আরেকটা অনিবার্য বিপ্লবের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে : আমীরে জামায়াত

Reporter Name
    সময় : শনিবার, জুন ২০, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
  • ২৮ Time View

খুলনা ব্যুরো : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে, আরেকটা অনিবার্য বিপ্লবের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এ বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়, কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়; বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন–সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর বিপ্লব।’

শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এ কথা বলেন। তিনি শোষণমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানান। বিএনপির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রাখেনি। আমরা বলেছি, আপনারা ভুল করছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসেন। জনরায়কে সম্মান করুন। জনরায়কে সম্মান না করার পরিণতি কী হতে পারে, দফায় দফায় দেখার পরও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘আমরা জানি, সহজে কানে পানি ঢুকবে না। সিরিঞ্জ দিয়ে যদি পানি ঢুকাতে হয়, তাহলে সেভাবেই পানি ঢুকাব। যদি ফায়সালা সংসদে না হয়, তাহলে যেখানে কথা বলতে মাননীয় স্পিকার বলতে হয় না, যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমোদন লাগে না, সেই খুলনার মাঠ বরিশালের মাঠ, কুমিল্লার মাঠ, সিলেটের মাঠ, চট্টগ্রামের মাঠ, ময়মনসিংহের মাঠ, রংপুরের মাঠ, বগুড়ার মাঠ, রাজশাহীর মাঠ—সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’

দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক, জামায়াত তা চায় না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশকে আমরা ভালোবাসি। শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্বাচনের ফলাফল আমরা মেনে নিয়েছি। এ কথা মনে করবেন না কেউ, নির্বাচনের ফলাফল দেশে একটা গৃহযুদ্ধ শুরু না হোক, সেই জন্য আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কারও বাপ–দাদার চোখ রাঙানিকে আমরা পরোয়া করব না। অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না। আমাদের নেতৃবৃন্দ হারতে হারতে ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে জাতির জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’
‘সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে’

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইন নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে স্পষ্ট বলে দিচ্ছি, যদি এই দেশবাসী এবং আমরা দেখতে পাই, আধিপত্যবাদের সামনে আপনারা মাথা নত করছেন, আপনাদের আমরা ছেড়ে কথা বলব না। সাবধান। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত আজ প্রস্তুত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। পুশ ইনের নামে একটা দেশ তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। আমাদের মুষ্টিমেয় বিজিবি সদস্য সীমান্তে যখন দাঁড়িয়ে গেছেন, জনগণ তখন তাঁদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই না, আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম এবং শান্তি কেড়ে নিতে। আবার কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে তাদের কালো হাত বাড়াক, এটাও আমরা চাই না। যদি কেউ আমাদের দিকে কালো হাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, সেই কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে ইনশা আল্লাহ।’

পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘হাসিনা পালিয়েছেন, অপমানজনকভাবে পালিয়েছেন, রান্না ভাত ফেলে আপনাকে বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে হয়েছিল। কোথায় গিয়েছেন? সাড়ে ১৫ বছর যাদের সেবাদাসী হিসেবে আপনি কাজ করেছিলেন, তাদের কোলে গিয়ে আপনি আশ্রয় নিয়েছেন। আপনি মানুষ খুন করলেন, আয়নাঘরে মানুষকে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করলেন। কিন্তু আপনার কোনো অনুশোচনা নেই। অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করলেন; রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করলেন; ব্যাংক, বিমা, শেয়ার মার্কেট লুণ্ঠন করলেন; বিদেশে পাচার করলেন। আপনি বেহায়া, আপনার কোনো অনুশোচনা নেই। উল্টো আপনি ওপার থেকে সুড়সুড়ি দেন।’

সভাপতির বক্তৃতায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রসংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার তা থেকে সরে এসেছে। গণভোটে জনগণ যে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার অনীহা দেখাচ্ছে। জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে সরকার কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার দিকে এগোচ্ছে।

সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুই বছর পরও সেই আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা সরকার ও সংসদের কাছে জানতে চাই, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও গণ–অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) যুগ্ম সচিব আবদুল্লাহ আল মামুন (রানা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com