কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার

কোটাবিরোধী আন্দোলন সংঘাতের দিকে যাচ্ছে!

সাতমাথা ডেস্ক:
    সময় : বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০২৪, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
  • ২৭৯ Time View

সারাদেশে চলমান শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ন কোটাবিরোধী আন্দোলন হুট করেই অশান্ত হয়ে উঠছে। গতকাল কোটা সংক্রান্ত হাইকোর্টের আপীর বিভাগের একটি সিদ্ধান্তের পরেও শিক্ষার্থীরা রাজপথ থেকে সরে না যাওয়ায় সরকার অবস্থান পরিবর্তন করে কঠোর হতে শুরু করেছে। আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। রাজধানীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশেই অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ফলে সেখানে যেকোন মুহুর্তে সংঘাত বেঁধে যেতে পারে। এছাড়া স্বরাস্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান শিক্ষার্থীদেরকে সতর্ক করে বক্তব্য দিয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অযথা রাস্তায় ভিড় না করতে অনুরোধ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অনেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীরা ভুলপথে যাবেন না বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা লিমিট ক্রস (সীমা অতিক্রম) করে যাচ্ছেন।’

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জমান খান বলেন, পুলিশকে বলা হয়েছে, তাঁরা মেধাবী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। শিক্ষাথীদের সঙ্গে এমন কিছু করা যাবে না, যাতে তাঁরা কষ্ট পান।

আসাদুজ্জমান খান বলেন, সরকার তাঁদের (আন্দোলনকারীদের) কথা শুনবে। কিন্তু শোনার একটা সীমা থাকে। তাঁরা সেই সীমা পার করে ফেলেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে একই কাজ করছেন। অথচ প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত। মামলার পরবর্তী রায় না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত থাকবে। মানে হাইকোর্টের নির্দেশনা এখন অচল।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, রায় যেখানে নেই, আন্দোলন কেন? শিক্ষার্থীদের বোঝা উচিত, জানা উচিত, তাঁদের মা–বাবাও রাস্তায় বের হন, কেউ হাসপাতালে যান। কেউ চাকরির জন্য বের হন। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই অনগ্রসর মানুষের জন্য কোটাব্যবস্থা রয়েছে। তবু উচ্চ আদালত জানিয়েছেন, কোটাব্যবস্থা স্থগিত।

আসাদুজ্জমান খান বলেন, এরপর আর রাস্তায় থাকার প্রয়োজন নেই। তাঁরা আদালতে এসে কিছু বলতে চাইলে বলতে পারেন। এখন আর তাঁদের রাস্তায় অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।

শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে না সরলে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেবে, এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি তিনি। তবে বলেছেন, তাঁরা কী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যাবেন? পুলিশ কখন অ্যাকশনে যায়, যখন দেখে অগ্নিসংযোগ হচ্ছে, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, অনৈতিকভাবে কেউ পরিস্থিতি তৈরি করছে। তখন পুলিশ অ্যাকশনে যাবে বলে জানান মন্ত্রী।

গ্রন্থাগারের সামনে আন্দোলনকারী, মধুর ক্যানটিনের সামনে ছাত্রলীগের অবস্থান

পূর্বঘোষিত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হচ্ছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা। এর কাছেই মধুর ক্যানটিনের সামনে সমবেত হচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। এদিকে আন্দোলনকারীরা কয়েক দিন ধরে যে শাহবাগ মোড়ে এসে সড়ক অবরোধ শুরু করছেন, সেখানে আজ বৃহস্পতিবার অন্য দিনের তুলনায় বেশিসংখ্যক পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে।

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই থেকে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে গত রোববার ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি শুরু করেছেন তাঁরা। প্রথম দুই দিন রবি ও সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তাঁরা। মঙ্গলবার গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের পর গতকাল বুধবার আবার সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁরা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। তাঁদের এ কর্মসূচিতে সারা দেশ থেকে রাজধানী অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সারা দিনের অবরোধে সড়কে যানবাহন আটকে থাকায় দিনভর চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় রাজধানীবাসীকে।

আজ বেলা সাড়ে তিনটা থেকে আবারও অবরোধের কর্মসূচি রয়েছে আন্দোলনকারীদের। তবে দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমবেত হতে কিছুটা সময় নিচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে সেখানে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে কয়েক শ শিক্ষার্থী সমবেত হয়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগের উদ্দেশে যাত্রা করার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের এ সমাবেশ থেকে ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘ভয় দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।

অপর দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ নেতা–কর্মীরা দলে দলে এসে মধুর ক্যানটিনের সামনে জড়ো হচ্ছেন। সেখানেও ছাত্রলীগের কয়েক শ নেতা–কর্মীর সমাবেশ দেখা গেছে। ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা কী করবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com