ভারতে ভূমি ধসে নিহত ১০৬

সাতমাথা ডেস্ক:
    সময় : মঙ্গলবার, জুলাই ৩০, ২০২৪, ১১:২১ অপরাহ্ণ
  • ২৯৫ Time View

ভারতের কেরলের ওয়েনাড়ে মঙ্গলবার ভোরে ধস নেমে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০৬ জনের। চার ঘণ্টায় পর পর তিন বার ধস নামে এই পাহাড়ি এলাকায়। তার জেরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তৃত এলাকা। সেখানে এখনও ধসে চাপা পড়ে রয়েছেন শতাধিক মানুষ। এ দিকে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় বহু এলাকায় পৌঁছতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। ভারী বৃষ্টির কারণে আকাশপথেও উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে, মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। মৌসম ভবন জানিয়েছে, এখনই ভারী বৃষ্টি থামছে না কেরলে। তাদের পূর্বাভাস, ১ অগস্ট, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির হতে পারে রাজ্যে। প্রশাসনের উদ্বেগ, এই ভারী বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হতে পারে উদ্ধারকাজ।

ওয়েনাড়ের মেপ্পাড়ির কাছে পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন-সহ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী। ভারতীয় সেনা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ২২৫ জন জওয়ান উদ্ধারকাজে নেমেছেন। তিরুঅনন্তপুরমে ১৪০ জন জওয়ান প্রস্তুত রয়েছেন। প্রয়োজনে তাঁদের আকাশপথে ওয়েনাড়ে নিয়ে আসা হবে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ জানিয়েছে, নৌসেনাবাহিনীও উদ্ধারকাজে নেমেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৫০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। আপাতত অস্থায়ী শিবিরে রয়েছেন তাঁরা। কেরলের মুন্ডাক্কাই, ছুরালমালা, আট্টামালা, নুলপুঝা এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু রাস্তা ধসে গিয়েছে। একটি সেতুও ভেঙে পড়েছে। সে কারণে, বহু জায়গায় এখনও পৌঁছতেই পারেনি উদ্ধারকারীরা। আবহাওয়া খারাপ থাকায় আকাশপথেও উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা এএনআইকে বলেছেন, ‘‘দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। হেলিকপ্টার আনা হয়েছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে তাতে চেপে উদ্ধারকাজ সম্ভব হচ্ছে না।’’ তিনি জানিয়েছেন, ৭০ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার বিভিন্ন ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সুদৃশ্য উপত্যকা, চা-বাগান ছারখার হয়ে গিয়েছে। একের পর এক গাছ উপড়ে কাদাজলে ভেসে চলেছে। খেলনার মতো ভেঙে পড়ছে বাড়ি। বোল্ডারে আটকে রয়েছে গাড়ি। কোনও কোনও রাস্তায় বোল্ডার পড়ে থাকায় গাড়িতে চেপে উদ্ধারকাজে যেতে পারছে না পুলিশ-প্রশাসন।

কেন এই বিপর্যয়? প্রশাসন বলছে, এই এলাকায় লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণেই এই ধস নেমেছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় কেরলে ৩৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মৌসম ভবনের পরিসংখ্যান বলছে, কোনও জায়গায় প্রতি ঘণ্টায় ১৬ থেকে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে ধরা হয়, সেখানে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় কেরলে ঘণ্টায় গড়ে ১৫.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন মনে করছে, এই কারণেই ভোরবেলায় ধস নেমেছে কেরলের ওয়েনাড় জেলার পাহাড়ি এলাকায়।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com