শেরপুর উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ

আব্দুল গাফ্ফার, শেরপুর (বগুড়া) থেকে :
    সময় : সোমবার, জুন ১০, ২০২৪, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
  • ৩৩৮ Time View

বগুড়ার শেরপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফলাফল জালিয়াতি, কারচুপি, জাল ভোট প্রদান, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে। তাই ওই বির্তকিত নির্বাচন বাতিল করে পুর্ননির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে।

রবিবার (০৯জুন) রাতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই দাবি জানান পরাজিত পাঁচ চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাবেক যুবলীগ নেতা এমএ হান্নান (জোড়া ফুল)।

এসময় আরও উপস্থিত পরাজিত ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিধান ঘোষ (টিয়া পাখি), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফাতেমা খাতুন ময়না (কলস), মর্জিনা খাতুন (ফুটবল) ও ফিরোজা খাতুন (প্রজাপতি)।

সংবাদ সম্মেলনে এমএ হান্নান বলেন, নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ইন্ধনে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা পক্ষপাতিত্ব করে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘোষিত ফলাফলের সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের ঘোষণা করা ফলাফলের মিল নেই। অনেক কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সামনেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে।

ফলাফল ঘোষণা করার আগে লিখিত অভিযোগ করা হলেও একতরফাভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী শিখা খাতুনের (হাঁস) পক্ষে ভোট গণনার ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন পরাজিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ভোট গণনা শেষে উপজেলার “পানিসারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” কেন্দ্রে আমার প্রজাপতি প্রতীকে ১৪৪টি ও হাঁস মার্কায় ২৫৩টি ভোট পড়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু উপজেলায় এসে আমার ভোট দেখানো হয়েছে ৬৭টি আর হাঁস মার্কার ভোট ৫১৩টি।

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে আমি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। এরপরও একতরফাভাবে তাকেই ঘোষণা করা হয়।

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বিধান কুমার ঘোষ বলেন, নির্বাচনে তাঁর প্রতীক ছিল টিয়া পাখি। কিন্তু নির্বাচনের আগে তাঁকে যে নমুনা ব্যালট দেওয়া হয়েছিল, ভোটের দিনে সেই ব্যালটের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। তাই ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়েছেন। বিষয়টি মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে পরাজিত এসব প্রার্থীরা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুর্ননির্বাচনের দাবি করেন। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সুমন জিহাদী নির্বাচনে কারচুপি ও ফলাফল জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অনিয়মের বিষয়ে কোনো প্রার্থী আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে ভোটের দিন রাত আটটায় একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমি তৎক্ষণিক সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি। এছাড়া তেমন কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি বলে মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত: বিগত ০৫জুন চতুর্থধাপে এই উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com