এফ শাহজাহান :
পাকিস্তান,তুরস্ক এবং সৌদি আরব মিলে সামরিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে। উদীয়মান অর্থনীতি এবং সামরিক সম্ভাবনাময় এই তিনটি মুসলিম দেশের প্রতিরক্ষা জোট বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকে নতুন করে বিন্যস্তে করছে। সেই সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর সামনে এক নতুন সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে।
পাকিস্তান একমাত্র মুসলিম দেশ, যার পারমাণবিক অস্ত্রাগার রয়েছে। ইসলামী খিলাফতের ঐতিহ্য তুরস্কের রয়েছে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাশিল্প আর বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের রয়েছে বিশাল আর্থিক শক্তি ।
ত্রিমাত্রিক বৈশ্বিক শক্তিমত্তার অধিকারী এই তিন শক্তি মিলে গঠিত হয়েছে নয়া সামরিক জোট। এরফলে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এমন এক প্রানসঞ্চার ঘঠছে যা অদূর ভবিষ্যতে ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলোকে নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেরৈ দিয়েছে।
পবিত্র মক্কা নগরীতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ যৌথ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
এরফলে ইসলামবিরোধী শক্তিগুলোর এখন ঘুম হারাম। বিশেষ করে ভারত ও ইসরাইলের ভয়ঙ্কর মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইসলামী ত্রিশক্তির এই সামরিক জোট। বৈশ্বিক রাজনীতিতে যৌথনিরাত্তাবলয়ের এক নয়া মেরুকরণ ঘটিয়েছে মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত এই সামরিক জোট।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি এবং ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এই জোট রীতিমত আতঙ্ক তৈরি করেছে। অপর দিকে দক্ষিন এশিয়ায় ভারতের একক আধিপত্য বিস্তারের খায়েশ এবং পাকিস্তানকে টেক্কা দেওয়ার স্বপ্নও এখন দু:স্বপ্নে পরিনত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলে একটি বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার লক্ষ্য রয়েছে পাকিস্তানের। যে কারণে ভারত এই সামরিক জোট নিয়ে বেশ দুর্ভাবনায় পড়েছে।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া এই সামরিক জোটকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল। নয়া এই সামরিক সমঝোতার প্রধান লক্ষ্য হল, তিন দেশের কোনও একটিতে যদি শত্রুর হামলা হয়, তবে সেই হামলাকে নিজের উপর হামলা হিসেবেই দেখবে বাকিরা। অর্থাৎ এক দেশে হামলা হলে অন্য দুই দেশ তার পাশে দাঁড়াবে।
এ কারণেই এই ত্রিশক্তির ঐক্যবদ্ধ জোটকে নিজেদের জন্য মারাত্মক হুমকী হিসেবে দেখছে ভারত। এই জোট গঠনে ইতিমধ্যেই ভারতে ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কথায় কথায় পাকিস্তানের দিকে চোখ তুলে তাকাতে ভারতকে এখন সাতবার ভাবতে হবে।
গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ সাগের বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এ ত্রিপক্ষীয় কাঠামো তিনটি দেশের সম্মিলিত কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে এটি অঞ্চলভিত্তিক একটি নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও অবদান রাখবে।’
ক্রমাগত মার খেতে খেতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মুসলিম উম্মাহর এই সামরিক জোট ভবিষ্যতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সক্ষম করে তুলবে ; এমনটাই প্রত্যাশা বিশ্বের ২শ কোটি মুসলমানের।
Leave a Reply