ভারতের নীলনকশা বাস্তবায়নে তালেবানী ছবক : যে কারণে ইসলামী জোট ছাড়লো চরমোনাই

Reporter Name
    সময় : শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
  • ২৮৭ Time View
এফ শাহজাহান :
এক ঘরমে দো পীর। একজন সৈয়দ ফয়জুল করিম। আরেকজন সৈয়দ রেজাউল করিম। দুই ভাইয়ের এক খানকা। সেই খানকায় বসেই ভারতের নীল নকশা অনুযায়ী তালেবানী ছবকে ইসলামপন্থীদের জোট ভাঙ্গার কলকাঠি নাড়ছে গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’।
যার পরিনতিতে সম্ভাবনাময় নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে জোটবদ্ধ ১১ দলীয় ইসলামী জোট থেকে ঝরে পড়লো চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
চরমোনাই পীরের রাজনৈতিক শাখা ইসলামী আন্দোলনের মালিকও ওই দুই ভাই। পার্টির বর্তমান আমির সৈয়দ রেজাউল করিম। নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করিম। দুই ভাইয়ের এক পার্টি। পার্টির সবকিছু নির্ভর করে তাদের দুই ভাইয়ের সিদ্ধান্তের ওপরই।
মুরিদ আছে ভোট নাই / তবু লাফায় চরমোনাই। তাদের এই মাত্রাতিরিক্ত লাফালাফির কারণে ১১ দলীয় জোটের শরীকরা সর্বাচ্চ ত্যাগ শিকার করে চরমোনাইকে ৪৭ টি আসন দিলেও তারা জোটে থেকে বের হয়ে গেলো।
এতে করে অবশ্য ইসলামী জোটের অনেক শরীক স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন। চরমোনাই জোট থেকে ঝরে পড়ায় জামায়াত অনেক বড় বিপদ থেকে মুক্ত হয়েছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ।
চরমোনাইয়ের এক খানকার দুই পীরের এক ভাইকে প্রধানমন্ত্রী আর আরেক ভাইকে প্রেসিডেন্ট বানানোর ওয়াদা দিলেও তারা জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকতে পারবে না। কারণ, ভারত তাদের নীল-নকশা বাস্তবায়নে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে দিয়ে বাংলাদেশের ইসলামী জোট ভাঙ্গার যে মিশন চালাচ্ছে, তার প্রথম শিকার হয়েছে চরমোনাইয়ের দুই পীর ভাই।
ভারতের কবজায় বন্দী দেওবন্দ মাদরাসা। আর দেওবন্দ মাদরাসার কবজায় বন্দী চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন। ভারত সময়মত সেই দারুল উলুম দেওবন্দের রুহানী ফয়েজকে কাজে লাগিয়ে চিরশত্রু মুসলমানদের ধ্বংস করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করে। এবারও সেই ‘দেওবন্দী-তালেবানী’ সম্পর্ককে সফলভাবে বাংলাদেশের ইসলামী জোট ভাঙ্গার কাজে লাগিয়েছে ভারত।
পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন ভারতীয় লবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছিল।
তালেবানদের আঁতুড় ঘর সেই দেওবন্দ মাদরাসাকে যথাসময়ে বেশ দক্ষতার সঙ্গেই কাজে লাগিয়েছে ভারত। দেওবন্দ মাদরাসার ছবকে তালেবান সরকারকে দিয়েই বাংলাদেশের ইসলামী জোট থেকে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনকে সরিয়ে নিতে সফল হয়েছে।
এর প্রমান পাবেন একটু পেছনে তাকালেই।
মাত্র ২ সপ্তাহ আগে ৩০ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট পলিটিক্যাল ডিভিশনের মহাপরিচালক নূর আহমাদ নূর বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি এসে কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের কারো সঙ্গে বৈঠক করেননি। তিনি বৈঠক করেছেন যারা জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী জোট গঠনের চেষ্টা করছেন, তাদের সঙ্গে।
এক সপ্তাহের সফরকালে তিনি বাংলাদেশ খেলাফতে মসলিসের আমির মামুনুল হকসহ ইসলামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
ভারতের মিশন বাস্তবায়নের বাংলাদেশের সম্ভাব্য ইসলামী জোট ভাঙ্গার জন্যই যে গত তালেবান সরকারের সেই প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন,তা এখন দিবালোকের মতো পরিস্কার।
আরেকটু পেছনে তাকালে দেখবেন, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে আলেমদের একটি প্রতিনিধিদল ইমারাতে ইসলামিয়া তালেবান সরকারের আমন্ত্রণে আফগানিস্তান সফরে গিয়েছিলেন।
এই দলে ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় সাতজন আলেম।
সফরে আফগানিস্তানের প্রধান বিচারপতি, একাধিক মন্ত্রী, শীর্ষ আলেম ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছিলেন তাঁরা।
এই দলে মাওলানা মামুনুল হক ছাড়াও ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা আবদুল আউয়াল, মাওলানা আবদুল হক, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, মাওলানা মনির হোসাইন কাসেমী ও মাওলানা মাহবুবুর রহমান।
দুই দেশের আলেমদের মধ্যকার সম্পর্কোন্নয়নসহ কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রতিনিধিদলের আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে বলে সেই সময় খেলাফত মজলিসের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এই যে তালেবান সরকারের আমন্ত্রনে আফগানিস্তানে যাওয়া এবং তালেবান সরকারের প্রতিনিধির বাংলাদেশে আগমন,এই নিয়ে কিন্তু মিডিয়া বেশ সতর্কতার সঙ্গে নিরবতা পালন করেছে।
অথচ, তালেবানদের সঙ্গে যদি জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের এরকম আসা-যাওয়া এবং বৈঠক হতো, তাহলে বিশ্বের তাবৎ মিডিয়ায় তুমুল ঝড় উঠতো। রাম-বামরা একসঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করে বলতেন যে, ক্ষমতায় না যেতেই বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানানো হচ্ছে। কিন্ত কী আজব কাণ্ড যে, কেউ টু শব্দও করেনি।
বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের জোট গঠন এবং আসন্ন নির্বাচনে সেই ইসলামী জোটের বিজয়ের আভাস পেয়ে মরিয়া উঠেছে ভারত। ভারতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে চুক্তিবদ্ধ পক্ষকে ক্ষমতায় আনতে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের জোট ভাঙ্গা ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ ছিলো না ভারতের হাতে। এ কারণে ‘যেমন সাপ-তেমন সাপুড়ে’ বাছাই করতেও ভুল করেনি ভারত।
এই সময়ে ভারতের হাতের পুতুল ইমারতে ইসলামিয়ার তালেবান সরকারকে দিয়েই বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের নির্বাচনী জোট ভাঙ্গার মিশন সফল করতে সক্ষম হচ্ছে ভারত। সেই মিশনের শিকার হয়েই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানের সম্ভাবনাময় ইসলামী জোট থেকে সরে গেছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com