সমকামিতা ও ‘ট্রান্সজেন্ডারিজমের’ বিরুদ্ধে ব্রিটেনের সুপ্রীম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়

Reporter Name
    সময় : সোমবার, এপ্রিল ২১, ২০২৫, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
  • ৮৮৫ Time View

এফ শাহজাহান : বিকৃত রচীর সমকামিতা এবং ধর্মীয়মূল্যবোধ বিরোধী ট্রান্সজেন্ডারিজমের’ বিরুদ্ধে ব্রিটেনের সুপ্রীম কোর্ট ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন । এই রায়ে বলা হয়েছে, যাঁরা শারীরিক ভাবে তথা প্রকৃতিগতভাবে মেয়ে হয়ে জন্মেছেন,কেবল তাঁদেরকেই ‘মহিলা’ বলা যাবে। যারা পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হয়েছেন সেইসব ট্রান্সজেন্ডার নারীদের ‘মহিলা’ বলা যাবে না । ব্রিটেনের সুপ্রীম কোর্ট গত বুধবারএকটি মামলায় এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে ।
এই রায় সমকামিতার আড়ালে পৃথিবজিুড়ে যৌনসন্ত্রাস ছড়ানোর নীলনকশা বাস্তবায়নকারী এবং বিকৃতরুচীবাদীদের গোপন ষড়যেন্ত্রর বিরুদ্ধে কঠোর কুঠারাঘাত হেনেছে। শয়তান পূজারীদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এই রায় শুধু বাধা হয়েই দাঁড়াবে না, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় ভবিষ্যতের পথও দেখাবে।
এই রায়ের ফলে পৃথিবীজুড়ে বিকৃত রুচীর ট্রান্সজেন্ডার কালচার বা ‘ট্রান্সজেন্ডারিজমের’ যে সয়লাব ঘটানোর মিশন শুরু হয়েছিলো,তা অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশা করছেন তেীহিদবাদীরা। সমকামিতার নামে সারা পৃথিবীতে মানবতাবিধ্বংসী অপকর্র হোতাদের বিরুদ্ধেও এই রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মতো সমাজেও যারা ধর্মীয়,সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক বন্ধনের বিরুদ্ধে এলজিবিটিকিউ (লেসবিয়ান,গে,বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার এবং কুইয়ার) আন্দোলন ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে এক মস্ত বড় চপেটাঘাত হিসেবে হাজির হয়েছে বৃটেনের আদালতের এই রায়।
এই ঐতিহাসিক রায়ের পর থেকে তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের লোকেরা ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেছেন। তাদের অভিযোগ, এভাবে তাঁদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। শনিবার বিক্ষোভ শুরু হয়েছে লন্ডনের রাস্তায় পার্লামেন্ট স্কোয়্যারের কাছে জড়ো হলেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই রূপান্তরিত অথবা রূপান্তরকামী।
সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের হাজার হাজার রূপান্তরিত বা তাঁদের অধিকারের সমর্থনকারী মানুষ প্রতিবাদে পথে নেমেছেন। শনিবার লন্ডনের জমায়েতকে তাঁরা ‘জরুরিকালীন বিক্ষোভ প্রদর্শন’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষিত করার দাবিতে এবং তাঁদের স্বাধীনতার দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড এবং রামধনু রঙের পতাকা দেখা গিয়েছে। স্লোগানে স্লোগানে ছেয়ে গিয়েছে পার্লামেন্ট স্কোয়ার।
এই রায়ে রূপান্তরিদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ মানতে চায়নি ব্রিটেনের সর্বোচ্চ আদালত। তারা জানিয়েছে, রূপান্তরিত এবং রূপান্তরকামীদের অধিকার সুরক্ষিতই থাকবে। এই রায়ের পর বৈষম্যের হাত থেকে তাঁরা রক্ষা পাবেন।
ব্রিটেনের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অর্থ হল, এ বার থেকে মহিলাদের শৌচাগার, হাসপাতালের ওয়ার্ড কিংবা খেলার দল থেকে রূপান্তরিত মহিলাদের আলাদা করা হবে।
পার্লামেন্ট স্কোয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে ১৯ বছরের রূপান্তরিত তরুণী সোফি গিব্স বলেন, ‘‘আপনার অধিকার আপনার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটা একটা ভয়ানক সময়। আমরা তথাকথিত উন্নত সমাজে বাস করতাম। কিন্তু সেই সমাজই এখন এমন ভয়ঙ্কর, ক্ষতিকর রায় শোনাচ্ছে।’’
ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বুধবার এই রায় দিয়েছিল। সরকারের বক্তব্য, রায়ের ফলে পরিষেবাদানকারীদের কাজে স্বচ্ছতা আসবে, মহিলারা আত্মবিশ্বাস পাবেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের মোট জনসংখ্যা সাড়ে ছ’কোটির কিছু বেশি। তাঁদের মধ্যে ১ কোটি ১৬ লক্ষ মানুষ রূপান্তরিত বা রূপান্তরকামী। এখনও পর্যন্ত সাড়ে আট হাজারের বেশি লিঙ্গ পরিবর্তনের শংসাপত্র দিয়েছে সরকার।
ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কারও লিঙ্গ কী, তা ব্যাখ্যা করার জন্য শংসাপত্র ব্যবহার করা হলে পুরুষ এবং মহিলার সংজ্ঞার সঙ্গে তার বিরোধ ঘটতে পারে। ২০১০ সালের সমতা আইনে যে বৈষম্যবিরোধী বিধানগুলি দেওয়া হয়েছে, তা কেবল জৈবিক লিঙ্গের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই রায় তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের অধিকার খর্ব করার পথ দেখাল। আগামী দিনে এমন আরও রায় দেওয়া হবে এই রায়ের উদাহরণকে সামনে রেখে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com