ভারতীয় মুসলমানদের জন্ম আছে দেশ নাই। জীবন আছে নিরাপত্তা নেই। মানবতা আছে মানবাধিকার নেই। ভারতে মুসলিম হয়ে জন্মানোই যেনো আজন্ম পাপ।
শুধু ভারতেই নয়,মিয়ানমার থেকে ফিলিস্তিন কিংবা ইরান থকে হিন্দুস্তান সবখানেই মুসলমানদের কেউ মানুষ মনে করে না। তাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে যখন চরম জুলুম নির্যাতন চালানো হয়, তখন মানবাধিকার সংস্থাগুলো কথা বলে না। তারা তখন অন্ধ হয়ে যায়।
পৃথিবীতে শুধু মুসলমানদেরই কোন দেশ নেই। রোহিঙ্গা মুসলিম কিংবা ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলিমদের জীবন তাই দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের তাড়ানোর পর এবার বিজেপির নির্যাতনে ভারতীয় মুসলমানদের তাড়ানো শুরু হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মুসলমান পরিবারকে তাদের পৈত্রিক ভিটা থেকে উচ্ছেদ করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর জন্য সীমান্তে এনে ফেলে রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে গরু-ছাগলের মতো আচরণ করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাকিমপুর সীমান্তের চেকপোস্টে ভারতীয় মুসলমানদের ধরে এনে সীমান্তে ফেলে রাখা শুরু হয়। বুধবারও সেই একই চিত্র আর বদলালো না। সকাল থেকে হাকিমপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বাংলাদেশি মুসলমানদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। তাদেরকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর জন্য সুযোগের অপেক্ষায় হাকিমপুর সীমান্তে এনে ফেলে রাখা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির সরকারি নির্দেশিকা জারি হতেই বাংলাভাষী মুসলিমদের ধরপাকড়ের হিড়িক পড়েছে । সেই দৃশ্যই ধরা পড়ছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তেও। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল হাকিমপুর সীমান্তে বিএসএফ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন প্রায় দুশোর বেশি মুসলমানকে ধরে এনেছে । আইনি কার্যক্রমের জন্য তাদের তিনটি স্থানীয় অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
মঙ্গলবারের মতো আজ সকালেও হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে ট্রলি, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ ছাউনির নীচে, আবার কেউ রাস্তায় প্লাস্টিক পেতে অপেক্ষায় রয়েছেন সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে যাওয়ার।
গত অক্টোবর মাসে মুসলমানদের ভারতছাড়া করার জন্য ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়ও এমন ছবি দেখা গিয়েছিল।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার বাংলাভাষী মুসলমানদের আটক রাখার জন্য জেলাভিত্তিক ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ কার্যকর করতে নবান্নের তরফে তোড়জোড় শুরু হতেই মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সেখানকার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে সন্দেহভাজনদের ৩০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। এছাড়াও, যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং যাদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে, তাঁদেরও এই কেন্দ্রে রাখা হবে।
Leave a Reply