বগুড়ায় পুলিশের সাথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় এপর্যন্ত ৩ জন বিক্ষোভকারী নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মনির হোসেন নামের একজন দুপচাঁচিয়ায় এবং দুইজন মারা গেছেন বগুড়া শহরের ৩নং রেল গেইট এলাকায়। নিহতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে একদলছিাত্র-জনতা বড়গোলা হয়ে সাতমাথার দিকে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ মুহুর্মহু টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেঠ ছুঁড়ে। ইটপাটকেল মেরে বিক্ষোভকারীরা জবাব দেয়। এসময় পুলিশের ছোঁড়া একটি টিয়ারসেল এসে এক বিক্ষোভকারীর মাথায় পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এখনো নাম পরিচয় জানা যায়নি।
একই সময়ে পুলিশের গুলিতে আরও একজন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা গেছেন। নিহতের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লাশ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন ।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই যুবক নিহত হয়েছেন। আমরা ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠিয়েছি। এছাড়া আরও ৯জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এদের কেউ গুলিবিদ্ধ আবার অন্য কিছুতে আঘাতপ্রাপ্ত।’

এদিকে, দুপচাঁচিয়ায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে গুলিতে এক আন্দোলনকারী নিহত হযেছেন। নিহত মনির হোসেন (৩০) বগুড়ার কাহালু উপজেলার বীরকেদার গ্রামের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানাগেছে।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যিবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের ডাকা দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে আজ সকাল ১১টার দিকে দুপচাঁচিয়ায় ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ছাত্রদের সাথে শত শত অভিভাবক মিছিলে অংশ নেন।
মিছিলটি একপর্যায়ে থানার দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের দমনের চেষ্টা চালায়। এসময় বিক্ষোভকারী ইট পাটকেল মেরে পাল্টা জবাব দেয়। উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি সনাতন বাবুৃ একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত মনিরের লাশ ময়না তদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Leave a Reply