সাভার এনাম মেডিকেলে এক মাস যাবত চিকিৎসাধীন
৫ আগষ্ট ২০২৪। লাখ লাখ ছাত্র-জনতার বুকের রক্তে লাল রাজপথ। তীব্র গণআন্দোলনে পিছু হটতে শুরু করেছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার লেলিয়া দেওয়া বাহিনী। দেশের নানা প্রান্ত হতে ছাত্র-জনতার বিজয়ের সুখবর আসছে। ঠিক সেই মুহুর্তে সাভার থানার সামনে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগ। বুলেট বিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন অগণিত মানুষ। দীর্ঘ সময় লড়াই শেষে বিজয় হয় ছাত্র-জনতার। সেদিন পুলিশের বুলেটের আঘাতে ডান পায়ে গুরুতর আহত হন রিকসা চালক আতিকুর রহমান (২৮)।

আন্দোলনকারীরা রক্তাক্ত আতিককে দ্রুত নিয়ে যান এনাম মেডিকেলে। সেখানেই মাসব্যাপী তার চিকিৎসা চলছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের কোন নেতা কিম্বা কোন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা মেলেনি আতিকুরের ভাগ্যে। তিন দফা অপারেশন হলেও এখনো সুস্থ হতে পারেননি তিনি। নিজের এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় সময় কাটছে অহসায় আতিকের।
আতিকুর রহমান বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তাপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম প্রামানিকের বড় ছেলে। বাবা-মা এবং ছোট ভাইকে নিয়ে ঢাকার সাভারে বাস করছেন। একসময় বেক্সিমকোর গার্মেণ্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। চাকুরি চলে যাওয়ার পর রিকসা চালিয়ে সংসার চালান। মূলত: এক সন্তানের জনক আতিক এবং তার ছোট ভাই শাহিনের উপার্জনেই চলে সংসার। শাহিন গার্মেন্টস কর্মি। তিন মাস যাবত সেও বেতন পায় না। ফলে বড় ভাই আতিকের উপার্জনেই চলছিল সংসার। ৫ আগষ্ট আতিক বুলেট বিদ্ধ হওয়ার পর থেকে চরম দূর্বিষহ জীবন যাপন করছে পুরো পরিবার।

ছাত্র-জনতা যখন বিজয়ের এক মাসপূর্তিতে সারাদেশে শহীদি মার্চ করছে তখন রিকসা চালক আতিকের মত শত শত আহত মানুষ হাসপাতালে অসহ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার কতা বলা হলেও বাস্তবে তা অনেকের ভাগ্যেই জুটছেনা। বুলেট বিদ্ধ আতিকের ছোট ভাই শাহিন জানায়, ‘টেলিভিশনে সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাহায্যের কথা শুনলেও এখনো কোন সহযোগিতা পাইনি। এমনকি চিকিৎসা সহায়তার কথা বলে অনেকে আতিকের ছবি নিলেও আতিকের ভাগ্যে একটা টাকাও জোটেনি।’
একদিকে সংসার চালানো অন্যদিকে ভাইয়ের চিকিৎসার জোগান দিতে নাজেহাল ছোট্র শাহিন। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের প্রতি ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছে।
জাতির ঘাড়ে চেপে বসা শেখ হাসিনা নামের জগদ্দল পাথর সরাতে যারা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে সেইসব বীরদের অবশ্যই স্মরণে রাখা জাতির কর্তব্য। শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি অসুস্থ বীরদেরও খোঁজ নিতে হবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে তাদের জন্য। রিকসা চালক আতিকুরের সহযোগিতার জন্য তার ছোট ভাইয়ের ০১৩২৩-৭৩৪৬৩৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
Leave a Reply