জমি খারিজে ঘুষের কারবার : অভিযোগেও মিলে না প্রতিকার

Reporter Name
    সময় : শুক্রবার, জুলাই ৩১, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
  • ১৮০ Time View
এফ শাহজাহান :
নানা প্রয়োজনে জমি খারিজ করা জরুরী হয়ে পড়ে। আর সেজন্য প্রতিবেদন নেওয়ার জন্য যেতে হয় সংশ্লিষ্ট এলাকার ভুমি অফিসে। জমি খারিজের জন্য ভূমি অফিসে গেলেই শুরু হয় ঘুষের কারবার। এটা আজ নতুন নয়। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই অনিয়ম এখন যেনো রীতিমত নিয়মে পরিনত হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও মিলছে না প্রতিকার।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়ন ভুমি অফিসে জমি খারিজ করার জন্য প্রতিবেদন নিতে গিয়ে গ্রাহকরা নানা হয়রানি এবং উৎকোচ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে জমি খারিজ করতে গিয়ে একজন আইনজীবী হয়রানির শিকার হয়ে এসব অনিয়মের প্রতিকার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি হয়রানি এবং ঘুষ দাবির বিয়টির প্রতিকার চেয়ে কাহালু উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা,বগুড়া জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ বগুড়া জেলা জজ কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। তিনি মো. মতিয়ার রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে কবলা দলিল মুলে ক্রয়কৃত সম্পত্তির নামজারি বা খারিজের জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর যে সব হয়রানির শিকার হয়েছেন তা উল্লেখ করে কাহালু উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এবং বগুড়া জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সেই অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার জন্য বীরকেদার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে বীরকেদার ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান সাইফুল তার আবেদনকৃত জমির আনুপাতিক হারে খাজনা গ্রহণ করিতে অস্বীকার করেন এবং প্রতিটি আর.এস খতিয়ানের মোট জমির বকেয়া ও চলতি খাজনাসহ মোট ৩লাখ ১৪ হাজার ১৮৩ টাকা পরিশোধের দাবি জানান। তার দাবিকৃত অনাদেয় খাজনা দাবির মাধ্যমে তিনি আমাকে বিপদে ফেলে উৎকোচ গ্রহণের প্রচেষ্টা করেছেন।
ভুক্তভোগী তার লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করেছেন, কাহালু থানাধীন বীরকেদার ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান সাইফুল তার মনগড়া ভাবে খারিজ আবেদনকারীকে আর.এস খতিয়ানের মূল মালিকের সম্পূর্ণ জমির খাজনা পরিশোধের অজুুহাতে খারিজ আবেদনকারীকে বেকায়দায় ফেলে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, খারিজ আবেদনের প্রেক্ষিতে আবেদনকারীর নামে নতুন হোল্ডিং খুলে খাজনা পরিশোধ করা যুক্তিসঙ্গত হলেও, বীরকেদার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি মো. মতিয়ার রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে কবলা দলিল মূলে ক্রয়কৃত সম্পত্তির নামজারি বা খারিজের জন্য অনলাইনে আবেদন দাখিল করি। যার ই-নামজারি আবেদন নম্বর ৯১২৯৬৯৪ তারিখ ইং ২২.০৬.২০২৬।
উক্ত খারিজ প্রতিবেদনের জন্য বিগত ২৫.০৬.২০২৬তারিখে সংশ্লিষ্ট বীরকেদার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে বীরকেদার ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আমার আবেদনকৃত জমির প্রতিটি আর.এস খতিয়ানের মোট জমির বকেয়া ও চলতি খাজনা পরিশোধ করার দাবি জানান। যার পরিমান ৩ লাখ ১৪ হাজার ১৮৩ টাকা। উক্তরূপ ভাবে অতিরিক্ত ও অন্যায্য খাজনা দাবির মাধ্যমে তিনি আমাকে বিপদে ফেলে উৎকোচ গ্রহণের চেষ্টা করেন।
তিনি আরো জানান, উক্ত সম্পত্তি খারিজের জন্য বিগত ২৩.০২.২০২৬ তারিখে ৮৫৬৮৬৪৪ নং ই-নামজারির আবেদন করেছিলাম। সেই সময় তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে তৎকালীন এসিল্যান্ড সাহেবকে টাকা দিয়া খাজনার পরিমাণ কমাইয়া খারিজ করা সম্ভব। কিন্তু আমি তাতে রাজি না হওয়ায় উক্ত আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
উল্লেখ থাকে যে, উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি খাজনা পরিশোধের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিস্টেমের ত্রুটির কারণ দেখিয়ে আর.এস খতিয়ানের মোট জমির খাজনা পরিশোধের অতিরিক্ত হিসাব দেখাইয়া চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে খারিজ
আবেদনকারীদের নিকট হতে উৎকোচ গ্রহণের চেষ্টা চালান।
অভিযোগকারী জানান,অন্যের মালিকানাধীন, অন্যের দখলভোগকৃত জমির খাজনা আরেকজনকে দিতে হবে কেন?
লিখিত অভিযোগে তিনি বিষয়টি জনস্বার্থে তদন্ত সাপেক্ষে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানসহ ভবিষ্যতে যেন সেবা গ্রহীতাদের এরকম হয়রানি না করা হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানান।
এবিষয়ে বীরকেদার ইউনিয়ন ভুমি অফিসে কর্মরত উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান সাইফুল এই প্রতিবেদককে জানান,অভিযোগকারীর কাছ থেকে ঘুষ দাবি করার বিষয়টি সঠিক নয়। যদি ঘুষ দিয়ে জমি খারিজ করা যেতো, তাহলে তো তিনি খারিজ করেই নিতেন। তবে তিনি যে খতিয়ানের জমি খারিজ করতে এসেছিলেন, সেই খতিয়ানের সকল সম্পত্তির খাজনা দেওয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছিল। এটা আমাদের জারিকৃত পরিপত্রের আলোকে তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি সেই মোতাবেক ঐ খতিয়ানের সকল সম্পত্তির খাজনা পরিশোধ না করার কারণে তার আবেদনকৃত জমি খারিজ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যান্য ভুমি অফিসে খতিয়ানের সকল সম্পত্তির খাজনা একজনকে পরিশোধ করার সিস্টেম না থাকলেও আপনার অফিসে এই সিস্টেম কীভাবে চালু করলেন ? এই প্রশ্নের উত্তরে সাইফুজ্জামান সাইফুল জানান,অন্য অফিসে কী হচ্ছে না হচ্ছে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। ঘোষিত পরিপত্রের নীতিমালা অনুয়ায়ী আমি তাকে খতিয়ানের সকল সম্পত্তির খাজনা পরিশোধের কথা জানিয়েছি। আমার অফিসে এই নিয়মের কোন ব্যতিক্রম করা সম্ভব নয়। জমি খারিজ করতে চাইলে এভাবেই করতে হবে।
বীরকেদার ইউনিয়ন ভুমি অফিসে জমি খারিজ করতে গ্রহকদের হয়রানি এবং ঘুষ দাবির বিষয়ে অ্যাডভোকেট এ কে আজাদের লিখিত অভিযোগ দায়েরে পর সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাগণ কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা এখনো জানা যায়নি।
অভিযোগকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ জানিয়েছেন,তিনি এখন পর্যন্ত তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কোন প্রতিকার পাননি। এই পদ্ধতিতে প্রতিকার না পেলে তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com