মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক :
হিজরী বর্ষের দ্বাদশ এবং সর্বশেষ মাস জিলহাজ্জ। মুসলিম উম্মাহর নিকট এ মাসটি অত্যন্ত মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ মাসেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অদম্য বাসনা নিয়ে সারা বিশ্বের সক্ষম ও সামর্থবান মুসলমানেরা পবিত্র হাজ্জব্রত পালন করেন। শুধু তাই নয়; এ মাসে রয়েছে ইসলামের আরো দু’টি শাশ্বত বিধান তথা কুরবানী ও ঈদুল আজহা। যা মুসলিম উম্মাহর মাঝে তাক্বওয়া সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের ঈমানী চেতনাকে করে অধিকতর শাণিত। আল্লাহ তাআলার নৈকট্যলাভ, আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য, সাম্য, মৈত্রী, ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও তাক্বওয়ার সুমহান মহিমায় ভাস্বর কুরবানী। কুরবানী আমাদের আদি পিতা আদম (আ) ও তদীয় পুত্র হাবিল-কাবীল এবং মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম (আ) ও তদীয় পুত্র ইসমাঈল (আ) এর সুমহান আত্মত্যাগ এবং আল্লাহ তাআলার প্রতি অবিচল আস্থা-ভরসা ও জীবনের সর্বস্ব সমর্পণের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সমন্বয়।
কুরবানীর পরিচয়
আরবী ‘কুরব’ বা ‘কুরবান’ ও ‘কুরবাতুন’ শব্দটি উর্দূ ও ফার্সীতে কুরবানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যার অর্থ, নৈকট্য, সান্নিধ্য। আল কুরআন, সহীহ হাদীস ও অভিধানে এর কয়েকটি সমার্থক শব্দ দেখা যায়। যেমন;
১. নাহর অর্থে; যেমন, আল্লাহ রাববুল ‘আলামীনের বাণী ‘সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। -সূরা আল কাউসার, আয়াত: ২। এ অর্থে কুরবানীর দিনকে বলা হয়।
২. নাসাক অর্থে; যেমন- মহান আল্ল¬াহর বাণী- ‘আপনি বলুন, আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সবই বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদিত’। -সূরা আল আন‘আম, আয়াত: ১৬২।
৩. মানসাক অর্থে; যেমন আল্লাহর বাণী, ‘আমি প্রত্যেক উম্মাতের জন্য কুরবানীর বিধান রেখেছি’। -সূরা আল হাজ্জ, আয়াত: ৩৪।
৪. আজহা অর্থে; হাদীসে এসেছে, এ অর্থে কুরবানীর ঈদকে ঈদুল আজহ বলা হয়।
হাদীসে কুরবানী শব্দটি ব্যবহৃত না হয়ে ‘উযহিয়্যাহ’ এবং ‘যাহিয়্যাহ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
পরিভাষায়: কুরবানী হলো আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ে, নির্দিষ্ট নিয়মে, নির্দিষ্ট পশু যবেহ করা।
কুরবানীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি
বিশ্বের সকল জাতিই তাদের আনন্দ উৎসব প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট দিবস পালন করে থাকে। এ সকল দিবস স্ব স্ব ধর্মের কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনা অথবা কারো জন্ম বা মৃত্যু দিন অথবা কোন ব্যক্তিকে কেন্দ্র্র করে নির্ধারিত হয়েছে। এসব দিবসে প্রত্যেক জাতি তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য-সংস্কৃতি (ঈঁষঃঁৎব) ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়। তামাম বিশ্বের প্রায় দুই কোটি খৃষ্টান যীশুখৃষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বরকে তাদের উৎসবের (ঢসধং ফধু) ‘বড় দিন’ হিসেবে পালন করে। প্রায় সত্তর পঁচাত্তর লাখ বৌদ্ধ গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন উপলক্ষে ২২ মে কে তাদের উৎসবের দিন ‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা’ হিসেবে পালন করে থাকে। সবচেয়ে বেশী উৎসবের দিন হ’ল হিন্দু জাতির। তারা ১২ মাসে ১৩টি উৎসব পালন করে থাকে। তবে এর মধ্যে লক্ষ্মীপূজা ও দুর্গাপূজা অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করা হয়। সারা বিশ্বের প্রায় দেড়শ’ কোটি মুসলমান মাহে রমাজানের শেষে শাওয়ালের প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতর এবং যিলহাজ্জ মাসের ১০ তারিখকে ঈদুল আজহা বা কুরবানীর ঈদ পালন করে থাকে। মুসলমানদের এ কুরবানীর ঈদের রয়েছে একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।
প্রত্যেক উম্মাতের কুরবানীর সংস্কৃতি ছিল
মানব সভ্যতার সুদীর্ঘ ইতিহাস প্রমাণ করে যে কুরবানীর বিধান যুগে যুগে সব শরীয়তেই বিদ্যমান ছিল। আর এসবের উদ্দেশ্য ছিল তাক্বওয়া অর্জন ও আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি। তাক্বওয়া লাভ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কুরবানী করা, ত্যাগ স্বীকার করা, উৎসর্গ করা ইত্যাদির নাম হচ্ছে কুরবানী। কুরবানীর এ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি শুধু মুসলমান সমাজের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রত্যেক নবী-রাসূলের উম্মাতের ওপর কুরবানীর বিধান ছিল। অন্যান্য নবী-রসূলদের যুগেও কুরবানীর ইতিহাস পাওয়া যায়। তবে সব নবী-রাসূলের কুরবানীর পদ্ধতি এক নয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানীর নিয়ম করে দিয়েছি; তিনি তাদের জীবনোপকরণস্বরূপ যে সকল চতুষ্পদ পশু দিয়েছেন, সেগুলোর ওপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারন করে। তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ; সুতরাং তাঁরই নিকট আত্মসমর্পন করো এবং সুসংবাদ বিনীতদের জন্য।” -সূরা আল হাজ্জ, আয়াত: ৩৪।
কুরবানী ঈদের প্রাক ইতিহাস
আমরা যেভাবে কুরবানীর ঈদ উদযাপন করি তার শুরু বস্তুত হিজরতের অব্যবহতি পরে। ঈদুল আজহা তথা কুরবানী দিবসের মাহাত্ম্য ও সুমহান তাৎপর্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে হ’লে এর ইতিহাস জানা একান্তভাবেই প্রয়োজন। মুহাম্মাদ (সা) মাক্কা থেকে মাদীনায় হিজরত করেন। মাদীনায় এসে তিনি জানতে পারলেন যে, সেখানকার অধিবাসীগণ শরতের পূর্ণিমায় ‘নওরোজ’ ও বসন্তের পূর্ণিমায় ‘মিহিরজান’ নামে দু’টি উৎসব প্রতিবছর উদযাপন করে থাকে। কিন্তু এ দু’টি উৎসবের চালচলন, রীতিনীতি ছিল ইসলামের সুমহান আদর্শ ও ঐতিহ্য-সংস্কৃতির পরিপন্থি। শ্রেণী-বৈষম্য, ধনী-দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান, ঐশ্বর্য-অহমিকার পূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করত এ দু’টি উৎসব। দু’টি উৎসব ছিল ছয়দিন ব্যাপী এবং এ বারোটি দিন ভাগ করে দেয়া হ’ত বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনদের মধ্যে।
ইসলাম হচ্ছে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মিলনের সুমহান পুরিপূর্ণ এবং ভারমসাম্যপূর্ণ জীবনাদর্শ। সাম্য, মৈত্রী, প্রেম-প্রীতির মতাদর্শ। ইসলাম শ্রেণীবৈষম্যের স্বীকৃতি দেয় না। তাই শ্রেণীবৈষম্য নির্ভর শালীনতা-বিবর্জিত উৎসব দু’টির বিলুপ্তি ঘটিয়ে মনুষ্য সৃষ্ট কৃত্রিম পার্থক্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ধনী-দরিদ্রের মহামিলনের প্রয়াসে মহানাবী (সা) প্রবর্তন করলেন দু’টি উৎসব তথা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা বা কুরবানীর ঈদ। সহীহ হাদীসে এসেছে, “আনাস ইবন মালিক (রা) হ’তে বর্ণিত, নবী করীম (সা) মাদীনায় আগমনের পর দেখলেন মাদীনাবাসীদের দু’টি উৎসবের দিন রয়েছে, এ দিনে তারা খেলাধুলা, আনন্দ ও চিত্তবিনোদন করে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ দু’টি দিন কি? তারা বলল, জাহেলী যুগে আমরা এদিনে আনন্দ উৎসব, খেলাধুলা করতাম। রাসূল (সা) তখন বললেন, আল্লাহ তা‘আলা এই দুই দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুইটি দিন তোমাদেরকে দান করেছেন। একটি হ’ল ঈদুল ফিতর অপরটি হ’ল ঈদুল আজহা তথা কুরবানীর ঈদ।” -সুনানু আবু দাউদ, হাদীস ১১৩৬; সুনানু নাসায়ী, হাদীস ১৫৫৬; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ১২০০৬, ১৩৬২২; আল মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং ১০৯১; শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ৩৭০৯; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ১৪৩৯; সিলসিলাতুস সহীহাহ হাদীস নং ২০২১। এতে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল ‘নওরোজ’ ও ‘মিহিরজান’ উৎসব উদযাপন। শ্রেণী বৈষম্য-বিবর্জিত, পঙ্কিলতা ও অশালীনতামুক্ত সুনির্মল আনন্দ উপভোগ ও ইবাদতের ফল্গুধারা শুরু হ’ল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা তথা কুরবানীর ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে।
কুরবানীর প্রথম পটভূমি
মানব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বপ্রথম কুরবানীর ঘটনা ঘটে আদম (আ) এর দুই পুত্র হাবিল-কাবীলের মাধ্যমে। কুরআনুল কারীমে হাবিল-কাবীলের কুরবানীর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে; “(হে রাসূল!) আপনি তাদেরকে আদমের পুত্রদ্বয়ের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়েই কুরবানী করেছিল, তখন একজনের কুরবানী কবুল হ’ল এবং অন্যজনের কুরবানী কবুল হলো না। সে (কাবীল) বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন (হাবিল) বলল, অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকীদের কুরবানী কবুল করেন। সে (হাবিল) বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যা করতে আমার দিকে হাত প্রসারিত কর, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার প্রতি হাত প্রসারিত করব না। কেননা আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।” সূরা আল মায়িদা, আয়াত: ২৭-২৮
তৎকালীন সময়ে কুরবানী কবুল হওয়ার একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন ছিল এই যে, আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে কুরবানীকে ভস্মিভূত করে দিত। যে কুরবানী অগ্নি এসে ভস্মিভূত করত না তাকে প্রত্যাখ্যাত মনে করা হ’ত। তখনকার কুরবানীর পদ্ধতি সম্পর্কে জনা যায়, কাবিল ছিলো চাষী। তিনি গমের শীষ থেকে ভালগুলো বের করে নিয়ে খারাপগুলোর একটি আটি কুরবানীর জন্য পেশ করেন। আর হাবিল ছিলেন পশুপালনকারী। তিনি তার জন্তুর মধ্যে থেকে সবচেয়ে ভাল মোটা তাজা উৎকৃষ্ট একটি দুম্বা কুরবানীর জন্য পেশ করেন। এরপর নিয়মানুযায়ী আকাশ থেকে অগ্নিশিখা এসে হাবিলের কুরবানীটি ভষ্মীভূত করে দিল। আর কাবিলের কুরবানী যথাস্থানেই পড়ে থাকল। -তাফসীর ইবন কাসীর, ৩য় খণ্ড, পৃ: ৮২-৮৩; তাফসীরে দুররে মনসূর, ৩য় খণ্ড, পৃ: ৫৪; ফতহুল বায়ান, ৩য় খণ্ড, পৃ: ৪৫; ফতহুল ক্বাদীর, ২য় খণ্ড, পৃ: ২৮-২৯।
এ অকৃতকার্যতায় কাবীলের দুঃখ ও ক্ষোভ আরও বেড়ে গেল। সে আত্মসংবরণ করতে পারল না এবং প্রকাশ্যে হাবিলকে বলে দিল ‘অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করব’। হাবিল তখন ক্রোধের জবাবে ক্রোধ প্রদর্শন না করে একটি মার্জিত নীতিবাক্য উচ্চারণ করল। এতে কাবীলের প্রতি তাঁর সহানুভূতি ও উদারতা ফুটে উঠেছিল। তিনি (হাবিল) বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মুত্তাকী ব্যক্তিদের কুরবানী কবুল করেন।
কুরবানীর দ্বিতীয় পটভূমি
কুরবানীর সর্বপ্রথম প্রচলন আদি পিতা আদম (আ) এর সময় থেকে শুরু হ’লেও মুসলিম জাতির কুরবানী মূলতঃ ইবরাহীম খলীলুল্লাহ (আ) এবং তদীয় পুত্র ইসমাঈল যবীহুল্লাহ (আ) এর কুরবানীর স্মৃতি রোমন্থন ও অনুকরণ অনুসরণে চালু হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন অগ্নি পরীক্ষা নিয়েছিলেন ইবরাহীম (আ) এর নিকট থেকে। তিনি প্রতিটি পরীক্ষায় হিমাদ্রীসম ধৈর্য ও ত্যাগের মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বাণী, ‘যখন ইবরাহীম (আ) কে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পুরোপুরি পূর্ণ করলেন, তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে মাবনজাতির নেতা বানিয়ে দিলাম। সূরা আল বাক্বারা, আয়াত: ১২৪।
ইসমাঈল (আ) যখন চলাফেরা করার মত বয়সে উপনীত হ’লেন, তখন ইবরাহীম (আ) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্রকে কুরবানী করার জন্য স্বপ্নাদিষ্ট হ’লেন। একথা সর্বজন স্বীকৃত সহীহ হাদীসে এসেছে, “নবীগণের স্বপ্নও ওহি”। -সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৩৫, ৮১২; আল জামিঈ লিত তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬২২; আল মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং ৩৫৭২, ৮৩১২; আল মু’জামুল কবীর, হাদীস নং ১২১৩৬; দালাইলুন নবুওয়্যাত, হাদীস নং ২৬২৫; মুসনাদুল হুমাইদী, হাদীস নং ৫০২; আসসিলসালাহুত সহীহাহ, হাদীস নং ২৬৬৮। সনদ: সহীহ
তাই এ স্বপ্নের অর্থ ছিল, আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে ইবরাহীম (আ) এর প্রতি স্বীয় পুত্র ইসমাঈল (আ) কে কুরবানী করার নির্দেশ। এ নির্দেশটি সরাসরি কোন ফিরিশতার মাধ্যমেও নাযিল হ’তে পারত। কিন্তু স্বপ্ন দেখানোর তাৎপর্য হ’ল, ইবরাহীম (আ) এর আনুগত্য পূর্ণমাত্রায় প্রকাশ পাওয়া। স্বপ্নে প্রদত্ত আদেশের ভিন্ন অর্থ করার যথেষ্ট অবকাশ ছিল। কিন্তু ইবরাহীম (আ) ভিন্ন অর্থের পথ অবলম্বন করার পরিবর্তে আল্লাহর আদেশের সামনে মাথা নত করে দেন। আত্মসমর্পণকারী ইবরাহীম (আ) এ কঠোর পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। তিনি পুত্র ইসমাঈলকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে যবেহ করছি। এ বিষয়ে তোমার অভিমত কি?” পুত্র ইসমাঈল (আ) পিতার এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বলতে পারতেন এটি একটি নিছক স্বপ্ন বৈ কিছুই নয়। কিন্তু তিনি তা না বলে অত্যন্ত বিনয় ও আনুগত্যের সাথে স্বীয় পিতাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, “পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা পালন করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারীদের মধ্যে পাবেন।” -সূরা আস সাফফাত, আয়াত: ১০২
আত্ম নিবেদনের এ কি চমৎকার দৃশ্য! জনমানবহীন মিনা প্রান্তরে ৯৯ বছরের বৃদ্ধ ইবরাহীম (আ) স্বীয় প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র ইসমাঈলকে কুরবানী করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে এবং তাঁরই আনুগত্য ও ভালোবাসা অর্জন করার দুর্ণিবার আগ্রহে পুত্রকে কুরবানীর মেষের মতই উপুড় করে শুইয়ে দিলেন। আর কণ্ঠনালীকে কাটার জন্য বার্ধক্যের শেষ শক্তি জমায়েত করে শাণিত ছুরি তুলে ধরলেন। পুত্র ইসমাঈল (আ)ও শাহাদতের উদগ্র বাসনা নিয়ে নিজের কণ্ঠকে বৃদ্ধ পিতার সুতীক্ষ্ন ছুরির নিচে স্বেচ্ছায় সঁপে দিলেন। এ এক অভাবনীয় দৃশ্য! পৃথিবীর জন্ম থেকে এমন দৃশ্য কেউ অবলোকন করেনি। এ দৃশ্য দেখে পৃথিবী যেন থমকে দাঁড়ায়। পৃথিবীর সকল সৃষ্টি যেন অপলক নেত্রে চেয়ে থাকে এ চরম পরীক্ষার দিকে। সকল সৃষ্টিই যেন নিথর নিস্তব্ধ হয়ে যায় এ দৃশ্য অবলোকনে। কিন্তু না কঠিন আত্মত্যাগী ইবরাহীম (আ)ও চরম আত্মোৎসর্গকারী ইসমাঈল (আ) এ কঠিন ও চূড়ান্ত পরীক্ষায়ও কামিয়াব হলেন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা হ’ল; “তখন আমি তাঁকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহীম! তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই এটা একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি এর পরিবর্তে যবেহ করার জন্য দিলাম এক মহান পশু।” সূরা আস সাফফাত, আয়াত: ১০৪-১০৭
বিশ্ব নিয়ন্তা আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (আ) এর প্রতি সদয় হ’লেন। ইসমাঈলের রক্তের পরিবর্তে তিনি পশুর রক্ত কবুল করলেন। আর ইবরাহীম (আ) এর পরবর্তী সন্তানদের জন্য কুরবানীর সুন্নাতকে জারি রাখলেন। আত্মত্যাগ ও আত্মসমর্পণের এ মহান স্মৃতিকে চির জাগ্রত করার জন্যই ১০ যিলহাজ্জকে আল্লাহ চির স্মরণীয় ও বরণীয় করেছেন। জন্ম থেকে জীবনের ৯৯ বছর ধরে একের পর এক পরীক্ষায় যখন আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (আ) এর প্রতি সন্তুষ্ট হ’লেন, তখন তাঁর এ সুমহান কীর্তি পৃথিবীর সকল মুসলমানের জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবিস্মরণীয় ও স্থায়ী করে দিলেন। আল্লাহর বাণী, “আমি তাঁর জন্য এ বিষয়টি পরবর্তীদের জন্য পালনীয় করে রেখেছি।” সূরা আস সাফফাত, আয়াত: ১০৮
আজও আমরা সেই ইবরাহীমী সুন্নাতের অনুসরণেই প্রতি বছর যিলহাজ্জ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে আল্লাহর রাহে পশু কুরবানী করে থাকি। এটি মুসলিম মিল্লাতের অন্যতম একটি অনুপম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। ক্বিয়ামত পর্যন্ত এ মহান আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতা চলমান থাকবে।
মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে কুরবানী
মুসলিম জাতি যেহেতু শেষনবী মুহাম্মাদ (সা) এর উম্মাত, সেহেতু তাঁর সুন্নাত বা ঐতিহ্য সংস্কৃতি ছাড়া অন্য কারো ঐতিহ্য-সংস্কৃতি লালন-পালন করার সুযোগ নেই, একমাত্র ইবরাহীম (আ) এর ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ব্যতীত। কেননা তিনি মুসলিম উম্মাহর পিতা। এ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জাগরুক রাখতে আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন, “আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।” সূরা আল কাউসার, আয়াত: ২
মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশ ও জনপদে কুরবানীর ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদার সাথে উদযাপন করা হয়। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, লেখা-পড়া ও চাকুরীর জন্য বাড়ী থেকে দূর-দূরান্তে অবস্থান করা মানুষগুলো পরিবার-পরিজনের সাথে কুরবানীতে অংশগ্রহণের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হ’লেও বাড়ীতে চলে আসে। শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্রই সাজ-সাজ রব পরিলক্ষিত হয়। ধনী-দরিদ্র, ইতর-ভদ্র, রাজা-প্রজা সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলেই খোলা আকাশের নীচে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের সালাত আদায় করে। সালাতের পর সকলে একসাথে কুরবানী করে কুরবানীর গোশত গরীব-দুঃখী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিতরণের যে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তা সত্যিই অবিস্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ।
কুরবানীর শরয়ী বিধান
কুরবানীর শরয়ী বিধানের বিষয়ে ‘আলিমগণের দু’টি মত রয়েছে। যথা-
১. ওয়াজিব: হানাফী মাজহাব অনুযায়ী সামর্থবানদের ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব। তাঁদের দলীল-কুরআনুল কারিমের ভাষায়: ‘সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য সালাত এবং কুরবানী আদায় করুন।” সূরা আল কাউসার, আয়াত: ০২।
সহীহ হাদীসে এসেছে, “আবু হুরাইরা (রা) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ (সা) বলেন; কুরবানী করার সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যে কুরবানী করল না সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটে না আসে।” সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩১২৩; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ৮২৫৬, ৮২৭৩; শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ৭৩৩৪; সুনানুদ দারি কুতনী, হাদীস নং ৩৫, ৫৩; আল মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং ৭৫৬৫, ৭৫৬৬; সুনানুদ দারি কুতনী, হাদীস নং ৫৩; কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফয়াল, হাদীস নং ১২১৫৯; শুয়াবুল ঈমান, ৭৩৩৪; সুনানুল বাইহাক্বী আল কুবরা, হাদীস নং ১৮৭৯২; সহীহ তারগীর ওয়াত তারহীব, হাদীস নং ১০৮৭; বুলুগুল মারাম ফী আদিল্লাতিল আহকাম, হাদীস নং ১৩৪৮। সনদ: সহীহ ও হাসান
২. সুন্নাতে মুয়াক্কাদা: জমহুর উলামাগণের মতে কুরবানী করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। তাঁদের দলীল; “উম্মুল মু’মিনীন উম্মু সালামা (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সা) বলেন: তোমরা যখন জিলহাজ্জের চাঁদ দেখবে এবং তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছে পোষণ করবে তাহলে সে যেন (চাঁদ উদিত হওয়া হতে কুরবানী পর্যন্ত) তার চুল ও নখ কাটা হতে বিরত থাকে।” সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫২৩৪; ৫২৩৬; আল জামিঈ লিত তিরমিযী, হাদীস নং ১৫২৩; সুনানু আবী দাউদ, হাদীস নং ২৭৯৩; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৫৯১৬, ৫৯১৭; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ২৬৬৫৪; সুনানুন নাসাঈ, হাদীস নং ৪৩৬১; আল মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং ৭৫১৮; আল মু’জামুল কবীর, হাদীস নং ৫৫৭; সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩১৫০; শারহু মাআনিল আছার, হাদীস নং ৫৭৮১; শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ৭৩৩১; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ১৪৫৯। সনদ: সহীহ
তাদের মতে, এখানে তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছে পোষণ করবে’ দ্বারা কুরবানী করাকে আবশ্যক বুঝানো হয়নি বরং সুন্নাতে মুয়াক্বাদা সাব্যস্ত হতে পারে।
যাদের জন্য কুরবানী ওয়াজিব
যিলহাজ্জ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক হতে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে তার জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব, তবে এ ক্ষেত্রে যাকাতের ন্যায় বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়। নিসাব বলতে হাওয়ায়েজে আসলিয়াহ তথা নিত্যপ্রয়োজনীয় ধন-সম্পদ বাদ দিয়ে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রৌপ্য বা তার সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তাহলে এ জাতীয় প্রত্যেক মুসলিম (নর-নারী), প্রাপ্তবয়স্ক, মুকিম, হাজ্জরত না থাকা ও সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন ব্যক্তির ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
কুরবানীর ফজীলত
কুরবানী ইসলামের অন্যতম নিদর্শন। ইসলামে এর গুরুত্ব ও ফজীলত অপরিসীম। হাদীসে এসেছে, যায়িদ ইবন আরকাম (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম অথবা তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে রাসূল (সা)! এ কুরবানী কী? তিনি বলেন: ইহা তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আ) এর সুন্নাহ। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, এতে আমাদের জন্য কী (উপকারিতা) রয়েছে? তিনি বলেন, (কুরবানির পশুর) প্রত্যেকটি পশমের বিনিময়ে তোমাদের জন্য সওয়াব রয়েছে। -সুনানে আবু দাউদ, সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩১২৭; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ১৯২৮৭; আল মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং ৩৪৬৭; আল মু’জামুল কবীর, হাদীস নং ৫০৭৫; সুনানুল বাইহাক্বী, হাদীস নং ১৮৭৯৬; শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ৭৩৩৭; কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফয়াল, হাদীস নং ১২২৩৩, ১২৭০২; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ১৪৭৬। সনদ: এক সনদে হাসান ও অন্য সনদে জঈফ।
অন্য হাদীসে এসেছে, “আয়িশা (রা) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘কুরবানীর দিন আল্লাহর নিকট বনী আদমের পশু যবেহ অপেক্ষা অন্য কোন আমল অধিক পছন্দনীয় নয়। কিয়ামতের দিন কুরবানিকৃত পশুর পশম, খুর ও শিংসহ উপস্থিত হবে।” আল জামি লিত তিরমিযী, হাদীস নং ১৪৯৩; আল মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং ৭৫২৩; কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফয়াল, হাদীস নং ১২১৫৩; শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ৭৩৩৩; সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩১২৬; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ১৪৭০। সনদ: হাসান ও জঈফ
কুরবানী শুধুমাত্র তাক্বওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই
একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম (আ) আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী প্রিয়পুত্র ইসমাঈল (আ) কে কুরবানী করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে চরম ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন সে ত্যাগের সুন্নাতকে জারি রাখার জন্যই ঈদুল আজহাতে পশু কুরবানী করতে হয়। সেহেতু কুরবানীর উদ্দেশ্য হলো তাক্বওয়া অর্জন ও আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন। সকল রকমের লৌকিকতা পরিহার, কুপ্রবৃত্তির দমন ও পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টির মানসে তাক্বওয়ার গুণাবলী অর্জন করাই কুরবানীর উদ্দেশ্য। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “কখনোই আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না কুরবানীর পশুর গোশত ও রক্ত বরং পৌঁছায় তোমাদের তাক্বওয়া। তিনি তাদেরকে তোমাদের জন্য এমনভাবে অনুগত করে দিয়েছেন, যাতে তাঁর দেয়া পথনির্দেশনার ভিত্তিতে তোমরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। আর হে নবী! সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দিয়ে দাও।” সূরা আল হাজ্জ, আয়াত: ৩৭
অর্থাৎ কুরবানীদাতা যেন আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কুরবানী করে। আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গ করার জযবায় উজ্জীবিত হওয়া, ইবরাহীমের পুত্র কুরবানীর ন্যায় ত্যাগ-পূত আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ করা ও তাঁর বড়ত্ব প্রকাশ করাই কুরবানী প্রকৃত তাৎপর্য ও শিক্ষা।
পশু কুরবানী করা হবে কেবল আল্লাহর রেজামন্দীর উদ্দেশ্যে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন; “বল আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও মরণ বিশ্বজাহানের প্রতিপালক কেবল আল্লাহর জন্য। তার কোন অংশীদার নেই এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আর আমিই প্রথম মুসলিম।” -সূরা আল আনআম: ১৬২-১৬৩
ইবরাহীম (আ) তাঁর প্রাণপ্রিয় সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় কুরবানীর নির্দেশ পালন করা এবং সে বিধান বাস্তবায়নে তাঁর মানসিকতা আল্লাহর নিকট কবুল হয়েছিল। ইবরাহীম (আ) আল্লাহর নৈকট্য লাভের এ মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করেননি; তাইতো তিনি উপাধি লাভ করেছিলেন ‘খলিলুল্লাহ’ বা অন্তরঙ্গ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইবরাহীম (আ) কুরবানীর মাধ্যমে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা মুসলিম উম্মাহকে যে শিক্ষা দিয়েছে তা হলো ‘কুরবানী শুধু লোক দেখানোর জন্য নয় বরং পশুকে জবাইয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। ঈদুল আজহার অন্যতম একটি কাজ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই পশু কুরবানী করা। এই কুরবানী আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণাধারায় মানবতাকে পুণ্যসিক্ত ও সমৃদ্ধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।
ইসলামিক বিধানে এবং মুসলিম সমাজে কুরবানী বা পশু জবেহ অন্যতম অপরিহার্য ইবাদত হিসেবে গণ্য। এ জন্য জিলহাজ্জ মাসের নির্ধারিত সময়ে বা ঈদ উৎসবে কুরবানী করা হয়। একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কুরবানীর উদ্দেশ্য হলেও কারো কারো কুরবানীতে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। কে কত বড়-দামী পশু কুরবানী করে এ নিয়েও প্রতিযোগিতা হয়। কারো কারো কুরবানীর মধ্যে সম্পদ-অহমিকা প্রকাশ করার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেও অনেককে কুরবানী করতে দেখা যায়। এসব লোক দেখানো কিংবা প্রভাব বাড়ানোর কুরবানী পশুহত্যায় পর্যবসিত হয়। অধিকন্তু দরিদ্র-দুস্ত লোকদেরকে কুরবানীর গোশত দান না করে শুধু নিজেরা ভোগ করার পরিণতিও একই। অথচ পার্থিব স্বার্থ ত্যাগ করে শুধু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই কুরবানী করতে হয়। কুরবানীর পশুর আকার বড়-ছোট কিংবা রং-মূল্য বিবেচ্য বিষয় নয়। অনুরূপভাবে বিশুদ্ধ নিয়ত ছাড়া কুরবানীও আল্লাহ তাআলার নিকট গৃহীত হয় না। তাই মহান আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য কুরবানীর জন্য বিশুদ্ধ নিয়তের প্রয়োজন হয় এবং ত্যাগের প্রবল সাধনা থাকতে হয়।
আপাত দৃষ্টিতে কুরবানী বলতে ’পশু যবেহ’ বা ’রক্তপ্রবাহ’ মনে হলেও এর মাধ্যমে অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে এবং সত্য-ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম-সাধনার শক্তি সঞ্চারিত হয়; কুরবানীর ত্যাগের মধ্যে সত্য-ন্যয় প্রতিষ্ঠা তথা আল্লাহ তাআলার নির্দেশের নিকট সোপর্দ করা এবং আল্লাহর রাহে জীবন উৎসর্গ করার দীক্ষা পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে কুরবানীর ত্যাগের মাধ্যমে মানবিক-নৈতিক শক্তি ও সাহস অর্জিত হয়, যা দিয়ে অন্যায়-অপশক্তিকে পরাজিত করা যায়। একইভাবে ধৈর্য-ত্যাগের শিক্ষাও গ্রহণ করা যায়। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়।
কুরবানী সহ বিবিধ ইবাদতে তাক্বওয়া অর্জন
আল্লাহ তাআলা কুরবানীর নির্দেশনায় তাক্বওয়ার বিষয় যেমন বলেছেন, ঠিক তেমনি অন্যান্য ইবাদত ও বিধি-বিধানে তাক্বওয়ার বিষয় অপরিহার্য করে দিয়েছেন। রমাজানের সিয়াম প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদাগণ! তোমাদের ওপর সওম ফরজ করে দেয়া হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। এ থেকে আশা করা যায়, তোমাদের মধ্যে তাক্বওয়ার গুণাবলী সৃষ্টি হয়ে যাবে। সূরা আল বাক্বারা, আয়াত: ১৮৩
আবার কুরআন থেকে হিদায়াত পাবার অপরিহার্য শর্ত বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা বলেন, এটি আল্লাহর কিতাব, এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। এটি হিদায়াত ‘মুত্তাকী’দের জন্য। সূরা আল বাক্বারা, আয়াত: ২
অতএব তাক্বওয়া অর্জন ইবাদতের অন্যতম শর্ত। যেটি কুরবানীর মধ্যেও আল্লাহ তাআলা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। আর তাক্বওয়ার বলে বলিয়ান হয়েই আল্লাহ তাআলার রেজামন্দী অর্জন করা যায়।
কুরবানী কবুলের শর্ত
যে কোনো আমল কবুলের পূর্ব শর্ত হলো কয়েকেটি। যথা: ১) ইখলাস বা বিশুদ্ধ নিয়্যাত। অতএব সর্বাগে আমাদের নিয়্যাত বিশুদ্ধ করতে হবে। সহীহ হাদীসে এসেছে, যাবতীয় কাজ নিয়্যাতের ওপর নির্ভরশীল। সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১, ৫৪, ২৩২৯, ৩৬৮৫, ৪৭৮৩, ৬৩১১, ৬৫৫৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫০৩৬; আল জামিঈ লিত তিরমিযী, হাদীস নং ১৬৪৭; সুনানু আবী দাউদ, হাদীস নং ২২০৩; সুনানুন নাসাঈ, হাদীস নং ৭৫, ৩৪৩৭, ৩৭৯৪; সুনানু ইবন মাজাহ, হাদীস নং৪২২৭; মুসনাদু আহমাদ, হাদীস নং ১৬৮, ৩০০; সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস নং ১৪২; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ১। সনদ: সহীহ ২) হালাল সম্পদের দ্বারা কুরবানী করা। অতএব হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদ দিয়ে কুরবানী দিলে তা কবুল হবে না। সব ইবাদত কবুলের অন্যতম পূর্ব শর্ত হালাল উপার্জন। সহীহ হাদীসে এসেছে, হে লোকসসকল! আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু কবুল করেন না। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৩৯২; সুনানুদ দারিমী, হাদীস নং ২৭১৭; শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং ১১৫৯। সনদ: সহীহ
কুরবানীর শিক্ষা
মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইবরাহীম (আ) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ) কে আল্লাহর রাহে কুরবানী দেয়ার সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেভাবে ঈমানী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মানবজাতিকে ত্যাগের শিক্ষা দিয়ে গেছেন, সে আদর্শ ও প্রেরণায় আমরা আমাদের জীবনকে ঈমানী আলোয় উজ্জীবিত করব, এটাই কুরবানীর মৌলিক শিক্ষা। ত্যাগ ছাড়া কখনোই কল্যাণকর কিছুই অর্জন করা যায় না। মহান ত্যাগের মধ্যেই রয়েছে অফুরন্ত প্রশান্তি।
পশু কুরবানী মূলত নিজের নফস তথা কুপ্রবৃত্তিকে কুরবানী করার প্রতীক। কুরবানী আমাদেরকে সকল প্রকার লোভ-লালসা, পার্থিব স্বার্থপরতা ও ইন্দ্রিয় কামনা-বাসনার জৈবিক আবিলতা হ’তে মুক্ত ও পবিত্র হয়ে মহান প্রতিপালকের প্রতি নিবেদিত বান্দা হওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং আল্লাহর যমীনে তাঁরই দীন প্রতিষ্ঠার পক্ষে আত্মোৎসর্গ করতে অনুপ্রাণিত করে। কুরবানীর স্বার্থকতা এখানেই। তাই পশুর গলায় ছুরি চালানোর সাথে সাথে যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতা, কুফর, শিরক, হিংসা-বিদ্বেষ, রাগ-ক্রোধ, রিয়া-লৌকিকতা, পরচর্চা-পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা, আত্মগর্ব, আত্মঅহংকার, কৃপণতা, ধনলিপ্সা, দুনিয়ার মায়া-মুহাববত কলুষতার মত যেসব জঘণ্য পশুসুলভ আচরণ সযত্নে লালিত হচ্ছে তারও কেন্দ্রমূলে ছুরি চালাতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি মুহূর্তে প্রভুর আনুগত্য, নির্দেশনা প্রতিপালন ও তাক্বওয়ার দ্বিধাহীন শপথ গ্রহণ করতে হবে।
ইসলামের প্রত্যেকটি ইবাদতে যেমনি মহান রাব্বুল ‘আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জন লক্ষ্য হয় ও অশেষ সওয়াব নির্ধারিত থাকে, তেমনি এ কুরবানীতে মানবজাতির জন্য বহুবিধ শিক্ষা নিহিত রয়েছে। কুরবানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শিক্ষা-
১. এ কুরবানী আমাদের আল্লাহ তা’আলার একত্ববাদের স্বীকৃতির শিক্ষা দেয়। কুরআনুল কারিমের ভাষায়; “সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য সালাত এবং কুরবানী আদায় করুন।” সুরা আল কাউসার, আয়াত: ২
২. আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সমীপে নিজেকে পরিপূর্ণরূপে সমর্পন করা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। আল্লাহ তা’আলা বলেন: “যখন তারা দু’জন আনুগত্য প্রকাশ করলেন এবং ইবরাহীম তার পুত্রকে কাত করিয়ে শুইয়ে দিলেন, তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহীম! তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যিই পালন করলে, এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।” সুরা আস সাফফাত: ১০৩-১০৫
৩. তাক্বওয়ার গুণাবলী অর্জন ও তার যথাযথ অনুশীলন। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “ইহা আল্লাহর বিধান এবং যে আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করল, এটা তো তার অন্তরের তাক্বওয়ার পরিচায়ক।” সূরা আল হাজ্জ, আয়াত: ৩২
৪. আল্লাহ তা’আলার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। কুরআনুল কারিমের ভাষায়, “এভাবেই আমি ঐগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” সূরা আল হাজ্জ, আয়াত : ৩৬
৫. সর্বাবস্থায় আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনকে স্মরণ করা। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তিনি তাদের জীবনোপকরণ স্বরূপ যে সকল চতুস্পদ জন্তু দিয়েছেন, সেগুলোর ওপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। সূরা আল হাজ্জ, আয়াত: ৩৪।
৬. কুরবানী আত্মত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের প্রত্যক্ষ শিক্ষা দেয়।
৭. সকল কাজে রিয়ামুক্ত বিশুদ্ধ নিয়্যাতের আবশ্যকতা রয়েছে।
৮. স্বীয় অধীনস্তদেরকেও আল্লাহর বিধান পালনে অভ্যস্থ করা। সহীহ হাদীসে এসেছে, “আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) হতে বর্ণিত, রসূূলুল্লাহ (সা) বলেন, তোমারা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” -সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৪৮৩, ২২৭৮, ২৪১৬, ২৪১৯, ২৬০০, ৪৮৯২, ৪৯০৪, ৬৭১৯ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮২৮।
৯. পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে ইসলামের বিধান পালনের অনুকূল পরিবেশ তৈরী করা।
১০. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ করা। কুরআনুল কারিমের ভাষায়, “হে প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি যবেহ করছি, এখন তোমার অভিমত কী? সে বলল, হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা বাস্তবায়ন করুন।” সূরা আস সাফফাত, আয়াত: ১০২
১১. সবরের শিক্ষা। কুরআনুল কারিমের ভাষায়, “আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। সূরা আস সাফফাত, আয়াত: ১০২
১২. সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়।
মূলত: কুরবানীর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি, সান্নিধ্য ও নৈকট্য অর্জিত হয়, ধনী-গরিব, সুখী-দুঃখী নির্বিশেষে সকলের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। উঁচু-নিচু, জাতি-বর্ণ ভেদাভেদ দূর করে একই কাতারে একই সাথে আনন্দ উপভোগ করার ক্ষেত্র তৈরি করে।
সমাপনী
পরিশেষে বলা যায়, কুরবানীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি শুধু মুসলিম মিল্লাতের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। যুগ-যুগান্তরের প্রতিটি ধর্মে কুরবানীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু অন্যান্য ধর্মের কুরবানীর পদ্ধতি ও মুসলিম মিল্লাতের কুরবানীর পদ্ধতির মাঝে বহু বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। মুসলমানদের কুরবানী নিছক কোন আনন্দ-উল্লাসের উৎসব নয়, বরং এটি আত্মত্যাগ, আত্মোৎসর্গ, আত্মসমর্পণের একটি সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুসলমানদের কুরবানীর সংস্কৃতির প্রবর্তক স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম (আ) ও তদীয় পুত্র ইসমাঈল (আ) যে অবিস্মরণীয় ত্যাগ, আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অবিচল আস্থা ও আনুগত্যের চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেই স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় ও পালনীয় কল্পে কুরবানীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আবহমানকাল যাবৎ চলে আসছে। শুধু পশুর গলায় ছুরি চালানোতে প্রকৃত কোন সার্থকতা নেই, বরং কাম-রিপু, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহমিকা-দাম্ভিকতা, অবৈধ অর্থ লিপ্সা, সুদ-ঘুষ, দূর্নীতি, পরচর্চা-পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতাসহ যাবতীয় মানবীয় পশুত্বের গলায় ছুরি চালাতে পারলেই কুরবানী সার্থকতা বয়ে আনবে।
আসুন নিজে কুরবানী দেই এবং অপরকে উদ্ধুদ্ধ করি। কুরবানীর গোশত ও চামড়া থেকে গরিব-দুঃস্থ মানুষদের অধিকার বুঝিয়ে দেই। নিষ্ঠার সাথে কুরবানী দিয়ে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের পথে এগিয়ে যাই। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মানুষ দেখানোর জন্য কুরবানী নয় বরং পশুকে যবাইয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মনের পশু ও আমিত্বকে যবাই করি এবং কুরবানীর মাধ্যমে তাক্বওয়ার গুণে গুণান্বিত হয়ে আল্লাহর নির্দেশিত কুরআনী সমাজ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখি। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাউফীক দান করুন। আমীন
মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক
প্রধান মুহাদ্দিস (সহকারী অধ্যাপক)
বিজুল দারুল হুদা কামিল মাদরাসা,
বিরামপুর, দিনাজপুর।
Leave a Reply