বামের ফাঁদ, নামের ফাঁদ এবং পলাশবাড়ির রামের ফাঁদ

Reporter Name
    সময় : রবিবার, জুন ২১, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
  • ৯৮ Time View
এফ শাহজাহান :
বাংলাদেশে রাজনীতির লীলাখেলায় হর-হামেশাই হরেক রকম ফাঁদের কারবার হয়। এরমধ্যে বামের ফাঁদ,কামের ফাঁদ,নামের ফাঁদ এবং রামের ফাঁদ সবচেয়ে জটিল এবং ভয়ঙ্কর।
এসব ফাঁদের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা এবং তাদের নীতি ও আদর্শকে জিম্মি করা হয়। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা এসব ফাঁদ পেতে বসে থাকেন মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায়।
‘বামের ফাঁদে’ পড়ে আওয়ামী লীগ নষ্ট হয়ে গেছে।
‘কামের ফাঁদে’ পড়ে অনেক বিপ্লবী রিসোর্টে গিয়ে ধরা পড়েছেন।
‘নামের ফাঁদে’ পড়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী মীর শাহে আলম ব্যাপক বদনাম কুড়াচ্ছেন।
‘রামের ফাঁদে’ পড়ে বাংলাদেশটাই এখন ভারতের কারেন্ট জালে আটকে যাচ্ছে।
যখন দেখবেন রাজনৈতিক দলের নেতারা কেউ ‘কামের ফাঁদে আর কেউ ‘নামের ফাঁদে’ আটকে গেছেন,তখন বুঝবেন দেশটা বিদেশী ষড়যন্ত্রের ফাঁদে আটকে যাচ্ছে।
বিএনপি সরকারের সবচেয়ে প্রভাবশালী শাহেনশাহ মন্ত্রী মীর শাহে আলম যখন নামের ফাঁদে পড়ে কাতরাচ্ছেন, আমাদের দেশ তখন পলাশবাড়ির রামের ফাঁদে পড়ে ভয়ঙ্কর এক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের শত্রু প্রতিবেশি ভারত দেশটাকে ‘পলাশবাড়ির রামের ফাঁদে’ আটকে ফেলেছে ।
ভারত থেকে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগকে যখন দখল করার হুমকী দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের ভেতর থেকে চৈতালীরা বাংলাদেশকে ভেঙ্গে আলাদা হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর সাহস দেখাচ্ছেন।
ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির শুভেন্দুরা যখন সেখানকার মুসলমানদের জোর করে বাংলাদেশে তাড়িয়ে দিচ্ছেন এবং বাদবাঁকীদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন,তখন বাংলাদেশী বিজেপিরা গাইবান্দার মুসলমানদের পলাশবাড়ি ছেড়ে অন্যকোথাও চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছেন।
এসবই হচ্ছে সেই সব ফাঁদের লীলা-খেলা। বর্তমানে দেশকে পলাশবাড়ির রামের ফাঁদে ফেলে অস্থিতিশীল করার একটা ফায়দা এঁটেছেন ফন্দিবাজরা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী যখন ভারত-বাংলাদেশকে এক করার খায়েশ দেখাচ্ছেন,তখন রংপুর বিভাগের পলাশবাড়িতে ৮১ ফুট রাম মন্দির নির্মান ইস্যুকে কেন্দ্র করে সারা দেশকে উত্তপ্ত করার মজমা শুরু হয়ে গেছে।
পলাশবাড়ী উপজেলায় একটি বড় রামের মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের বিদ্যমান সামাজিক সম্প্রীতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। এতে করে দেশকে যেভাবে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হচ্ছে তা বুঝতে হলে নিচের তিনটি বিষয়ের প্রতি আপনাকে মনোযোগ দিতে হবে।
এক : ধর্মীয় অধিকার বনাম স্থানীয় ভূ-রাজনীতি
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন ও প্রচারের অধিকার রয়েছে। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির বহিপ্রকাশ হিসেবে যেকোনো স্থাপনা নির্মাণ আইনিভাবে বৈধ। তবে দক্ষিণ এশিয়ার সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্পর্শকাতরতার কারণে এই ধরনের বৃহৎ প্রকল্পগুলো কেবল ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এগুলোর পেছনে বড় কোন ষড়যন্ত্র কাজ করে। পলাশবাড়ির রামকে নিয়েও সেই ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এমন এক সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই নাজুক। ফলে সাধারণ জনগণের মনে প্রশ্ন জেগেছে,এই উদ্যোগটি কি স্রেফ ধর্মীয় ভক্তি থেকে, নাকি এর পেছনে কোনো ধরনের প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা বা মেরুকরণের চেষ্টা রয়েছে?
দুই : সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। এখানে দীর্ঘকাল ধরে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন। তবে যেকোনো বড় ধর্মীয় প্রতীক বা স্থাপনা যখন বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে, তখন তা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি সুযোগ তৈরি করে। আর সেই সুযোগকে কাঝে লাগিয়ে আমাদের শত্রু প্রতিবেশি ভারত তাদের ফায়দা লুটার চেষ্টা করে। এবারেও সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।
স্থানীয় উত্তেজনার জাতীয়করণ, ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে মুহূর্তের মধ্যে জাতীয় সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এই অবস্থা যে কোন সময় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে। তাই এই পরিস্থিতিতে যেকোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য বা গুজব ছড়ানো থেকে উভয় পক্ষকে বিরত রাখা প্রশাসনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
তিন : রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ধর্মীয় ইস্যু
দেশের মূল অর্থনৈতিক সংকট, সুশাসন বা রাজনৈতিক সংস্কারের মতো বড় ইস্যুগুলো থেকে জনগণের মনোযোগ সরিয়ে নিতে এই ধরনের ধর্মীয় বিতর্ককে সামনে আনা হতে পারে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন। আর সেটা যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর নীল নকশার অংশ তাতেও কোন সেন্দহ নেই। এ ছাড়া মেরুকরণের রাজনীতির চাল দিয়ে সমাজকে ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভক্ত করতে পারলে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ফায়দা লোটা সহজ হয়।
রামের ফাঁদ থেকে বের হওয়ার উপায়
দেশকে পলাশবাড়ির রামের ফাঁদে ফেলে যে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করার চেষ্টা হচ্ছে তা থেকে বের হতে এবং বর্তমান উত্তেজনা নিরসন এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়াতে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যেমন-
প্রথমত : স্থানীয় পর্যায়ে সংলাপ
স্থানীয় প্রশাসন, মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ শান্তি কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সম্ভব।
দ্বিতীয়ত : আইনি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চত করা
যেকোনো বড় স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি, ভূমির মালিকানা এবং পরিবেশগত বা সামাজিক প্রভাব খতিয়ে দেখা উচিত। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।
তৃতীয়ত : উস্কানিদাতাদের চিহ্নিতকরণ
যারা এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা রাজপথে উস্কানি দিয়ে দাঙ্গা বা অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে যারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় বা সমাজে দাঙ্গা লাগাতে চায়, তাদের শক্ত হাতে দমন করতে হবে।
চতুর্থত : জিরো টলারেন্স নীতি
উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানকারী, উগ্রপন্থী স্লোগানদানকারী বা সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো ব্যক্তিদের দল-মত বা ধর্মীয় পরিচয় না দেখে সরাসরি আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করলে সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করে।
পঞ্চমত : নিরপেক্ষতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
যেকোনো বহুমাত্রিক বা ধর্মীয় সংবেদনশীল ইস্যুতে যখন সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়, তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশাসন যদি সময়োচিত, নিরপেক্ষ এবং দূরদর্শী ভূমিকা পালন না করে, তবে ছোটখাটো বিতর্কও বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকা। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ, ধর্মীয় আবেগ বা সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু সমীকরণের ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনকে কেবল দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
ষষ্ঠত : আইনি বৈধতা যাচাই
পলাশবাড়ির সেই বিতর্কিত স্থাপনা বা প্রকল্পটির ভূমির মালিকানা সঠিক কিনা, যথাযথ কর্তৃপক্ষের যেমন: পৌরসভা, ইউপি, বা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা, তা দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সাথে খতিয়ে দেখতে হবে। কোনো এক পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে, উভয় পক্ষের আইনি অধিকার ও আপত্তির জায়গাগুলো সমান গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে।
সপ্তমত : দ্রুত ও সক্রিয় সংকট ব্যবস্থাপনা
উত্তেজনা রাজপথে ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রশাসনকে সক্রিয় হতে হবে। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে ঘটনা প্রতিরোধ করা বেশি কার্যকর। পরিস্থিতি যদি সহিংস রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে সাময়িকভাবে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা,যেমন ১৪৪ ধারা জারি বা স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
অষ্টমত : গুজব প্রতিরোধ সেল গঠন
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় তথ্য বা আইসিটি সেলকে সক্রিয় রেখে সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট বা ফেক নিউজ মনিটর করতে হবে এবং দ্রুত তার সত্যতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
নবমত : শান্তি কমিটি গঠন
স্থানীয় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের উদ্যোগে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘সর্বদলীয় শান্তি কমিটি’ গঠন করা যেতে পারে। উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি মধ্যস্থতায় আসতে হবে যা ধর্মীয় স্বাধীনতাকেও ক্ষুণ্ণ করে না, আবার জননিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করে না।
নবমত : গণমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার নিশ্চত করা
তথ্যহীনতা বা তথ্যের অভাব অনেক সময় সন্দেহের জন্ম দেয়। তাই স্থানীয় প্রশাসনের উচিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং বা বিবৃতির মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণকে জানানো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মন্দিরের পুরোহিতদের মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা প্রচারের অনুরোধ করা যেতে পারে।
দশমত : সংকীর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার মানসিকতা বর্জন করা
যেকোনো সংবেদনশীল ইস্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো বিষয়টিকে ভোটের রাজনীতি বা সাময়িক ফায়দা লোটার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা।ধর্মীয় মেরুকরণ করে ভোটব্যাংক নিশ্চিত করার চেষ্টা দেশের দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের এমন কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, যা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করে বা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।
একাদশ তম : সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
যেকোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব কেবল প্রশাসনের ওপর ভরসা না করে, নিজেদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে সংখ্যালঘু পরিবার ও উপাসনালয়গুলোর পাহারা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
দ্বাদশ তম : উস্কানির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি
ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা যেকোনো দেশের সার্বভৌমত্ম এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তাই এ ধরনের ইস্যুতে দলীয় কোন্দল বা কাদা ছোড়াছুড়ি ভুলে দলগুলোর একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে আসা উচিত।যৌথ বার্তা দেওয়া: ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী সব দলের উচিত যৌথভাবে বা আলাদাভাবে এক সুরে শান্তি, পরমতসহিষ্ণুতা এবং আইন-শৃঙ্খলার পক্ষে অবস্থান নেওয়া। নিজের দলের ভেতরেও যদি কোনো চরমপন্থী বা উস্কানিদাতা উপাদান থাকে, দলগুলোকে নিজস্ব শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
একটি গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রে স্থানীয় প্রশাসন কেবল সরকারের আদেশ পালনকারী সংস্থা নয়, বরং তারা মাঠপর্যায়ে রাষ্ট্রের শান্তি ও অখণ্ডতার অভিভাবক। এই ধরনের স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা হতে হবে “লোহার দস্তানা, রেশমি ছোঁয়া” অর্থাৎ, সাধারণ নাগরিক ও শান্তির সপক্ষে তাদের আচরণ হবে অত্যন্ত সহনশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ, কিন্তু আইন অমান্যকারী ও উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান হবে কঠোর ও আপসহীন।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো বড় সামাজিক বা ধর্মীয় সংকট মোকাবিলায় এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে দূরগামী প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী সমাজ, যেখানে ধর্মীয় বা জাতিগত সংবেদনশীলতাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সামাজিক বিভাজন বা অস্থিরতা দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে পঙ্গু করে দিতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com