সাতমাথা ডেস্ক : বগুড়ায় তড়িঘড়ি করে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেশেন্টের শরীরে অন্য গ্রুপের রক্ত দেওয়ায় মোছা. আফরিন জাহান অহনা নামের এক প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহত অহনা বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপালশা এলাকার আব্দুর রশিদের মেয়ে।
নিহত প্রসুতির স্বজনরা জানিয়েছেন গত ২৭ শে মে অহনা নামের গর্ভবতী নারীকে সুস্বাস্থ্য ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক ডা.আলিমুন রেজা জানান যে, এখনই সিজার না করলে বড় ধরনে ক্ষতি হবে। চিকিৎসকের কথায় নিরুপায় হয়ে সেখানেই তারা সিজারিয়ান অপারেশনে রজি হয়ে যান।
বগুড়ার খান্দার এলাকায় সুস্বাস্থ্য ক্লিনিকে ডা.আলিমুন রেজা নামের একজন চিকিৎসকের ভুলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগের পর ক্লিনিক বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক উধাও হয়ে গেছেন। তাদের সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
নিহত অহনার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে,অপারেশনের পর প্রসুতির শরীরে রক্তের প্রয়োজন হলে অহনার রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ বলে জানানো হয় । এটা জানানোর পরেও সেখানকার চিকিৎসক ‘বি পজিটিভি গ্রুপের রক্ত প্রসুতির শরীরে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এভাবে অন্য গ্রুপের রক্ত দেওয়ার পর রোগী ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তড়িঘড়ি করে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ মে অহনা মারা যায়।
নিহত অবনার স্বজনদের দাবি, ভুল রক্তের গ্রুপ প্রদান ও চিকিৎসাগত অবহেলার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সুস্বাস্থ্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্লিনিকটিও বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের বাবা-মা অভিযোগ করেন, ভুল রক্ত প্রয়োগ এবং চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই অহনার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের স্বামী মৃদুল ইসলাম বলেন, “আমরা সুস্থ মা ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসার নামে অবহেলায় আমার স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
এ বিষয়ে বগুড়ার সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply