কাহালুবাসীর দুঃখের শেষ নাই! নদীর স্রোত বন্ধ করে ফেলেছে বালু ও মাটি খেকোরা
এম এ কাদের, কাহালু (বগুড়া) থেকে:
নদী আছে স্রোত নাই,পানি আছে মাছ নাই,নগর নদীর এই চিত্র। স্রোত বন্ধ করে ফেলেছে বালু ও মাটি খেকোরা,আর মাছ নিধন করেছে কল-কারখানা মালিকরা বিষাক্ত বর্জ দিয়ে।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার উত্তর ও পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলা এক সময়ে যৌবনা স্রোতান্বাসী “নাগর নদী” বর্ষা মৌসুমে পশ্চিম বগুড়া, শাজাহানপুর ও কাহালু উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠের পানি ছোট-বড় খাল,ক্যান,রাস্তার ধারের নয়নজলি,ব্রীজ কালভাট দিয়ে এই নদীতে পড়ত এবং স্রোতের মাধ্যমে তা দ্রুত নিস্কাশন হতো। কিন্তু এলাকার কিছু চিহিৃত বালু ও মাটি খেকোঁরা শুষ্কো মৌসুমে নাগর নদীর কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ টি স্পটে নদীর ভিতরে বাধ দিয়ে শ্যালো ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে এবং এস্কেভেটর ও ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে হাজার হাজার ট্রাক বালু ও মাটি বিক্রয় করে অবৈধ ভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
রাতে দিনে বালু ও মাটি বোঝাই ট্রাক ও ট্রাক্টোর গুলো গ্রামে কাচা-পাকা রাস্তা দিয়ে চলা চলের ফলে রাস্তা ও ব্রীজ-কালভাট ভেঙ্গে চুওে ব্যাপকহারে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এদিকে বর্ষা মৌসুমে ঐ বাঁধ গুলো অপসরণ না করাই বৃষ্টির পানি নিস্কাশন বাধাগ্রস্থ হয়ে নদী তার স্রোত হারিয়ে ফেলেছে।
এদিকে, এলাকায় গড়ে উঠা মিল,কল-কারখানা,ফ্যাক্টোরী,চাতালের দুষিত বিষাক্ত বর্জ নদীতে ফেলার কারেণে নদীতে পানি থাকলেও কোন প্রকার মাছ থাকেনা। পারছেনা নদী কূলের মানুষ নদীর পানি ব্যবহার করতে।নদীর পানি গায়ে লাগলেই চুলকানি,পাচড়াসহ বিভিন্ন ঘা দেখা দিচ্ছে।
বিশেষ করে দুপচাঁচিয়া ব্রীজ থেকে শুরু করে তালোড়া হয়ে কাহালু উপজেলা দুর্গাপুর ইউনিয়নের পিঁপড়া,ধানপূজা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১২ থেকে ১৪ কিঃ মিটার জুড়ে নদীর এই অবস্থা,সেখানে কোন প্রকার মাছ থাকতে পারছেনা। ফলে মিঠা পানির দেশী প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে। দু’একটি মাছ স্রোতের তোড়ে সেখানে ভেসে গেলে বিষাক্ত দুষিত বর্জ্যের কারণে রোগাক্রান্ত হয়ে সেগুলো মরে যাচ্ছে।

এভাবেই অবৈধভাবে মাটি কেটে পরিবেশ বিনষ্ট করা হলেও দেখার যেন কেউ নেই!
অপর দিকে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ ভাবে ছোট বড় খাল,রাস্তার ধারের নয়নজলি,পানি নিস্কাশনের ড্রেন, ব্রীজ ও তিন ফসলী কৃষি জমি অপরিকল্পিত ভাবে ভরাট করে মিল,কল-কারখানাসহ স্থাপনা নির্মাণে ফলে বর্ষা মৌসুমে প্রতিনিয়তেই জলাবদ্ধার সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকের আমন ধানসহ মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির পাশাপাশী শত শত মৎস্য চাষীর পুকুরের চাষ করা মাছ ভেসে যাচ্ছে।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বগুড়া-নওগা মহা-সড়কের মুরইল,কালিয়ার পুকুর, দরগাহাট, বিবির পুকুর, পাগলাপীর, শেখাহার ডিপুইল, ভোলতা,বীরকেদার বার মাইল,জোগার পাড়া,কাশিমালাসহ সড়কের দু’পার্শ্বে প্রায় অর্ধশত স্থানে নয়জলি ভরাট করে মিল, কল-কারখানা ,ফ্যাক্টোরীসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
এছাড়া দুর্গাপুর-জামাদার পুকুর সড়কে দু’পার্শ্বে নয়নজলি ও ব্রীজের মূখ ভরাট করে পুকুর খনন,কল-কারখানাসহ স্থাপনা নির্মানের ফলে জামগ্রাম ও মালঞ্চা ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজার অধিকাংশ ফসলের মাঠে ব্যাপক জলাব্ধতার সৃষ্টি হয়ে পড়েছে।
উপজেলা দেওগ্রাম-রাণীরহাট এবং বগুড়া-তালোড়া সড়কের এবং রেলওয়ের নয়নজলি ভরাট আবার কোথাও অবৈধ ভাবে দখল করে মাছ চাষ করায় বর্ষার পানি নিস্কাশনে পথ গুলো সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ করে ফেলেছে। শুধু তাইনা কাহালু- তালোড়া রেলওয়ের নয়নজলি দিয়ে পানি নিস্কাশনে প্রধান নয়নজলি/খালের পাঁচপীর রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পার্শ্বে ও নাগর নদীর মূখে পাঁচপীর মাজার পার্শ্বে নয়জলির দু’পার্শ্বে বাধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে পাকা রাস্তা ধারের বিভিন্ন পুরাতন গাছ পড়ে যাচ্ছে, যা রাতে অন্ধকারে উধাও হয়ে যাচ্ছে। শুধু গাছই ঊধাও হচ্ছে তা না, সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রীজ,কালর্ভাট ও পাকা রাস্তা হুমকীর মূখে পড়েছে।
এই সমস্যা গুলোর বিষয়ে উপজেলা মাসিক সভায় উপস্থাপন এবং বিভিন্ন ভাবে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা সমূহে ফলাও করে প্রকাশ করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন,জন-প্রতিনিধিরা এব্যাপারে এখন পর্যন্ত উল্লেখ যোগ্য কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করেননি।
Leave a Reply