চার মাসেও হয়নি আহ্বায়ক কমিটি!
মোস্তফা মোঘল:
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর চার মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো এখনো অভিভাবকহীন। ২১ আগষ্ট সারাদেশের সবগুলো বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে ২৭ আগষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও আজ অবধি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়নি। ফলে সারাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। বন্ধ রয়েছে সবধরনের খেলাধুলা।
জানাগেছে, গত ২১ আগষ্ট যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এস এম হুময়ান কবীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে দেশের সব বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ও মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়। একই আদেশে স্থানীয়ভাবে আহ্বায়ক কমিটিন গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার স্ব স্ব জেলা/বিভাগে স্বনামধন্য ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুকূলে অনুমোদন নেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে। ২৭ আগষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন সংক্রান্ত কাঠামোসহ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠি সকল বিভাগীয়, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রদান করা হয়েছে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া পরিষদ তিনটি স্তরেই অ্যাডহক কমিটি হবে ৭ সদস্য বিশিষ্ট। তিন স্তরেই এই কমিটির কাঠামো বিন্যাস একই থাকবে। সরাসরি ক্রীড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত (খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি প্রমুখ) এম দুই জন থাকতে পারবে সদস্য হিসেবে। ক্রীড়া সম্পৃক্ত/সংগঠক ছাত্র প্রতিনিধি একজন, ক্রীড়া সাংবাদিক একজন জেলা, বিভাগীয় ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থায় সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন। এছাড়া স্থানীয় প্রেক্ষাপটে সর্বজন শ্রদ্ধেয় গ্রহণযোগ্য ক্রীড়ানুরাগী কিংবা ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থাকতে পারবেন সদস্য হিসেবে। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় পদাধিকার বলে আহ্বায়ক বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক জেলা প্রশাসক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থায় আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সরকারি একজন কর্মকর্তা। বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় উপপরিচালক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর (সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সদর দপ্তর যে জেলায় অবস্থিত সে জেলার), জেলা ক্রীড়া সংস্থায় সদস্য সচিব পদে থাকবেন জেলা ক্রীড়া অফিসার। তবে কোনও জেলায় জেলা ক্রীড়া অফিসার পদ শূন্য থাকলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সেই দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই নির্দেশনা মোতাবেক বিভাগীয় কমিশনার বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, জেলা প্রশাসক জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠন করে অনুমোদনের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রেরণ করবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা গঠন করে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমোদন নেবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে, জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রস্তাবিত আহ্বায়ক কমিটির তালিকা অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় ক্রীড়া সংস্থাগুলো অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় সবধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে বন্ধ রয়েছে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ। বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থায় চলতি মৌসুমে এখনো ক্রিকেট লীগ শুরু হয়নি। ফলে শত শত তরুণ ক্রিকেটার হতাশায় ভুগছেন। কমিটি গঠন না হওয়ায় ক্রিকেটলীগ আয়োজনের সম্ভাবনাও দেখছেন না সংগঠকরা। একই অবস্থা সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, ভলিবলসহ অন্যান্য খেলার ক্ষেত্রেও। আহ্বায়ক কমিটি গঠনে বিলম্বের কারনে খেলোয়াড়, সংগঠকসহ ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তরুণ ক্রীড়াবিদরা তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।
বগুড়া জেলা ক্রিকেট আম্পায়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি খালেদ মাহমুদ রুবেল বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা হলো তৃণমূলের ক্রীড়াবিদ তৈরির মূল সূতিকাগার। এখান থেকেই সবধরনের খেলোয়াড় তৈরি হয়। দীর্ঘ দিন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি না থাকায় সবধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে বগুড়া থেকে জাতীয় পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট দলে নিয়মিতভাবে খেলোয়াড় সরবরাহ করা হয়। প্রতি বছর নতুন নতুন উদীয়মান তরুণ-কিশোর ক্রিকেটার উঠে আসছে এখান থেকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে ক্রিকেটলীগ শুরু না হওয়ায় তরুণরা হতাশায় ভুগছে। দ্রুততম সময়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সবধরনের খেলাধুলা শুরু করার দাবী জানান তিনি।
বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আহ্বায়ক কমিটি গঠনে যত বিলম্ব হবে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ততই পিছিয়ে পড়বে। দেশের খেলাধুলার স্বার্থে অবিলম্বে সকল বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা উচিৎ।
বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রস্তাবিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক তোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘কমিটি গঠনের বিলম্বের কারনে আমরাও কাজ শুরু করতে পারছিনা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বগুড়ার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করতে আমরা উদগ্রীব রয়েছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটিও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বিলম্বের কারন আমাদের অজানা। যত দ্রুত আহ্বায়ক কমিটি হবে ততই ক্রীড়াঙ্গনের জন্য কল্যাণ।’
Leave a Reply