছে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বৈরথে রাজনীতির মূল কেন্দ্র জামায়াত প্রার্থীদের জন্য সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ ভোটারদের মনে একধরনের “নতুন রাজনৈতিক সুযোগ” বা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, যা জামায়াতের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে। গণমানুষের এই প্রবণতার কারনেই এবারের নির্বাচনে জামায়াত জিতবে।
দ্বিতীয়ত : বদলে যাওয়া ভোটারদের মনোভাব
দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা নাগরিক জীবনের অস্থিরতা, অর্থনৈতিক উদ্বেগ, তরুণদের কর্মসংস্থান সমস্যা, এসব ইস্যু ভোটারদের মনোভাবকে এবার তুমুলভাবে প্রভাবিত করছে। নির্বাচনের সময় ভোটাররা সাধারণত এমন কোনো দলকে সমর্থন করে, যারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা দিতে পারে। যেটার জন্য মানুষ এবার জামায়াতকেই একমাত্র ভরসা হিসেবে বেছে নিচ্ছে।
তৃতীয়ত : তারুণ্যের বাঁক বদল
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, এবারের নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি প্রজন্মগত সিদ্ধান্তের মুহূর্ত। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে যে বিষয়টি, তা হলো তরুণ ভোটারদের আচরণ ও ঝোঁক। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, একটি উল্লেখযোগ্য অংশের তরুণ ভোটার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। দেশের তরুণ ভোটাররা এবার ব্যাপকহারে জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়ায় ভোটের মাঠে জামায়াতের জনপ্রিয়তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ।
তরুণ ভোটারদেরকেই এবারের নির্বাচনী জয়-পরাজয় নির্ধারণকারী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের পর তরুণরাই বাংলাদেশের রাজনীতির মূল নির্ধারক শক্তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেই তরুনরা প্রথাগত দলগুলোর প্রতি আস্থা হারিয়েছে। তারা এবার মনে-প্রাণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চায়। এজন্য তারা জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে ঝুঁকে পড়েছে। তারুণ্যের প্রথম ভোট এবার জামায়াতের পক্ষেই যাবে বলে ভোটের মাঠে একটা ঢেউ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তরুণ ভোটাররা শুধু বড় ভোটব্যাংকই নয়, তারা কার্যত “কিংমেকার”। যে কোনো দল যদি এই অংশের সমর্থন পায়, আসনভিত্তিক ফলাফলে তারা বড় সুবিধা অর্জন করতে পারে। আর সেকারণেই এবার নির্বাচনে জামায়াত জিতবে।
তৃতীয়ত : খালেদা জিয়ার শুণ্যতা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া শুধু একজন নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন বিএনপির আবেগের কেন্দ্র। পুরনো সমর্থকদের কাছে বিশ্বাস ও স্মৃতির প্রতীক। গ্রামাঞ্চলে “ম্যাডাম” নামেই পরিচিত একটি রাজনৈতিক আইকন। অনেক ভোটার বিএনপিকে নয়, খালেদা জিয়াকেই ভোট দিতেন। এটাই রাজনৈতিক বাস্তবতা। তাঁর মৃত্যু সেই আবেগী বন্ধনটি হঠাৎ করেই ছিন্ন করে দিয়েছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর মাঠপর্যায়ে একটি বাক্য বারবার শোনা যাচ্ছে। ‘এইটা আর আগের বিএনপি না’। এই মনোভাব বিশেষভাবে দেখা যাচ্ছে ৪৫-থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরনো ভোটারদের মধ্যে।
গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় যারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগবিরোধী কিন্তু নেতৃত্বনির্ভর ভোটার ছিলেন,এই ভোটাররা এখন তিন ভাগে বিভক্ত। এদের মধ্যে কেউ ভোটেই যেতে চান না,আবার কেউ অনিশ্চিত অবস্থায় আছে।এরফলে এই ভোটরাররা কেউ জামায়াতকে ‘নৈতিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বিকল্প’ হিসেবে দেখছেন। এই তৃতীয় অংশটাই জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর এ কারণেও এবার জামায়াত জিতবে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জামায়াত খুব সচেতনভাবে প্রকাশ্য কোনো উল্লাস বা রাজনৈতিক সুযোগ নেওয়ার ভঙ্গি দেখায়নি। বরং “শান্ত, শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্বশীল” রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করেছে। বিএনপির প্রতি সরাসরি আক্রমণ না করে বলেছে,“দেশের ভবিষ্যৎ এখন নতুন নেতৃত্বের হাতে দেওয়া দরকার”।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির আবেগী ভোটব্যাংকে ফাটল ধরিয়েছে। যেহেতু আগের বিএনপি আর নেই,সেহেতু জামায়াতকে একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে তাদের সামনে হাজির করেছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী আবেগী মুহূর্ত। এই মুহূর্তে যারা সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারছেন,তারাই লাভবান হচ্ছেন। জামায়াত সেই শূন্যতাকে আদর্শ দিয়ে, শৃঙ্খলা, নীরবতা ও বিকল্প রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজে লাগাতে পেরেছে।
এই নির্বাচনে জামায়াত জিতে গেলে ইতিহাস হয়তো বলবে,“এটা শুধু একটি দলের জয়ের গল্প নয়,এটা ছিল একটি রাজনৈতিক আবেগের অবসানের ফল।”
চতুর্থত: ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন
বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে অনেকেই এখন জামায়াতের দিকে ঘুরছে কারণ, তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চায় না। আবার তারা বর্তমান বিএনপিতে আগের সেই আবেগও খুঁজে পাচ্ছেন না। একারণে তারা এমন একটা শক্তি চাচ্ছেন, যাদের “ভেতরের শৃঙ্খলা আছে”। জামায়াতের সাংগঠনিক শৃংখলা তাদেরকে আকৃষ্ট করছে। ভোটারদের এই এই মনস্তাত্ত্বিক স্থানান্তরই জামায়াতের ভোট বাড়াচ্ছে।
পঞ্চমত : বিএনপির দাগ, দাগী বিএনপি
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় বাংলাদেশ কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। এই বিষয়টি শুধু পরিসংখ্যান নয়। এটি বিএনপির ওপর একটি স্থায়ী রাজনৈতিক দাগ হয়ে গেছে। অনেক ভোটারের মনে এখনো এই বাক্যটি গেঁথে আছে,“বিএনপি মানেই দুর্নীতি”।
বিএনপি শাসনামলের এই স্মৃতি বিশেষভাবে প্রভাব ফেলছে শহুরে মধ্যবিত্ত ভোটার, শিক্ষিত তরুণ,সরকারি চাকরি ও সেবা নির্ভর পরিবারগুলোর ওপর। তারা এবার মনেপ্রাণে চাচ্ছে,বিএনপি নয়,অন্য কেউ ক্ষমতায় আসুক। এই ‘অন্যকেউ’ এর জায়গা দখল করে নিয়েছে জামায়াত। একারনেও এবার নির্বাচনে জামায়াত জিতবে।
অতীতের দুর্নীতির দায় থেকে বিএনপি এখনো বিশ্বাসযোগ্যভাবে মুক্ত হতে পারেনি। যতক্ষণ না তারা স্পষ্ট আত্মসমালোচনা করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত কাঠামোগত প্রতিশ্রুতি দেয়, নতুন নেতৃত্ব সামনে আনে, ততক্ষণ এই অতীত তাদের পিছু ছাড়বে না।
রাজনীতিতে অতীত সব সময় অতীত থাকে না। বিশেষ করে যখন বিএনপি স্পষ্টভাবে সেই সময়ের ব্যর্থতার দায় স্বীকার বা আত্মসমালোচনা করেনি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন কোনো বিশ্বাসযোগ্য কাঠামো উপস্থাপন করতে পারেনি,সেহেতু ভোটারের মনে প্রশ্ন থেকেই গেছে-“ওরা আবার ক্ষমতায় এলে কি একই জিনিস হবে ?” এই অনিশ্চয়তাই এবারের নির্বাচনে বিএনপির জন্য বড় দুর্বলতা। আর সেই দুর্বলতার সুযোগেই জামায়াতকে বিজয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে।
ষষ্ঠত : নারী জাগরণ, সাইলেন্ট অ্যাডভান্টেজ
ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতকে দেখা হতো পুরুষপ্রধান, রক্ষণশীল এবং নারীদের রাজনীতিতে সীমিত ভূমিকার পক্ষপাতী দল হিসেবে। কিন্তু এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে, ব্যাপকহারে নারী কর্মীদের সংগঠিত উপস্থিতি। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নারী-কেন্দ্রিক সভা, সমাবেশ মিছিল। এমন কী দোয়া মাহফিল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতের পক্ষে নারীদের সরব উপস্থিতি। জামায়াতের পক্ষে এই নারী জাগরণ নির্বাচনে তাদের বিজয়ের জন্য সাইলেন্ট অ্যাডভান্টেজ হিসেবে কাজ করছে।
নারী ভোটারদের জামায়াতমুখী হওয়ার পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ কাজ করছে। নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার আকাঙ্ক্ষা নারীদের জামায়াতমূখী হতে বাধ্য করেছে। অনেক নারী ভোটার রাজনীতিকে দেখছেন সহিংসতা,নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক অস্থিরতার উৎস হিসেবে। অন্যদিকে জামায়াতের প্রচারণার মূল শব্দগুলো হলো-শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, শান্ত সমাজ, পরিবারকেন্দ্রিক রাষ্ট্র।
জামায়াতের এই বয়ান নারীদের নিরাপত্তা-চিন্তাকে স্পর্শ করছে। পর্দানশীল কিন্তু সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নারী ভোটারদের কাছে একটি মনস্তাত্ত্বিক বার্তা দিচ্ছে যে, আমাদের এখানে জায়গা আছে এবং যথেষ্ঠ সম্মান আছে। এই দৃশ্যমানতা নিজেই একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
নারীদের বড় একটি অংশ মনে করে,আওয়ামী লীগ নারী ক্ষমতায়নের গল্প বললেও বাস্তবে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারে ঘাটতি রেখেছে। বিএনপি অতীতে ক্ষমতায় গিয়ে দুর্নীতি ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। এই অবস্থায় নারীদের বিকল্প হিসেবে জামায়াতকে বেছে নিতে বাধ্য করছে।
গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় নারীদের মধ্যে ধর্মীয় অনুশীলনের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা তাদের সন্তানদের “নৈতিক ভবিষ্যৎ” নিয়ে উদ্বিগ্ন। পশ্চিমা সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। জামায়াত এই জায়গায় নিজেদেরকে সফলভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছে। জামায়াতের পরিবার রক্ষাকারী রাজনীতির বয়ান নারীদের আবেগী সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
সপ্তমত : বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচনী ফলাফল
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ধারাবাহিক সাফল্য নিসন্দেহে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের জেতার সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করার একটি কাঠামোগত ইঙ্গিত হিসেবে কাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক ছাত্রসংসদ বা প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্য কেবল ক্যাম্পাস রাজনীতির ঘটনা নয়। এটি জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি ‘আর্লি সিগন্যাল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কারণ,পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ট্রেন্ড সেটার। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, এমনকি ২০১৮ ও ২০২৪ পরবর্তী তরুণ রাজনৈতিক জাগরণ, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব, সব ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় ছিল পরীক্ষাগার। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক: যেভাবে ক্যাম্পাসে শিবির জেতে, সেভাবে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত তারই প্রতিফলন পাবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ছাত্রসংসদে শিবিরের জয় জামায়াতের জন্য ‘মোমেন্টাম বিল্ডার’ হিসেবে কাজ করছে।
রাজনীতিতে অনেক সময় ‘পারসেপশন বিকামস রিয়ালিটি। মিডিয়ায় যখন বারবার শিরোনাম হয়,পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের জয়”-“তরুণদের মধ্যে জামায়াতের উত্থান”,তখন সাধারণ ভোটারের মনে এক ধরণের নিশ্চয়তা তৈরি হয়। তারা অবচেতন মনে ভাবতে থাকেন- জামায়াতই এবার ক্ষমতায় আসবে।
এই মনস্তাত্ত্বিক ‘ব্যান্ডওয়াগন ইফেক্ট’ বাংলাদেশের নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ অনেক সময় যারা জয়ী হতে যাচ্ছে মনে করে এমন শক্তির পক্ষের দিকেই ঝুঁকে পড়ে। জামায়াতকে নিয়েও ভোটারদের ‘ব্যান্ডওয়াগন ইফেক্ট’দারুনভাবে কাজ করছে।
ক্যাম্পাসগুলোতে ইসলামী ছাত্রুশিবিরের বিজয় জাতীয় নির্বাচনের ভোটের মাঠে জামায়াতের পক্ষে একটি শক্তিশালী সহায়ক উপাদান হিসেবে কাজ করছে।
যদি এই ক্যাম্পাস-ভিত্তিক সমর্থন গ্রাম ও নগরের সাধারণ ভোটারের আস্থায় রূপান্তরিত করা যায়, তাহলে ছাত্রসংসদের জয় নি:সন্দেহে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলেও ছায়া ফেলবে।
অষ্টমত : বৈচিত্রময় বহুত্ববাদ
জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব বোঝা ছাড়া এবারের নির্বাচন বোঝা আসলেই অসম্ভব।বহু-ধর্ম–বর্ণের সম্মিলিত অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির আকাঙ্ক্ষাকে জামায়াত যেভাবে ধারণ করার চেষ্টা করছে, সেটি এবারের নির্বাচনে তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক কারণ হয়ে উঠতে পারে।
জুলাই বিপ্লব শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি ছিল রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক ধরনের গণবিদ্রোহ। মানুষ যে জিনিসগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে, সেগুলো হলো-একক দলীয় আধিপত্য,মতভিন্নতার প্রতি অসহিষ্ণুতা,রাজনৈতিক প্রতিশোধ, রাষ্ট্র বনাম নাগরিকের বৈরিতা।
এর বিপরীতে যে আকাঙ্ক্ষাগুলো সামনে এসেছে বহু-ধর্ম, বহু-জাতিসত্তার সহাবস্থান। ভিন্নমতকে রাজনৈতিক পরিসরে জায়গা দেওয়া। অংশগ্রহণমূলক ও নৈতিক রাজনীতি। ‘আমরা বনাম তারা’ নয়,‘আমরা সবাই’ ধরনের রাষ্ট্রভাবনা।এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনই এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় আন্ডারকারেন্ট।
ঐতিহাসিকভাবে এতোদিন জামায়াতকে অনেকেই দেখেছেন ধর্মভিত্তিক, সংকীর্ণ ও একরৈখিক দল হিসেবে। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর জামায়াত সচেতনভাবেই একটি রিব্রান্ডিং স্ট্রাটেজি নিয়েছে। তা হলো-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রকাশ্য সংলাপ। পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ। নারী ও তরুণদের দৃশ্যমান উপস্থিতি। ‘শুধু ধর্ম নয়, নৈতিকতা’এই ভাষ্যকে সামনে আনা।এতে করে জামায়াত নিজেকে উপস্থাপন করছে একটি “মাল্টি-স্টেকহোল্ডার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে।
সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় অংশ এখন আর শুধু “কে আমাদের রক্ষা করবে” এই প্রশ্নে আটকে নেই। তারা চাইছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ, সম্মানজনক প্রতিনিধিত্ব এবং প্রতিশোধমূলক রাজনীতির অবসান। জামায়াতের বর্তমান বয়ানে
প্রতিহিংসা নয়, সম্মিলিত পুনর্গঠন এবং ভুলের বিচার হবে, কিন্তু সমষ্টিগত শাস্তি নয়-এই নীতি অবলম্বন করেছে। জামায়াতের এই বক্তব্য সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের একাংশের কাছে মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তি তৈরি করছে। যা ভোটে জামায়াতের পক্ষে অবশ্যই প্রভাব ফেলবে।
জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী বাংলাদেশে যে বহু-ধর্ম–বর্ণের অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, জামায়াত সেটিকে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে রাজনৈতিক বয়ানে রূপ দিতে পেরেছে। এই কারণে তরুণ ভোটার,নৈতিক রাজনীতির অনুসারী নাগরিক, প্রতিশোধহীন রাষ্ট্রচিন্তার সমর্থক এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে। এটি এবারের নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য জয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর।
নবমত : দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
জামায়াতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে প্রচারণা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। এর প্রভাব সরাসরি জয় নিশ্চিত নাও করতে পারে, তবে ভোটার মনস্তত্ত্ব, পারিপার্শ্বিক ধারণা ও নির্বাচনী প্রবণতায় তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
জামায়াতের বর্তমান নির্বাচনী প্রচারণার মূল বয়ান হলো-দুর্নীতি শূন্য প্রশাসন গঠন। সাজাপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজদের কঠোর বিচার। শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এই নীতি তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনটি কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে। সেগুলো হলো-
১.অতীতের শ্লথতা ও দুর্নীতিমূলক চিত্র থেকে বিচ্ছিন্নতা।
২.ভোটারের মধ্যে নৈতিক ও আবেগগত বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা।
৩.সামাজিক মিডিয়া ও গণমাধ্যমে ইতিবাচক ইমেজ গঠন
জামায়াত দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল না। তাই তারা “দুর্নীতিমুক্ত বিকল্প” হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারছে। তরুণ ও শিক্ষিত ভোটাররা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বেশি সংবেদনশীল। তাই তারা জামায়াতের এই নীতিকে লুফে নিয়েছে।
ছোট ছোট প্রচার, পোস্টার, ভিডিও ও ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে “শৃঙ্খলাবদ্ধ, জবাবদিহিমূলক” দল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। বিএনপি–র শাসনামলে দুর্নীতির আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলি এখনও ভোটারের মনে শক্তভাবে প্রভাব ফেলেছে। তাই ভোটাররা দ্বিধাগ্রস্ত: “বিএনপি ফিরে এলে কি একই অবস্থা হবে?”
তরুণরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং সরাসরি বা পরোক্ষভাবে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। জামায়াতের জিরো টলারেন্স নীতি তাদের কাছে আকর্ষণীয়, বিশেষ করে যেখানে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা মূল চাহিদা। জামায়াতের দুর্নীতিবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি জাতীয় নির্বাচনে তাদের জন্য একটি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক ও প্রচারণাগত সুবিধা হিসেবে কাজ করছে। এটি পুরনো দলের দুর্নীতির স্মৃতি থেকে ভোটারকে আকর্ষিত করছে। তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে। নির্ধারিত আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধানকে প্রভাবিত করতে পারে।
দশমত: চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ
বাংলাদেশে ব্যবসায়ী ভোটাররা নির্বাচনে প্রভাবশালী, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা ক্ষেত্রে। জামায়াত যদি “চাঁদাবাজি বন্ধ” করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের কাছে যায়, এটি নির্বাচনে তাদের জন্য একটি শক্তিশালী ভোট প্রভাব ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশে ব্যবসায়ী ভোটাররা ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে আসে, যারা দৈনন্দিন জীবনে কর্পোরেট-ও রাষ্ট্রীয় চাঁদাবাজির সম্মুখীন হয়। শহর ও শহরতলিতে ভোটের বড় অংশ গঠন করে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি বেশি সংবেদনশীল এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে চায়। অতএব, এই ভোটারদের সমর্থন কোনো দলের জন্য বিজয়ের নির্ধারক ফ্যাক্টর হতে পারে।
অতীত শাসনামলে ব্যবসায়ীদের অনেক অভিযোগ ছিল—চাঁদাবাজি, বাণিজ্যিক হস্তক্ষেপ, করের অতিরিক্ত চাপ। ফলে ভোটাররা দ্বিধাগ্রস্ত: “বিএনপি ফিরে এলে কি আবার একই অবস্থা হবে?
জামায়াতের চাঁদাবাজি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি ব্যবসায়ী ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নৈতিক রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে তাদেরকে আকৃষ্ট করছে। নির্বাচনী ফলাফলে এটি আংশিক সুবিধা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শহরের ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী কেন্দ্রগুলিতে।
একাদশতম : পলিসি সামিট
জামায়াতের পলিসি সামিট এর প্রভাবকে শুধু একটি অনুষ্ঠানের ফল হিসেবে দেখা যাবে না। এটি জাতীয় রাজনীতিতে একটি কাঠামোগত ও মনস্তাত্ত্বিক ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে।জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে একধরনের ধর্মভিত্তিক, একরৈখিক ও ঐতিহ্যগত দল হিসেবে পরিচিত ছিল।
পলিসি সামিটের মাধ্যমে তারা নিজেকে উপস্থাপন করেছে নৈতিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কার্যকর রাজনৈতিক দল হিসেবে। সুশাসন ও দুর্নীতি-নিরোধকে কেন্দ্রীয় নীতি অংশগ্রহণমূলক ও বহুত্ববাদী রাজনীতির সমর্থন সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে।
জামায়াতের এই এই নতুন ইমেজ–রূপান্তর মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে যারা বিএনপি বা আওয়ামী লীগ–এর অতীত দুর্নীতি এবং অস্থিতিশীলতা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।
সামিটে আলোচিত নীতি ও কৌশলগুলো তরুণদের কাছে ভবিষ্যৎমুখী ও অংশগ্রহণমূলক বার্তা পাঠাচ্ছে।তারা দেখতে পাচ্ছে জামায়াত শুধুমাত্র ধর্মীয় দল নয়, বরং নীতি-কেন্দ্রিক দল। নারী অংশগ্রহণ, সামাজিক ন্যায় ও নিরাপত্তা বিষয়ে প্রদত্ত বার্তা নারীদের মনে নিরাপদ রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে জামায়াতকে স্থাপন করছে।চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির শূন্য নীতি এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনীতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অনুভূতি বাড়াচ্ছে।
পলিসি সামিট জামায়াতকে দিয়েছে সংগঠিত নীতি–ফ্রেমওয়ার্ক এবং একক প্রচারণার চেয়ে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক বার্তা প্রদান। মিডিয়া ও জনমত নিয়ন্ত্রণের সুযোগও দিয়েছে। সংবাদপত্র, অনলাইন, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ইতিবাচক ইমেজ প্রচার পেয়েছে। জামায়াতের পলিসি সামিট বাংলাদেশের রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এটি নতুন ইমেজ, নীতি-কেন্দ্রিক বার্তা এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি–র মাধ্যমে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে।
তরুণ, নারী ও ব্যবসায়ী ভোটারের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে সামিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তরুণ ভোটার, নারী ভোটার, ব্যবসায়ী ভোটার, জিরো টলারেন্স নীতি এর সঙ্গে মিলিত হয়ে জামায়াতকে নির্বাচনে আংশিক সুবিধা দিবে।
দ্বাদশতম : জনতার ইশতেহার
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার কেবল একটি সাধারণ দলীয় নথি নয়; এটি ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।জামায়াতের ইশতেহার মূলত ঘুরে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি মূল প্রতিশ্রুতির উপর। যেমন-
১.দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।
২. চাঁদাবাজি বন্ধ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা
৩.শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রশাসন ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি।
৪. স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহীতা নিশ্চিতকরণ এবং
৫. ন্যায়পরায়ণ ও নৈতিক রাষ্ট্র বিনির্মান।
এগুলি ভোটারদের কাছে একটি পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য ন্যারেটিভ প্রদান করছে। যেখানে ভোটাররা সহজেই বলতে পারে-এই দল অন্যদের থেকে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেশি বিশ্বাসযোগ্য।
তরুণরা বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণমূলক ও নৈতিক রাজনীতির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখতে চায় । জামায়াতের ইশতেহার সরাসরি এই চাহিদার সঙ্গে খাপ খাচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের তরুণরা শিক্ষিত ও সচেতন। জামায়াতের নীতি-কেন্দ্রিক বার্তা তাদের মনস্তাত্ত্বিক ঝোঁক বাড়াচ্ছে।
নারীর জন্য নিরাপত্তা, অংশগ্রহণ ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি জামায়াতের ইশতেহারে স্পষ্ট। সাম্প্রতিক প্রচারণা ও পলিসিসামিটেও এই বার্তাকে দৃশ্যমান করে দেখানো হয়েছে। ফলস্বরূপ, নারী ভোটারের মধ্যে জামায়াতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইশতেহার ব্যবসায়ী ভোটারের “নিরাপদ রাজনৈতিক বিকল্প” ধারণাকে শক্তিশালী করছে।
নির্বাচনের মাঠে জামায়াতের জয়লাভের আরো অনেক কারণ রয়েছে। সবগুলো কারণ একত্র করলে দেখা যায় এবারের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় শুধু দেখার অপেক্ষায়।
Leave a Reply