এফ শাহজাহান :
ঢাকা না দিল্লী ?
গোলামী না আজাদী?
জুলাই বিপ্লবের রক্তধারায় ঝলসে ওঠা স্বাধীনতাকামী জাগ্রত জনতার এই নবচেতনার প্রশ্নে, উভয় সংকটের দোটানায় দোল খাচ্ছে এনসিপি।
একদিকে জুলাই বিপ্লবের চেতনা । অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রত্যাশা। চেতনা ধরে রাখতে চাইলে জোট হচ্ছে না। জোট করতে চাইলে চেতনা থাকছে না।
ভারত কখনোই জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তিকে বিএনপি জোটে মেনে নিবে না। যারা বিশ্বাস করেন, ভারতকে খুশী না রাখলে বাংলাদেশের ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না ; তারা কখনোই এনসিপিকে ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের দিকে ভিড়তে দিতে চাইবে না।
আর সেই মৌলিক চেতনাগত কারণেই প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিএনপির সঙ্গে জোট করতে পারছে না এনসিপি।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, বিএনপিকে তার পুরোনো সীমাবদ্ধতা ও পরিবারতন্ত্রের ছায়া থেকে বের হতে হবে। বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংস্কারের পথে হাঁটতে হবে। আর যারা ভারতের প্রভাব-রাজনীতির দিকে ঝুঁকে আছে, তাদেরও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূলধারায় ফিরে আসতে হবে।’ তার এই বক্তব্যেই স্পষ্ট হয় যে তারা চেতনাগত কারণে বিএনপির সঙ্গে মিলতে পারছেন না।
ভারতীয় অধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা ত্যাগ না করলে এনসিপিকে জোটে নিতে পারবে না বিএনপি। সে কারণেই এনসিপির অধিকাংশ নেতা বিএনপির সঙ্গে জোট করতে একপায়ে খাড়া থাকলেও বিএনপির সঙ্গে জোট করতে পারছে না। আর এজন্যই বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে জামায়াতমুখী হওয়ায় এনসিপিতে ঘাপটি মেরে থাকা ভারতীয় সেবাদাসপন্থীরা দল ত্যাগ করছেন।
জুলই বিপ্লবের চেতনা ভুলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না এনসিপির। আবার জুলাই বিপ্লবের চেতনা ভুলে না গেলে বিএনপির সঙ্গে জোট করাও যাচ্ছে না।
বাধ্য হয়ে জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তির সঙ্গেই জোট করতে হচ্ছে এনসিপিকে। এতে করে এনসিপি ভেঙ্গে গেলেও আপাতত কিছু করার নেই।
যদিও বলা হচ্ছে, বিএনপির কাছ থেকে ৪ থেকে ৫টির বেশি আসন পাওয়া যাবে না বিধায় বিএনপি ছেড়ে জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে এনসিপি। আসলে ভেতরের মূল কারণ হচ্ছে, এনসিপিকে জোটে নিতে পারছে না বলেই বিএনপি আসন দিতে চাচ্ছে না এনসিপিকে।
জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট হোক বা না হোক, বিএনপি যে এনসিপিকে নিবে না, এটাই আসল কথা। তবে এনসিপি ছেড়ে দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলে তখন বিএনপি তাদের সাদরে গ্রহণ করবে। কারণ, বিএনপিতে যোগ দিলে এনসিপি নেতাদের গায়ে তখন আর চব্বিশের বিপ্লবী চেতনার গন্ধ থাকবে না।
এনসিপি যদি একটা আসনও না চায়, তবু এনসিপিকে জোটে নিতে পারবে না বিএনপি। কারণ এনসিপি চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল। ভারত কখনোই এনসিপিকে সাপোর্ট করবে না । ভারত যাকে চায় না, বিএনপি তাকে চাইতে পারে না।
সরকারে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ জানিয়ে ছিলেন যে, বিএনপির সঙ্গে জোট না হলে তারা এনসিপিতে যোগ দেবেন না। অর্থাৎ তারা স্পষ্ট করেছিলেন যে কোনমতেই জামায়াতের সঙ্গে জোটে যেতে চান না তারা। অথচ এখন জামায়াতের সঙ্গেই জোট করতে হচ্ছে এনসিপিকে।
এর আগে বিএনপির সঙ্গেও আসন সমঝোতার বিষয়ে এনসিপি আলোচনায় বসেছিল। তবে সেখানে কোনো সুরাহা না হওয়ায় জামায়াতের দিকে দলটি ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে। জামায়াত যেহেতু চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মূল ধারা, সেহেতু এনসিপি এখন জামায়াতকেই সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করছে।
ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সাথেই অন্য দলগুলোর মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হতো। সেখানে সংস্কারের পয়েন্টগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই এনসিপি, জামায়াত এবং অন্য দলগুলো একমত হয়েছে।
Leave a Reply