আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে এলাকাবাসীর মাঝে
ডিনামাইট দিয়ে খোড়া হচ্ছে খনি। বিস্ফোরণের কম্পনে কেঁপে উঠছে আশপাশের এলাকা। এতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সংলগ্ন অন্তত ৫টি গ্রামের বাড়িঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করেও কোনও সমাধান মিলছে না।
বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা তোলার কারণে পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের চৌহাটি গ্রামে আতঙ্কে দিন পার করছেন অন্তত এক হাজার পরিবার। স্থানীয়রা জানান, খনিতে ডিনামাইট বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট কম্পনে রাতেও ঘুমাতে পারেন না তারা। এ কারণে ঘরগুলোতে ফাটল দেখা দিচ্ছে। আর পুরনো ফাটলগুলোও বাড়ছে। অনেক সময় ঝাঁকুনিতে ঘরের আসবাবপত্র ও টিভি-ফ্রিজ পড়ে যায়। আর খনির কারণে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলগুলো থেকেও পানি উঠছে না।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বলেন, ‘রাতে আমরা বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমাতে পারি না। রাতে ভয় পেয়ে আমাদের জড়িয়ে ধরে। আবাদি জমিতেও সেচের পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আর এই খনির জন্য ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এজন্য আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।’
বড়পুকুরিয়া ভূমি-বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ‘খনির কারণে এ এলাকায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়িঘরগুলোতেও ফাটল দেখা দিয়েছে।’
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আশপাশের এলাকায় কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও শুনেছি। এ নিয়ে আমাদের একটি কমিটি কাজ করছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির তালিকা করবে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ২০০৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরুর পর ২০০৬ সাল থেকেই খনি সংলগ্ন গ্রামগুলোর বাড়িঘরে ফাটল দেখা দেয়। পরবর্তীতে জরিপ করে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৬৪৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে সরকার।
Leave a Reply