সেপ্টেম্বরেই মোদী-তারেক বৈঠক : হাসিনাকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

Reporter Name
    সময় : বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
  • ১৩৫ Time View
এফ শাহজাহান :
আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতে এটাই তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর হতে যাচ্ছে।
নির্বাচনের পর তারেক রহমানের প্রথমই ভারত সফরের কথা থাকলেও তিনি তা না করে কৌশলগত কারণে প্রথমে চীন সফর করেছেন। বিদেশ সফর হিসেবে চীনের পর ভারতের এই সফর তাই অনিবার্য হয়ে উঠেছে। আর নানা কারণে এই সফর দুই দেশের জন্যই খুবই গুরুত্ব বহন করছে।
ভারতও খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে তারেক রহমানের আসন্ন সফর এবং নরেন্দ্রমোদীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি। ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের দিল্লি সফর এবং মোদীর সঙ্গে বৈঠকের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সেটাকে কিছুতেই হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না ভারত।
দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অমীমাংসিত নানা বিষয় ছাড়াও ভারতের আশ্রয়ে থাকা ফাঁসির আসামী শেখ হাসিনাকে নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন চলছে , সেটা নিরসনে তারেক রহমানের আসন্ন এই সফরকে একটা মোক্ষম সুযোগ হিসেবে দেখছে ভারত।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ব্রিকসের সদস্য না হলেও বাংলাদেশেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছে।
দিল্লির এই আমন্ত্রন ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে । বিশেষ করে আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই মোদী-তারেক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে একটা বৈঠকের তাগিদ দীর্ঘদিন থেকেই অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের চিন সফরের পর ভারত সফর অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এজন্য ভারতের এই আমন্ত্রনে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া দিবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকের সুযোগ তৈরি হলে সেটা বাংলাদেশের জন্য যেমন গুরত্বপূর্ণ তেমনি ভারতের জন্য আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনর বিষয়টি উভয় দেশের জন্যই দীর্ঘমেয়াদী যে ক্ষত সৃষ্টি করেছে,সেটি সারানোর একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে নরেন্দ্রমোদীর এই আমন্ত্রনে।
ভারতের ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশ সম্মেলনে যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও ভু-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সম্মেলনে বাংলাদেশের উপস্থিত হওয়া না হওয়ার মধ্যে অনেক কুটনৈতিক সমীকরন নির্ভর করছে।
আমেরিকা, ফিলিপাইন ও মলদ্বীপ সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালেই দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট সুত্রগুলো।
তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও জানিয়েছেন, ব্রিকসের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে গেলে অনেকের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ পাবেন তিনি। জাহেদের এই কথায় তারেক রহমানের দিল্লি সফরের যেমন নিশ্চয়তার আভাস রয়েছে,তেমনি মোদী-তারেকের দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকের সম্ভানাও উঠে এসেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য হতে চাইছে। সে দিক থেকে এই ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের যোগ দেওয়া উচিত । তার এই বক্তব্যেও তারেক রহমানের ভারত সফরের নিশ্চয়তার আভাস রয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ ‘ব্রিকস আউটরিচ’ পর্বের আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের আগ্রহও ব্যক্ত করেন।
তিস্তা ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি,সীমান্ত সমস্যাসহ আরো নানা বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বোঝা-পড়া ঝুলে আছে। সেই সব ঝুলে থাকা বিষয়ে একটা সমঝোতায় আসতে চাচ্ছে দিল্লি। একারণেই সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনকে কাজে লাগিয়ে মোদী-তারেকের দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠানে ভারত প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছে।
বাংলাদেশ ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ পেয়ে আসছে। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ এবং ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস আউটরিচে বাংলাদেশ অংশ নেয়। তবে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত আউটরিচ পর্বে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন দুই প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। ভারতও সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে আগ্রহী। এই সুযোগে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী হাসিনাকে ভারত কীভাবে ফেরত পাঠাবে সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বৈঠকে সেই ইস্যুরও একটা সমাধান বের করতে চায় ভারত।
গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, ‘ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নামে পাঠানো আমন্ত্রণ পত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে পৌঁছেছে। সেটি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সবকিছু মিলে আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত বলা যায়। এই সফরে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ঠ অমীমাংসিত বিষয়ের মীমাংসা হোক আর না হোক,দেশের মানুষ চায় পলাতক ফাঁসির আসামী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আনার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার মাধ্যমে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে শাস্তির রায় কার্যকর হোক।
……………………………………….
এফ শাহজাহান
ডিপ্লোম্যাটিক অ্যানালাইসিস
৩১ জুলাই ২০২৬
………………………………………..

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com