পার্বতীপুরে ল্যাম্পি স্কিনে শতাধিক গরুর মৃত্যু

ওসমান আলী, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)প্রতিনিধি:
    সময় : মঙ্গলবার, জুলাই ৯, ২০২৪, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
  • ৬১৭ Time View

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসে খামারিরা দিশাহারা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে এই রোগের চিকিৎসা না থাকায় ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসে আক্রান্ত গরুর মালিকদের মাঝে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত দুই মাসে পার্বতীপুরে শতাধিক গরু মারা গেছে। আক্রান্ত গরু ও মারা যাওয়ার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে। সরকারি প্রাণিসম্পদ দপ্তরে এ রোগের চিকিৎসায় কোনো ওষুধ সরবরাহ নেই। এসব ভাইরাস আক্রান্ত গরু সস্তায় কিনে নিয়ে স্থানীয় কসাইরা হাটবাজারে জবাই করছেন। ফলে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। রোগ সম্পর্কে নেই মাঠপর্যায়ে গণসচেতনতামূলক কোনো সভা-সমাবেশ।

খামারিদের দাবি, পার্বতীপুর উপজেলার পল্লীতে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) বা চর্মরোগে অন্তত সহস্রাধিক গরু আক্রান্ত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা বেড়ে চলায় খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত গরুর কোনো চিকিৎসা না থাকলেও দুই শতাধিক পল্লী প্রাণীচিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ওষুধ ও প্যারাসিটামল চিকিৎসা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক পল্লী প্রাণী চিকিৎসক জানান, ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসের চিকিৎসা না থাকায় রোগ বুঝে তারা ওষুধ দিয়ে এই রোগ নিরাময়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, এতে কিছু কিছু রোগাক্রান্ত গরু ভালো হচ্ছে। জটিলভাবে আক্রান্ত সেগুলো মারা যাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছোট বাছুর অল্প বয়সের গরু বেশি মারা যাচ্ছে। মারা যাওয়া গরুগুলো তিলাই নদী কিংবা খোলা আকাশে নিচে ফেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, অফিসিয়াল কাগজ-কলমে এখন পর্যন্ত পার্বতীপুরে লাম্পি স্কিন রোগে গরু আক্রান্ত সংখ্যা ৩৬৫। এ পর্যন্ত মারা গেছে ১৩টি গরু। তবে পূর্ব হোসেনপুরের মেনহাজুল হকের ৩ টি গরু মনছার আলীর ২ টি আজম এর ১ টি সহ ২৬টি গরু মারা য়ায়। হামিদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ২৫টি গরু মারা যায়। যশাই সৈয়দপুর গ্রামে ৮ টি আমবাড়ীর মোহাম্মদ আলী সুজনের ২টি গাভী ও ১টি বাছুর মারা যায় উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে ১০০টির বেশি গরু মারা যায়। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ১ লাখ মাত্রা গোট পক্স ভ্যাকসিন গত বছর ডিসেম্বর মাসে রোগ প্রতিরোধে ক্যাম্পিন করে উপজেলার ১০ ইউনিয়নে প্রায় ৬৫ হাজার গরুকে প্রয়োগ করা হয়েছে। উপজেলায় দুগ্ধ খামার ১০৮২ ও হৃষ্টপুষ্ট খামার ১০৭০ রয়েছে।

পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা ডা. মো. হামদুল্লাহ জানান, রোগাক্রান্ত অসুস্থ গরুর গোশত খাওয়া মোটেই ঠিক হবে না। পার্বতীপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজার রহমান বলেন, রোগ প্রতিরোধের জন্য অফিসে কোনো ওষুধ নেই। ঝুঁকি বাড়ছে দুগ্ধ উৎপাদন ও পশু চামড়ার ক্ষেত্রে। সাধারণত বর্ষার শেষে শরতের শুরুতে অথবা বসন্তের শুরুতে মশা-মাছির বংশ বিস্তারের সময় রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। ল্যাম্পি স্কিন ভাইরাসে আক্রান্ত গরুর গায়ে ছোট ছোট গুটি গুটি উঠে ও ফুলে যায়, পা ফুলে যায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘা হয়। এই রোগ মানুষের মধ্যে না ছড়ালেও গরুর ক্ষেত্রে এটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com