ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আকস্মিক নেতিবাচক কিছু নেই : ড. ইউনূস

সাতমাথা ডেস্ক:
    সময় : সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০২৪, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
  • ২২৬ Time View

ডোনাল্ড ট্রাম্প (নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ায় হঠাৎ করে কোনো নেতিবাচক বিষয়ের উত্থান দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের সাথে তার কোনো সমস্যা নেই।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এমন কিছু নয়, কে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন, যা তার ওপর নির্ভর করে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রিপাবলিকান পার্টি বা ডেমোক্রেটিক পার্টি এমনকি ট্রাম্পের বিষয়েও তার কোনো সমস্যা নেই।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে অতীতে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না এবং উভয় দলেই তার বন্ধু রয়েছে। অভিষেক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে পা রাখবেন। তার আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শীর্ষ পদে বহাল থাকবেন।

এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ‘হিন্দু, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত সহিংসতার’ নিন্দা জানান, ‘যারা বাংলাদেশে বিক্ষুব্ধ জনতার দ্বারা আক্রান্ত ও লুটপাটের শিকার হচ্ছে’।

এক টুইটে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমার নজরদারিতে এটা কখনোই ঘটত না। কমলা ও জো বিশ্বজুড়ে এবং আমেরিকায় হিন্দুদের উপেক্ষা করেছেন। ইসরাইল থেকে ইউক্রেন পর্যন্ত আমাদের নিজস্ব দক্ষিণ সীমান্ত পর্যন্ত একটি বিপর্যয় হয়েছে, তবে আমরা আমেরিকাকে আবার শক্তিশালী করব এবং শক্তির মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনব!’

এ বিষয়ে আল জাজিরার এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এটা মূলত অপপ্রচার- সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অপপ্রচার। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’

তিনি বলেন, বেশির ভাগ অপপ্রচারের উৎপত্তি ভারত থেকে। যে কারণেই হোক না কেন- সম্ভবত অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রাখার জন্য।

‘কিন্তু বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই’ উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘সহিংসতা শুরু হয়েছিল বিপ্লবের সময় হিন্দু বা অন্য ধর্মের কারণে নয়, বরং বেশির ভাগই তারা আওয়ামী লীগার ছিল বলে। হিন্দুদের অধিকাংশই ছিল আওয়ামী লীগার।’

এদিকে, রোববার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সংখ্যালঘুরা কিছু ক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হয়, তবে তা সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন বাংলাদেশ ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত একটি দেশ। সে সময় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মূলত রাজনৈতিক কারণে অল্প কিছু সহিংসতার ঘটনা রয়েছে।

সূত্র : ইউএনবি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com