শেরপুরে হিন্দুদের বাসা-বাড়ি ও মন্দির পাহারা দিচ্ছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
    সময় : শনিবার, আগস্ট ১৭, ২০২৪, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
  • ২৯১ Time View

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বগুড়ার শেরপুরে হিন্দুদের বাসা-বাড়ি ও মন্দির পাহারা দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিগত দুই সপ্তাহ ধরে পৌর এলাকা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিরাতে পালা করে এই পাহারা বসিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে শুক্রবার (১৬আগস্ট) সন্ধ্যায় ওইসব মন্দির কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন দলটির নেতারা। এসময় মন্দিরের পুরোহিতদের আশ^স্ত করা হয়। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী সব সময় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পাশে রয়েছে বলে জানান।

এছাড়া হিন্দুদের বাসা-বাড়ি ও মন্দিরে কোনো দুবৃত্ত ও সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালালে তাদের মোকাবেলা করারও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর মন্দির বা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে এভাবেই তাদের পাশে দাঁড়ান জামায়াত নেতারা।

শহরের শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙণে ওই মতবিনিময়সভায় শেরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় উপজেলা শাখা জাময়াতের আমির মাওলানা দবিবুর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল হক, সহকারি সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মোস্তাফিজ নাসিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে জামায়াত নেতা আব্দুল হক, শাহিন আলম, আব্দুল হালিম, মনিরুল ইসলামসহ দলটির অর্ধশত নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এরআগে শহরের একাধিক মন্দির পরিদর্শন করে ওই মন্দিরে মতবিনিময়সভায় মিলিত হন তাঁরা। সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে অত্র মন্দির কমিটির নেতা প্রদীপ কুমার কুণ্ডু, বলয় কর্মকার, রকি ঘোষ, রঞ্জন কুণ্ডু, সনদ কুমার, রকি মোহন্তসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অসংখ্য ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

মতিবিনিময় সভায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা মাওলানা দবিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। পাশাপাশি আমরা মনে করি সংখ্যালঘু বলে দেশে কিছু নেই। সবাই দেশের নাগরিক। অধিকারও সমান। তাই জামায়াতের দলীয় নেতাকর্মীদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে অনুুযায়ী শিবির ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা হিন্দুদের বাসা-বাড়ি ও মন্দিরগুলোতে পাহারা বসিয়েছেন। নির্বিঘ্নে বসবাস ও তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করবেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com