দিনাজপুরে বিশাল কর্মী সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান

অন্য ধর্মের লোকজনের সাথে সহমর্মিতার সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশে বসবাস করতে চাই

দিনাজপুর প্রতিনিধি:
    সময় : রবিবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২৫, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
  • ৩৬৭ Time View

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ধর্মের লোকজনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সাম্যের দেশ গড়তে চায়। যেখানে অন্য ধর্মাবলম্বীর লোকজন আতংকে থাকবে না। তারা এদেশে বসবাস করবে মর্যাদার সাথে। কেউ তাদের জান মাল এবং ইজ্জতে হাত দিবে না। সেইসাথে সাম্যের বাংলাদেশ গড়ার বাণী ঘরে ঘরে পৌছাতে কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

গতকাল শনিবার দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মী সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা আমীর অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান। জেলা সেক্রেটারি ডক্টর এনামুল হকের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।

কর্মী সম্মেলনে একজন হিন্দু ধর্মালম্বী অধ্যক্ষের বক্তব্যের সূত্র ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, এখানে একজন হিন্দু ধর্মের সম্মানিত নেতাভাই একটা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন, তিনি বলেছেন এমন একটা বাংলাদেশে আমরা বসবাস করতে চাই, যে বাংলাদেশে আমাদের আর আতংকে থাকতে হবে না। আমি তাদের বলি কারা আতংকমুক্ত বাংলাদেশ দিতে পারবে, সেই দলটাকে খোঁজে বের করুন। যারা ৫৪ বছর আপনাদের জমাজমি অবৈধভাবে দখল করেনি। আপনাদের সম্পদ লুন্ঠন করেনি। আপনার ইজ্জতের ওপর হাত দেয়নি। সেই দলকে আপনারা খোজে পাবেন। একটু বিবেকের চক্ষু দিয়ে খোজে দেখলেই খোজে পেয়ে যাবেন। আমি খুন দূরে যাবো না। এখন থেকে মাত্র ছয় মাস পেছনে যাবো। ৫ আগস্ট এই দেশে যুগান্তকারী পরিবর্তন হয়েছে। কেউ বলছে গণ বিপ্লব কেউ বলছে গণ অভ্যূত্থান। যে যেভাবেই বলুক আমরা প্রথমদিন থেকেই সচেতন ছিলাম। একটা কুচক্রী মহল যাদের বরাবরই খাসলত খারাপ, তারাই আবার সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য আমাদের সহকর্মী এবং দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছিলাম, সতর্ক করেছিলাম। ধৈর্য্য ধরুন, শান্ত থাকুন। শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করুন। এর আগে ওবায়দুল কাদের সাহেব কয়েকবার বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিদায় নিলে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে ক্ষমতা থেকে বিদায় কিংবা পালানোর দুই দিনের ভেতর তাদের ৫ লাখ নেতাকর্মীকে খুন করা হবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন তাদের ৫ লাখ নেতাকর্মী কি খুন হয়েছে ? মাঠ থেকে জবাব আসে না। হয়নি এই কারণে তাদের হাত রক্তে লাল থাকতে পারে। তাদের চোখ খুনের নেশায় সব সময় মাতাল হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তাদের মতো নয়। এদেশের জনগণ তাদের দেশকে ভালবাসে। তাদের মাটিকে ভালবাসে। এজন্য তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এরপরও দুয়েকটা খুনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর নিন্দা করেছি। আমরা চাই না বিনা বিচারে যে দল ধর্মের মানুষ হউক না কেন, তাদের একজন মানুষকেও খুন করা হউক। কেউ দোষী হলে বিচারের মাধ্যমে হবে। তবে বিচারের নামে অবিচারের মাধ্যমে নয়। সুবিচারের মাধ্যমে কেউ যদি অপরাধ করে তাকে শাস্তি দিতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন ফ্যাসিস্ট সরকার সুবিচারকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। এজন্যই বিচারপতিরা দম্ভভরে বলতে পেরেছিল আমরা শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ। এই কথার যে প্রতিবাদ করেছিল, পরবর্তীতে সেই আইনজীবীদের হেনস্তা করা হয়েছে। অথচ এই আইনীজীবীদের পুরস্কৃত করার কথা ছিল। এরা বার বার বলে আসছে সাম্প্রদায়িক দেশ নয়, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই। তিনি প্রশ্ন রাখেন যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়বে, এরা কেন লুন্ঠন করে ? এরা কেন ইজ্জতের ওপর হাত দেয়? এরা কেন আমাদের ভাই বোনদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ কওে ? এরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রবক্তা নয়। বরং এরাই বাংলাদেশের স্বীকৃত ডাকাত।

আমরা বর্তমান সরকারকে বলি আপনারা অনেক সংস্কার ব্যাপারে আপনারা হাত দিয়েছেন। যত সম্ভব করুন, তবে আরেকটা বিষয়ে হাত দেন। একটা নিরপেক্ষ সরকার এটা পারবে,দলীয় সরকার হয়তো পারবে না। গত ৫৪ বছর বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ যাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছে,যাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে, সেটা খুন ধর্ষণ লুটপাট দখল চাদাবাজি যা-ই হউক এদের নামের কালো তালিকা প্রকাশ করে দেন। এরা কারা জনগণ তাদের চিনে নিক।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোন জায়গায় কোন কিছু ঘটলেই জামায়াতে ইসলামীকে দোষ দেয়। এটা তাদের বদ খাসলত। এরা জাগরণেও জামায়াতকে ভয় পায় ঘুমের মধ্যেও জামায়াতকে ভয় পায়। জামায়াতের নীতি আদর্শকে ভয় পায়। এই ভয়ের জায়গা থেকে ঘায়েল করতে চায় আমাদের। নিজেরা অপকর্ম করে দায় আমাদের ওপর চাপায়। তিনি প্রমাণ হিসেবে বলেন, রংপুরের পীরগঞ্জের মৎস্য পল্লী, যেখানে হাসিনার জামাই ওয়াজেদ মিয়ার বাড়ি। সেই হিন্দু ধর্মালম্বী ভাইবোনদের একটা পল্লী ছিল। সেই পল্লীতে গিয়ে প্রথমে গরু চুরি করলো। তারপরে সম্পদ লুন্ঠন করলো। তারপর তাদের ঘরগুলোতে আগুল জ¦ালিয়ে দিলো। সাথে সাথে কোন বাছ বিচার না করে ক্ষমতায় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বলে দেওয়া হলো এটা জামায়াত শিবিরের লোকেরা করেছে। তদন্ত ছাড়াই বলে দিলো। যুক্তি দিলো পাশে মিঠাপুকুর উপজেলা। সেখানে জামায়াত শিবিরের ঘাটি। এই কারণে এটা করেছে। মাত্র তিনদিনের মাথায় সাহস করে সেই পল্লীর মজলুম ভাইবোনেরা বলে দিলো জামায়াত শিবির এখানে আসেওনি এগুলো করেওনি। যুবলীগের অমুক নেতার নেতৃত্বে এগুলো হয়েছে। এই মামলা চলে গেলো সাইবেরিয়ার হিমাগারে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পানিতে কুপ দিলে দা এসে নিজের হাঁটুতে লাগে। হাটু বাচানোর জন্য মামলা-ই খতম। তিনি আরেকটি উদাহরণ টেনে বলেন, আপানারা গাইবান্ধায় দেখেছেন, সুন্দরগঞ্জের এমপি ছিলেন, লিটন সাহেব। তাকে কে বা কারা তার বাড়ির পাশে শুট করে তাকে খুন করেছে। সাথে সাথেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাড়িয়ে বলে দিলেন, একাজ করেছে জামায়াত শিবির। যুক্তি হলো জামায়াতের তৎকালীন আমীর অধ্যাপক গোলাম আজমের জনসভায় লিটন বাধা দিয়েছিল। এর প্রতিশোধ এতদিন পর জামায়াত শিবির নিয়েছে। দিন শেষে পুরো তদন্তে জানা গেল না, জামায়াত শিবিরের কোন সম্পর্ক এটার সাথে ছিল না। বরং তাদেরই ক্ষমতার পার্টনার যিনি ওই আসনের সাবেক এমপি ছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক অফিসার পিস্তল দিয়ে গুলি করে তার রাস্তা পরিস্কার করেছেন। তারা বারে বারে বলতেন আমাদের বিনা টিকিটে অমুক দেশে চলে যাও। আরে একটা ভিসাতো দিবেন, টিকিটতো দিবেন। টিকিট ভিসার ব্যবস্তা না করে বলে অমুক দেশে চলে যাও। আপনারা কোন ভিসা এবং কোন টিকিট নিয়ে এদেশ থেকে চলে গেলেন? প্রশ্ন রাখেন ডা. শফিকুর রহমান। আমরাতো বলিনা দেশ ছেড়ে চলে যান। আমরা এটা বলবোও না। বাংলাদেশের সকল নাগরিকের বাংলাদেশে বসবাস করার বৈধ অধিকার রয়েছে। আমরা কথা পরিষ্কার করতে চাই, এখানে বিভিন্ন ধর্মের ভাইবোনেরা আছেন। আমরা বাংলাদেশে মেজরিটি মাইরোটি মানিনা। আমরা বিশ্বাস করি এই দেশের বুকে যে-ই জন্ম নিয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধান তাদের সমান অধিকার দিয়েছে। সুতরাং তিনি একজন মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক। আপনারা নিজেদের কখনো নিজেদের মাইনোরিটি মনে করবেন না। মাইরোটি বলে বলেই আপনাদের ওপর এতদিন অত্যাচার হয়েছে। আপনারা আমাদের ভাইবোন। আমরা সহমর্মিতার সাথে একসাথে গর্বের সাথে বাংলাদেশে বসবাস করতে চাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেখা হবে না কে কোন ধর্মের। দেখা হবে তিনি এই দায়িত্বের উপযুক্ত কি-না। যিনি যেই দায়িত্বের উপযুক্ত তার কাছে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, তরুণ সমাজকে আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপানো হয়েছে কালের পর কাল যুগের পর যুগ। এখন তারা বুঝেছে এগুলো সব ছিল দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র। এই যুবকদেরকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গালি দিয়েছিলেন। সেই গালির প্রকৃত জবাব তিনি পেয়ে গেছেন। তিনি দেশের প্রত্যেকটা খুনের বিচার দাবি করে বলেন, খুনের বিচার না হলে খুন বনধ হবে না। লুটপাটের বিচার না হলে লুটপাট বনধ হবে না। চাঁদাবাজদের বিচার না হলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না। ঘুসখোরের বিচার না হলে ঘুষখোরি বন্ধ হবে না। সুতরাং সকল অন্যায়ের বিচার হতে হবে। এ বিচার আমরা দাবি করি। কিন্তু আইন কেউ হাতে তুলে নিক সেটাও পছন্দ করি না। বিচার করতে গিয়ে কোন অবিচার হউক সেটাও আমরা চাই না। আমরা চাই ন্যায় বিচারের মধ্য দিয়ে যার যেটা পাওনা সেটা পেয়ে যাক। এরকম একটা বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।

তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদেও আশ^স্থ করতে চাই, তোমরা যে বাংলাদেশের স্লোগান দিয়ে বলেছিলে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, আমরা তোমাদের সাথে আছি। তোমাদেল অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তোমরা আমাদের অহংকার আমাদের গর্ব। আগামির বাংলাদেশ আমরা তোমাদের হাতে তুলে চাই। আমরা তোমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করতে চাই, দোয়া করতে চাই। মরার আগে দেখে যেতে চাই আমার প্রিয় বাংলাদেশ সাম্য এবং সৌহার্দের বাংলাদেশ। আমার প্রিয় বাংলাদেশ একটি মানবিক বাংলাদেশ। এই মানবিক বাংলাদেশের জন্যই আমাদের সংগ্রাম এবং সাধনা। এই সংগ্রামের আপনাদের পাশে চাই, সাথে চাই। তখনই সফল হবে যখন আল্লার দেয়া বিধান অনুযায়ী মানুষ ন্যায় বিচার পাবে।

এর আগে সকালে মাওলানা তাজুল ইসলাম অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মী সম্মেলন শুরু হয়। কর্মী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জুলাই বিপ্লবে শহীদের পিতা, ফারুক হোসেন শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এর আগে হামী আবরার হক মোল্লার কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়।

জামায়াতের আমীর বলেন, ছাত্র-জনতার লড়াই আর মজলুমানের চোখের পানির ফোটার কারণে এই নতুন দেশ পেয়েছে। বনধুদের আহ্বান জানাই এমন কথা আচরণ না করি আমাদের সন্তানরা যেন মনে কষ্ট না পায়।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোর থেকে শুরু কওে ৫ আগস্ট ২০২৪ সাল পর্যন্ত হতাহতের সমবেদনা জানিয়ে বলেন আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে নির্মমভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ পাতানো আদালতে বানানো সাক্ষী দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে ভালবাসতো। যারা খুন ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত তারাই এই মানুষগুলোকে সহ্য করেনি। জামায়াতে ইসলামীর লোকজন আল্লাহকে ভয় করে বলেই তারা এসব কুকর্মের সাথে জড়িত ছিল না। আওয়ামী লীগ কোলের শিশুকে জেলে দিয়েছিল। বৃদ্ধদের বাদ দেয়নি। আলেম ওলামাকে বাদ দেয়নি। আমরাকি আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসেছিলাম ?

তারা ভয় দেখিয়ে মাটির নিচে পাঠিয়ে দিবে বলে মনে করেছিল। জাতির ওপর তান্ডব চালিয়েছিল। উন্নয়ন করতে গিয়ে রডের বদলে বাঁশ আর সিমেন্টের বদল ছাই দিয়েছে। ২৬ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। তারা অন্যায় যখন করেছে তখনই আমরা প্রতিবাদ করেছি। মিছিল মিটিং করতে দেয়নি। যখন মিছিল করেছি। জানতাম গুম-খুন করতে পারে। বন্যা-খরায় আমরা অবহেলিতদের পাশে থেকেছি। সেটাও তারা সহ্য করেনি। তিনি উল্লেখ করেন এই এলাকার বিচারক বলেছেন শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ। আমি বলি আপনি শপথ ভঙ্গকারী বিচারক। শপথ ভঙ্গ করার কারণেই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা হতে পারে। আঘাত দিয়ে যারা নি:শেষ করতে চান তাদের জানিয়ে দিয়ে দিতে চাই যত আঘাত দিবেন ততই শক্তিশালী হবে জামায়াতে ইসলামী।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় একজন নায়েবে আমীরের জানাজা এই মাঠে করতে দেয়নি। ছাত্র জনতা বিরাট আকাংখা নিয়ে অত্যাচারিদের বিদায় করতে পেরেছে। কোন রাজনীতিবিদদের এমন কোন কথা বলা উচিত নয়, যাতে ফ্যাসিস্টরা উৎসাহিত না হয়। ছাত্র-জনতার লক্ষ্য ব্যাহত না হয়। তিনি অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে আনুপাতিক ভোট পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবি জানান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাম্য মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় বলে জানান তিনি।

অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন বলেন,একটি দল মনে করেছিল জামায়াতে ইসলাম নি:শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু না, বরং তারা ঈমানে বলে বলীয়ান হয়ে কাজ করেছে। তাই আজ কর্মী সম্মেলন মহাসমাবেশে পরিণত হচ্ছে। তিনি জামায়াতে ইসলামী কর্মীদের মানুষের মাঝে আরও বেশি ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, ১৬ বছর দেশ একটি খুনি ডাকাতের হাতে বন্দী ছিল। তিনি গুম করেছেন খুন করেছেন আয়না ঘর বানিয়েছেন। তিনি এখন কোথায় ? দিল্লীতে। ভারত মূলত বাংলাদেশের কল্যান চায় না। এজন্য আমাদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। ফেলানীকে হত্যা করে কাটাতারে ঝলিয়ে রেখেছে। আমরা দাবি করছি, হাসিনা যেন হত্যাকান্ডের ন্যায্য বিচার পান, সেজন্য তাকে ফেরত দিতে হবে। এমন এক দেশের স্বপ্ন দেখি যে দেশে থাকবে না ঘুস সুদ দুর্নীতি। যেখানে মা বোনেরা থাকবে নিরাপদে। যেখানে শোষণ নির্যাতন থাকবে না। এই স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এসময় বাধার প্রাচীর তৈরি করতে জেল জুলুম নির্যাতন করেছে। আমাদের ১০ শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী দ্বিগুন শক্তি নিয়ে আমরা টিকে আছি। তিনি উত্তরবঙ্গেও নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের দ্রুত মুক্তির দাবি জানান।

রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা আবদুল হাকিম বলেন, সৃষ্টিকর্তার আইন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত দেশে শান্তি আসবে না। দেশে বার বার নেতার পরিবর্তন হয়েছে। নীতির পরিবর্তন না হওয়ায় দেশে শান্তি আসেনি।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রাজীবুর রহমান পলাশ বলেন, জুলুম নির্যাতন জালিয়ে দ্বীন বিজয়ের অগ্রযাত্রা থামিয়ে রাখা যায় না। জীবন্দ শহীদদের সাথে নিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির দেশ গড়বো। নয়া ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তাদের আর সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, দিনাজপুর তথা উত্তরবঙ্গকে আগামিতে সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে দেখতে চাই।

খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, নব্য ফ্যাসিস্টদের জানিয়ে দিতে চাই কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন ষড়যন্ত্র আর বাংলার মানুষ মেনে নিবে না। হাসিনা রাজাকার শব্দ ব্যবহার করে পতন টেনে এনেছিলেন। আমরা জোট করবো সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো। হেফাজতে ইসলামের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা যোবায়ের সাঈদ বলেন, মদিনার সনদ দিয়ে সবধর্মের মানুষকে রাছুল (সা:) ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বাংলাদেশেও সেই ফর্মূলা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে অমুসলিম নেতা নিতাই চন্দ্র দেবনাথ বলেন, সারাদেশের মানুষ আশার আলো দেখতে শুরু করেছে। ৫ আগস্টের তান্ডব শুরু হয়েছিল। জামায়াত- শিবির আমাদের পাশে না থাকলে যে কি হতো! তাদের কারণে আমাদের জীবন এবং সম্পদ বেচে গেছে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা আমাদের শত্রু না মনে করে ঢাল হিসেবে দাড়িয়েছিল। অথচ কোনদিন ভোট দেইনি। আবেগে আপ্লুত হয়ে আমি জামায়াতে যোগদান করেছি। আরও অনেকেই যোগদান করেছে। প্রত্যেকটা আসনে যেন জামায়াত জয়ী হয় সেই প্রত্যাশা রাখি। একমাত্র জামায়াতের শাসনামলেই আমরা নিরাপদ থাকতে পারি।

দিনাজপুর জেলার সাবেক আমীর আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,১৩টি উপজেলার মধ্যে ৭টি সীমান্তঘেরা লূটপাটের কারণে এখানে উন্নয়ন নেই। দিনাজপুর জেলার আরেক সাবেক আমীর আফতাব উদ্দীন মোল্লা বলেন, লুটপাটের কারণে দিনাজপুরে কলকারখানা গড়ে উঠেনি। উন্নয়ন চাইলে আগামি দিনে কুরআনের আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান বলেন, আমরা শোষণমুক্ত একটি বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই। এজন্য প্রয়োজন ইসলামী বিপ্লব। পঞ্চগড় জেলা আমীর অধ্যাপক ইকবাল হোসেন বলেন, আগামি দিনের বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ মূক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আপনারা জামায়াতে ইসলামীর হাতকে শক্তিশালী করুন্
হাড় কাঁপানো শীত আর কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দলে দলে লোকজন আসতে থাকে কর্মী সম্মেলনে। মানুষের স্রোত আসতে থাকে সম্মেলনের মাঠের দিকে। এদিন ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় মাঠ-ঘাট রাস্তা অলিগলি। আমীরে জামায়াত মঞ্চে উঠার আগেই সম্মেলনস্থল উপচে পড়ে। আশপাশের এলাকা মানুষে মানুষে সয়লাব হয়ে যায়। দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মিললেও ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য শোনার জন্য বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় হাজারো মানুষ।
আরেক অমুসলীমনেতা অধ্যক্ষ শিশির কুমার সরকার বলেন, আমি ধন্য, কথা বলার মতো শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। এতগুলো মানুষ আমাকে পাগলের মতো করে দিয়েছে। তালগাছটি কার মুসলমানের না কি হিন্দুদের। বিচার হলো হিন্দুদের। আপনারা ন্যায়ের পথে এগিয়ে যান। কাঁদারা কাঁদবেই আপনারা এগিয়ে যান। চালাকি করে একটা কথা বুকে লিখে দিয়েছিল। আমরা আর সেই কাজটি করতে চাই না। ভোট শেষ হলে হিন্দু সম্প্রদায ফুট। ভোটের পর আমাদের লাঞ্চিত করা হয়। এই নির্বাচনের পর যেন সংখ্যা লঘুদের নির্যাতন করা না হয়।

কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও শহর সভাপতি মুশফিকুর রহমান, দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলা আমীর মাওলানা তরিকুল ইসলাম, খানসামা উপজেলা আমীর মাওলানা আনিসুর রহমান, বিরল উপজেলা আমীর হাফেজ আব্দুর রশিদ, পাবর্তীপুর উপজেলা আমীর ইউসুফ আলী, বিরামপুর উপজেলা আমীর হাফিজুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ উপজেলা আমীর অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, চিরিরবন্দর উপজেলা আমীর রাশেদুল হক, বোচাগঞ্জ উপজেলা আমীর মাওলানা আমিনুল হক, বীরগঞ্জ উপজেলা আমীর ক্বারী আজিজুর রহমান, সদর উপজেলা আমীর মেহরাব আলী, ঢাকা মহানগর উত্তর তুরাগ থানা আমীর মতিউর রহমান, শহর আমীর সিরাজুস সালেহীন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা মুজিবুর রহমান, জেলা ইউনিট সদস্য অ্যাড. মাইনুল আলম, জেলা দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজিদুর রহমান সাজু, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আনোয়ার হোসেন, জাকিরুল ইসলাম, মাওলানা রবিউল ইসলাম, অধ্যক্ষ একেএম আফজালুল আনাম, অ্যাড. মাহবুবুর রহমান ভুট্টো, দিনাজপুর জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাসেল রানা প্রমূখ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com