চলাচলের রাস্তা নেই শিবগঞ্জের আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের, খোঁজ নেয়না কেউ

Author খালিদ হাসান,শিবগঞ্জ (বগুড়া) থেকে:
    সময় : শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
  • ৩৮৭ Time View
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় চলাচলের রাস্তা না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীরা পড়েছেন দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে। উপায়ন্তর না পেয়ে প্রকল্প সংলগ্ন ফসলি জমির ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন তাঁরা। এ ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন উপকারভোগী ব্যক্তিরা।
উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা গ্রামে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি অবস্থিত।
উপজেলা প্রশাসন ও উপকারভোগী ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩য় পর্যায়ে ১ম ধাপে ৩৫টি এবং ২য় ধাপে ৩৭টি পরিবারের মাঝে জমিসহ বাড়ি হস্তান্তর করা হয়। এরমধ্যে উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্প রয়েছে। সেখানে ভূমি ও গৃহহীন ৭ পরিবারকে দুই কক্ষবিশিষ্ট আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। প্রকল্পের প্রতিটি ঘরে শৌচাগার ও রান্নাঘরের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে মূল সড়কে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। ফলে সেখানে বসবাসকারী মানুষ আশপাশের ফসলি জমির ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন। প্রায়ই সেসব জমির মালিকেরা তাঁদের চলাচলে বাধা দেন ও গালমন্দ করেন। ফলে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা তাঁদের চলাচলে বিড়ম্বনা, দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
বুধবার সরেজমিনে অনন্ত বালা গ্রামে দেখা যায়, আশ্রয়ন প্রকল্পের উত্তরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে বাশঝার রয়েছে। পূর্ব পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের জমিগুলোতে মৌসুমি বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়। বর্তমানে পশ্চিম পাশের কলার খেতের ভিতর দিয়ে পায়ে হেঁটে মূল রাস্তায় উঠতে হচ্ছে উপকারভোগীদের।
এ সময় অনন্ত বালা গ্রামের উপকারভোগী আনোয়ারা বেগম (৩৩) জানান, আমাদের নিজের কোনো জায়গা-জমি নাই। সরকার এখানে ঘর করে দিছে কিন্তু রাস্তা নাই। আমরা এর আগে উত্তরপূর্ব পাশে অন্যের জমির ওপর দিয়ে হেঁটে মূল রাস্তায় উঠতাম! কিন্তু, জমির মালিক রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে। এখন একজনের কলার খেতের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করছি। রাস্তা না থাকায় আমরা খুব কষ্টে আছি।’
আশ্রয়নের আরেক বাসিন্দা দোলনা বেগম(২২) বলেন, সাত পরিবারের পানির চাহিদা মেটানোর জন্য একটি টিউবয়েল বসানো হয়েছে। পানিতে আয়রন হওয়ায় বিভিন্ন পানিবাহীত রোগে আমরা অসুস্থ হচ্ছি। আবার এই টিউবয়েলের পানি নিস্কাশনও করতে পারছিনা। যে জমিতে পানি যাচ্ছে সেই জমির মালিক গালমন্দ করেন।
রেহেনা বেগম (৪০) নামের আরেক বাসিন্দা জানান, কলার জমির মধ্যে দিয়ে পায়ে হেটে আমরা মূল রাস্তায় ওঠা খুব কঠিন। বৃষ্টি আসলে জমিতে কাঁদা হয়। তখন চলাচলই করা যায় না। প্রায় দুই বছর যাবৎ আমরা এই কষ্ট করছি। এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যানকে বলেও কোন প্রতিকার পাইনি। কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না।
প্রকল্প সংলগ্ন জমির মালিক অনন্তবালা উত্তরপাড়া গ্রামের এনামুল হক জানান, “আমার জমির ওপর দিয়ে আমি তাদের যাতায়াত করতে দিবনা। কারন, আমাকে এখানে বাড়ি নির্মান করতে হবে। সরকার রাস্তা ছাড়া বাড়ি নির্মান করে দিয়েছে এই দায় আমি নিবো কেনো?”
এ ব্যাপারে ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, রায়নগর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী ব্যক্তিদের চলাচলের সমস্যার বিষয়টি অতি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। শিগগিরই ওই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com