‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা

সাতমাথা ডেস্ক:
    সময় : বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
  • ২৯৭ Time View

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশী গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন।

আজ বুধবার রাজধানীতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারে অবস্থিত আয়নাঘরসহ তিনটি স্থান পরিদর্শন করেন।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের এসব স্থানে আটকে রাখা হতো বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

কাউকে কাউকে আট-নয় বছরও আটকে রাখা হয়েছিল বলে নিজের ফেসবুকে লিখেছেন তিনি।

পরে সাংবাদিকদের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা একটা বিভৎস দৃশ্য। মানুষের মনুষ্যত্ববোধ বলে যে কোনো জিনিস আছে সেটার থেকে বহু দূরে গভীরে নিয়ে গেছে। নৃশংস অবস্থা প্রতিটি জিনিস যে হয়েছে এখানে। যতটা শুনি অবিশ্বাস্য লাগে যে এটা কি আমাদেরই দেশ, আমাদেরই জগৎ?’

‘বিনা কারণে জঙ্গি আখ্যায়িত করে মানুষকে তুলে এনে এসব টর্চার সেলে নির্যাতন করা হতো’ বলে উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক ইউনূস।

“এখন শুনি সারা বাংলাদেশ জুড়েই আরো সাত শ’-আট শ’ আয়নাঘর আছে। আমার ধারণা ছিল শুধু এখানেই আছে। এগুলার সংখ্যাও নিরূপন করা যায় না, কতটা জানা আছে, কতটা অজানা আছে,” বলেন তিনি।

গুম কমিশনকে এসব আয়নাঘর আবিষ্কার করার জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত বলে একটা কথা আছে না, গত সরকার এই আইয়ামে জাহেলিয়াতকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছে সর্বত্র।’

গুম কমিশনের প্রতিবেদনে এই আয়নাঘরের ডকুমেন্টেশন বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস।

একইসাথে যারা এ ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল তাদের বিচার করা হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। এসব তথ্য-প্রমাণ সিলগালা করে রাখা হবে এবং বিচারের জন্য ব্যবহৃত হবে বলেও জানান তিনি।

দু’জন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং নাহিদ ইসলাম নিজেরাও এই আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন এবং তারা ওই রুম চিহ্নিত করেছেন বলে জানান।

উপস্থিত ভুক্তভোগী কয়েকজনের সাথে কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

শেখ হাসিনার আমলে গুমের শিকার জামায়াতে ইসলামীর নেতা মরহুম গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী এবং দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মরহুম মীর কাশেম আলীর ছেলে আহমেদ বিন কাশেম এ সময় তাদের সাথে ছিলেন।

এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান, উপদেষ্টা মাহফুজ আলমও উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও গুম কমিশনের সদস্য নুর খানও সেখানে ছিলেন।

সূত্র : বিবিসি

যারা বলতো আয়নাঘর বলে কিছু নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এর আয়নাঘর পরিদর্শনের পর সেই ধারণা ভেঙে গেলো। তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে যেনো দেখিয়ে দিলো ফেসিস্ট হাসিনার তৈরী আয়নাঘর কতটা ভয়ানক ছিলো। ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে আয়নাঘরের বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। যা রীতিমতো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

 

কোলকাতার বিশিষ্ট সাংবাদিক অর্ক দেব এমন একটি ভাইরাল ছবি নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে আয়নাঘরে ইলেকট্রিক শক দেয়ার একটি চেয়ার। এটি নিয়ে এই সাংবাদিক লিখেছেন, হাসিনার ইলেকট্রিক শক দেয়া চেয়ার। এই চেয়ারটা দেখে রাখা জরুরি। ফ্যাসিবাদের জননী শেখ হাসিনা আয়নাঘরের একটি কক্ষে রাখা এই চেয়ার। ‘হাই ভ্যালু’ বন্দিদের ইলেক্ট্রিক শক দিতে ব্যবহার হতো এই চেয়ার। ডিজিএফআই-এর কাউন্টার টেরোরিজম ইন্টিলিজেন্স ব্যুরো সিটিআইবি এই আয়নাঘরের দায়িত্বে ছিল। সারাক্ষণ একজস্ট ফ্যান চলত এই ঘরগুলিতে, ফ্যান বন্ধ হলেই কান্না আর গোঙানির শব্দ শুনতে পাওয়া যেত। আজ থেকে গোটা বিশ্ব আয়নাঘরের সব ছবি দেখবে।

শুধু এই ছবিটিই নয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, এটি সেই স্থান যেখানে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানকে আট বছর ধরে শেখ হাসিনার পোষা নিরাপত্তা বাহিনী গোপনে আটকে রেখেছিল। আজ তিনি ঢাকায় আয়নাঘর পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তার অগ্নিপরীক্ষার লোমহর্ষক কথা বর্ণনা করেন।

এছাড়াও আয়নাঘরের অসংখ্য ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই হুমরি খেয়ে পরেছে নেটিজেনরা। ফেসিস্ট হাসিনা কতটা ভয়নক ছিলো তার প্রমাণ এই আয়নাঘর এমনটিই মনে করেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা। অনেকেই মানুষ হত্যাকারী খুনি হাসিনার বিচার দাবি করেন। ফারজনা তাসনিম নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, স্বৈরাচারের দালালরা তো বলেছিলো এদেশে আয়নাঘর বলে কিছু নেই। আজতো সব সামনে চলে এলো হাসিনা কতটা বহুরুপি ছিলো তারও প্রমাণ হলো। মানুষকে এভাবে এতটা কষ্ট দিয়েও বন্দি করে রাখা যায়? ফেসিস্ট হাসিনার বিচার চাই। আয়নাঘরের ভয়ানক এসব চিত্র দেখে অবাক হয়ে যান স্বয়ং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টসহ উপস্থিত অন্যান্য উপদেষ্টা ও দেশ বিদেশের গণমাধ্যম কর্মীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com