সাপাহারে জমে উঠেছে ‘আমের বাজার’

Author আব্দুল আলিম, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
    সময় : শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
  • ৬৬৮ Time View
নওগাঁর সাপাহার বর্তমানে আমের রাজধানী হিসেবে বেশ সুপরিচিত বরেন্দ্র এই উপজেলার নাম। এই উপজেলার উৎপাদিত সুমিষ্ট আম বানিজ্যিক ভাবে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই শীতের তীব্রতা এবং পরবর্তীতে প্রচন্ড তাপদাহের কবলে পড়ে আমের ফলন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে যার ফলে আমের উৎপাদন অনেকাংশে কম হয়েছে। এবার ২২ মে গুটি আম দিয়ে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আম সংগ্রহ এছাড়া ২৮ মে গোপালভোগ ,২ জুন খিরসাপাত/হিমসাগর,৭ জুন নাকফজলি এবং ১০ জুন থেকে শুরু হয়েছে ল্যাংড়া/হাঁড়িভাঙ্গা
ইতোমধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় জমে উঠেছে আমের বাজার । উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে নওগাঁর সাপাহারে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত আম ব্যাবসায়ীগন অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও এসেছেন আম কিনতে।
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আম সুমিষ্ট হওয়ায় দেশের সর্বত্রই এই আমের চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে হাটে ভ্যান, ট্রলি, পিকআপ সহ বিভিন্ন ভাবে আসা আমের বেচা- কেনা চলে এই হাটে।
সাপাহার সদরের টেকনিক্যাল কলেজ থেকে জিরো পয়েন্ট হয়ে দিবরের মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ হয় এই আমের হাট। এবার সাপাহার সদরে ২০০টির অধিক আম আড়ৎ  এ আমের বেচা-কেনা হচ্ছে বলে জানা গেছে । প্রতিদিন এসব আড়ৎগুলোতে ৩থেকে ৫হাজার মন আম কেনা হচ্ছে,তবে চলতি মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখের পর এই বেচা কেনা পরিমাণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন আম ব্যাবসায়ীগন।
আম বিক্রেতা আবু হোসেন জানান, কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি ও তিব্র খরার কারণে উৎপাদন কম হলেও শুরু থেকেই আমের দাম ভাল হওয়ার ফলে সকল খরচ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এবং লাভের পরিমাণ ও ভালো হবে তবে আমের ওজনের ক্ষেত্রে ৫১/৫২ কেজিতে মন হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার দাবিও জানান ।
সাপাহার বাজার আমচাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের বলেন, এবার আমের উৎপাদন অনেকাংশে কম হয়েছে তবে শুরু থেকে আমের ভালো দাম পাচ্ছেন চাষীরা। আমের ওজনের বৈষম্যের বিষয়ে তিনি বলেন আমাদের নিজেদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রশাসনিক ভাবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী  এবার গুটি আম ২২ মে সংগ্রহ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে গোপালভোগ ২৮মে, খিরসাপাত/হিমসাগর ২ জুন, নাগফজলি ৭ জুন, ল্যাংড়া/হাঁড়িভাঙা ১০ জুন, নাকফজলি ২০জুন, আম্রপালি ২২জুন এবং আশ্বিনা/বারি-৪/গৌড়মতি/কাটিমন ১০ জুলাই সংগ্রহ করা হবে।
শুক্রবার  সাপাহার সদর আমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ল্যাংড়া আম ২৩০০শ-৩৫০০শ, নাকফজলি ২৩০০শ-২৬৫০শ, খিরসাপাত ২৫০০শ-৩৬০০ শত টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় এ বছর প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লক্ষ ৩৯ হাজার মেট্রিকটন নির্ধারণ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com