মো. সাইমুম জাহান
বগুড়ার শিবগঞ্জে রাজমিস্ত্রী শাহ আলম (৩৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ভাবীর পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায় শাহ আলমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ভাবী আরিফা বেগম (৩২) ও তাঁর প্রেমিক শাহিন শেখ ওরফে সায়েমকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শিবগঞ্জ থানা-পুলিশ। এর আগে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার সংসারদীঘি গ্রাম থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া আরিফা বেগম উপজেলার সংসারদীঘি গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী। আবু বক্কর নিহত শাহ আলমের বড় ভাই। অন্যজন একই গ্রামের শাহিন শেখ।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ মে সকালে সংসারদীঘি গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ধানখেত থেকে শাহ আলমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গত ১৭ মে নিহতের মামা হারুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এর পর থেকেই ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। শাহ আলমের বড় ভাই আবু বক্কর কাজের সূত্রে বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকেন। এই সুযোগে আরিফা বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের শাহিন শেখের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি শাহ আলম জেনে যান এবং তাঁদের এই সম্পর্ক বজায় রাখতে নিষেধ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ১৫ মে রাতে শাহিন শেখ আরিফার সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে যান। বিষয়টি টের পেয়ে শাহ আলম একটি হাসুয়া হাতে বাড়ির উঠানে অবস্থান নেন। রাত ১১টার দিকে আরিফা বাড়ির অন্য দরজা দিয়ে শাহিনকে পালানোর সুযোগ করে দেন। এ সময় শাহ আলম টের পেয়ে শাহিনকে ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে শাহ আলম ধানখেতে পড়ে গেলে শাহিন তাঁর হাত থেকে হাসুয়া কেড়ে নেন এবং তা দিয়ে শাহ আলমের মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই শাহ আলমের মৃত্যু হয়।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তরা নিজ নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply