বিপিএল ছাড়াও আরেকটি টি-টুয়েন্টি টুর্ণামেন্ট হচ্ছে!

Reporter Name
    সময় : শনিবার, মে ১৮, ২০২৪, ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
  • ৪৩০ Time View

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয় দুই বছর পরপর। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সারা বছরে ঘরোয়া পর্যায়ে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন মাত্র ১০-১২টি। বাংলাদেশের একমাত্র টি-টোয়েন্টি লিগ বিপিএলের লিগ পর্বে সর্বোচ্চ ১২টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান একেকজন ক্রিকেটার। ফাইনালের দুই দলের খেলোয়াড়েরা খেলতে পারেন সর্বোচ্চ ১৪টি ম্যাচ।

সারা বছর আর কোনো ম্যাচ খেলা হয় না বলে বিপিএলে ছন্দে ফিরতে ফিরতেই চলে যায় ৪-৫টি ম্যাচ। আর বিপিএল যেহেতু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, সেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটের সব পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সুযোগও হয় না। ক্রিকেটে বাংলাদেশের দুর্বলতম সংস্করণও তাই এখনো টি-টোয়েন্টিই।

খুব বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে পারেন না বলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তুষ্টি আছে। এবারের টি-টোয়েন্টি আইপিএলের পাশাপাশি ভারতে আছে সৈয়দ মুশতাক আলী টুর্নামেন্ট, পাকিস্তানে ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি। এসব টুর্নামেন্ট তাদের ক্রিকেট সূচিরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ বাংলাদেশে শুধুই বিপিএল!

তবে এবার হয়তো এই সমস্যা কিছুটা দূর হবে। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটি জাতীয় ক্রিকেট লিগের সঙ্গে প্রতিবছর একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনেরও পরিকল্পনা করছে। প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী ৮ দল নিয়ে ২৯ ম্যাচের ‘জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি’ টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল ম্যাচ খেলবে ৭টি করে, দুই ফাইনালিস্ট দল পাবে ৮টি করে ম্যাচ। টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য ম্যাচ ফি ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা করে। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান আহমেদ সাজ্জাদুল আলম জানিয়েছেন, ২১ মে কমিটির এক সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আগে প্রতিবছরের মতো এবারও অক্টোবরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের আসর জাতীয় লিগ দিয়ে ঘরোয়া মৌসুম শুরু হবে। চার দিনের প্রতিযোগিতা শেষে শুরু হবে ২০ ওভারের জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি। রবিন লিগে ফিরে যাওয়া এবারের জাতীয় লিগে থাকবে না ২০১৫-১৬ মৌসুমে শুরু হওয়া দ্বিস্তর পদ্ধতি। টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ছাড়াও নতুন যোগ হচ্ছে ক্রিকেটার ধরে রাখা ও প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে দল সাজানোর নিয়ম। প্রতিটি দল ৮ জন করে পুরোনো ক্রিকেটার ধরে রাখতে পারবে, বাকি ৬ জনকে দলে নিতে হবে ড্রাফটের মাধ্যমে। চার দিনের ম্যাচের আসর ও টি-টোয়েন্টি—জাতীয় লিগের দুটি টুর্নামেন্টের দলই হবে এই পদ্ধতিতে।

জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টিকে জায়গা করে দিতে পিছিয়ে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)। গত কয়েক বছর জাতীয় লিগের পরে শুরু হয়ে বিপিএলের আগে শেষ হয়েছে বিসিএল এবং সেটা ডিসেম্বরের মধ্যে। এরপর বিপিএল, সব শেষে ঢাকা লিগ দিয়ে এপ্রিল-মে মাসে শেষ হয় ক্রিকেটের ঘরোয়া মৌসুম। বিপিএলের আগে জাতীয় লিগের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হলে বিসিএল নিয়ে যেতে হবে এপ্রিল-মে মাসে। জাতীয় লিগের টি-টোয়েন্টির প্রস্তাবেও বিসিএলের জন্য এই সময়ের কথাই বলা হবে।

ঘরোয়া সূচিতে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট যোগ করা প্রসঙ্গে সাবেক প্রধান নির্বাচক ও বর্তমানে বিসিবির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মিনহাজুল আবেদীন মুঠোফোনে বলেছেন, ‘এ রকম (টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট) একটা কিছু এখন খুবই দরকার। এনসিএলের ৮টা দল যদি টি-টোয়েন্টি খেলে, তাহলে কতগুলো নতুন খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে চিন্তা করুন। সবাই বাড়তি কিছু ম্যাচ পাবে।’

কিন্তু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকে জায়গা দিতে বিসিএলের চার দিনের ম্যাচ পিছিয়ে যে সময়ে হবে, সেই এপ্রিল-মে মাসে প্রচণ্ড গরম থাকে। মিনহাজুল অবশ্য এর একটা ভালো দিকও দেখেন, ‘আমাদের কিন্তু বেশির ভাগ টেস্ট ম্যাচ গরমেই খেলতে হয়। ইংল্যান্ড বা অন্য দেশগুলোতে টানা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা হয় না। মাঝে একটা বিরতিতে অন্য সংস্করণের খেলা হয়। আমরাও সে রকম কিছুই ভাবছি।’

সৌজন্যে- প্রথম আলো

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com