দিল্লি সফর নিয়ে উভয় সংকটে বিএনপি সরকার

Reporter Name
    সময় : শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
  • ৯১ Time View
এফ শাহজাহান :
ভারত সফরে গেলেও সমস্যা না গেলেও সম্যস্যা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ক্ষমতায় বসার পর এই প্রথম সবচেয়ে বড় সংকট পার করছে বিএনপি সরকার। তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা। ভারত সরকারের আমন্ত্রনে সাড়া দিয়ে দিল্লি সফরে গেলে দেশের মাানুষ ক্ষুব্ধ হবেন। সফরে না গেলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরো খারাপ হবে।
তারেক রহমানের এই সফর নিয়ে দুই দেশের মিডিয়াও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ভারতের এনডিটিভির খবরে বলা হচ্ছে, তারেক রহমান চলতি মাসের শেষ সপ্তাহেই ভারত সফর করবেন। তারা এক ধরনের নিশ্চয়তা দিয়েই বলছে যে, ২২-২৩ আগস্ট তারেক রহমানের ভারত সফরের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়েছে। অপরদিকে একই দিনে ভারতের আরেক মিডিয়া ‘দ্য টিব্রিউন’ রিপোর্ট করেছে যে, হাসিনার প্রত্যাপর্ণ ছাড়া তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না। ‘দ্য টিব্রিউন’বলছে ভারত সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একথা জানিয়েও দেওয়া
হাসিনার প্রত্যাপর্ন ছাড়া ভারত সফরে না যাওয়ার জন্য দেশের ভেতরেও ব্যাপক চাপ আছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন রূপরেখা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারতে যেতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থায় আঘাত এসেছে। এ বিষয়ে সরকার একটি প্রেস রিলিজ দেওয়া ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
অপর দিকে তারকে রহমানের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লির মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক। তারা এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং বাণিজ্য, জ্বালানি ও যোগাযোগ জোরদার করতে আগ্রহী। ভারত সরকার মনে করে তারেক রহমানের এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পূর্ণ স্বাভাবিকতার দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ।
ভারতের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশও মনে করে তারেক রহমানের এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পাবলিক সেন্টিমেন্ট এই সফরের পক্ষে না থাকায় মূলত দোটানায় পড়েছে সরকার।
এই দোটানায় সরকারের এখন ‘কুল রাখি না শ্যাম রাখি’ অবস্থা। কাকে বেজার করে কাকে খুশি করবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো নিতে পারছে না সরকার। দিল্লি সফর নিয়ে সরকারের এই দোটানা অবস্থা বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে বিএনপিকে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি ভারতের পক্ষ থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক ও ইতিবাচক করার সংকেত।
চলতি বছরের এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করেন। তখন দুপক্ষ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। এরপর ভিসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে চালু হয়, যাত্রীবাহী বাসসেবা পুনরায় শুরু হয় এবং জ্বালানি সংকটে ভারত বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করে।
জুনে মন্ত্রী পদমর্যাদায় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে আসেন সে দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী। তার নিয়োগের মাধ্যমে ভারত কূটনৈতিকভাবে রাজনৈতিক সমাধান দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করা হয়।
বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েন কাটিয়ে স্বাভাবিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফর দুই দেশের জন্য বেশি কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করছেন কুটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি সরাসরি আলোচনায় বসতে পারবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন,শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ, গঙ্গা চুক্তি নবায়নে রাজনৈতিক আলোচনা, তিস্তা নিয়ে আলোচনাসহ দুই বছরের বাণিজ্যিক বাধা দূর করা, মানুষের যোগাযোগ সহজ করার মতো বিষয়গুলোতে অগ্রগতি সম্ভব।
এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পন ইস্যু। হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দুপক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরির সুযোগ থাকবে এ সফরে। ফলে তারেক রহমানের দিল্লি সফর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভারত সফরে না গেলে দুই দেশের বিদ্যমান সমস্যা আরো বাড়বে। আবার ভারত সফরে গেলে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের চেতনার পক্ষের শক্তির কাছে আস্থা হারাবে। এতে করে বিএনপির জনসমর্থনও অনেকটা কমে যাবে। জুলাই শহীেদের রক্তের দাগ না শুকাতেই বিএনপি এই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস পাচ্ছে না।
সবকিছু মিলে তারেক রহমানের ভারত সফরে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে বিএনপি আসলে ফাটা বাঁশের চিপায় আটকে যাওয়ার মতো অবস্থায় পড়েছে।
…………………………………….
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
১৫ আগস্ট ২০২৬
…………………………………….

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com