সান্তাহারে অনুমোদন ছাড়াই সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ

সান্তাহার (বগুড়া) প্রতিনিধি:
    সময় : শুক্রবার, জুন ২১, ২০২৪, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
  • ২৯৫ Time View

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই বগুড়ার সান্তাহারে সড়কের দু’পাশ থেকে অবৈধভাবে কেটে রাখা ১০টি গাছ জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বগুড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতানা খানম গাছগুলো জব্দ করেন।

সান্তাহার ইউপির দমদমা-কদমা সড়কের রক্তদহ বিলের নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে এসব গাছ কাটেন ওই এলাকার আব্দুস সালাম নামের এক কাঠ ব্যবসায়ী। তিনি কার নির্দেশে গাছগুলো কাটছেন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতানা খানম।

জানা গেছে, গত ১৬ বছর আগে সান্তাহার ইউপির দমদমা গ্রামের ২৮জন যুবক মিলে দলবদ্ধভাবে নিজ উদ্যোগে সড়কের দু’পাশে দেড় শতাধীক ইউক্যালিপটাস গাছ রোপন করেন। তাঁরাই যত্ন নিয়ে এসব গাছ বড় করেন। হঠাৎ বুধবার সকাল থেকে দমদমা গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম এসব কাছ কাটতে শুরু করেন। খবর পেয়ে পরের দিন বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সালামসহ যারা উপস্থিত ছিলেন সকলকে গাছ কাটতে নিষেধ করেন।

দমদমা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আতোয়ার রহমান বলেন, ‘গাছগুলো আমার ছেলে শাহরিয়ার কবির শিপলুসহ আমার মহল্লার প্রায় ২৮জন যুবক রোপন করেন। কিন্তু তাদের না জানিয়েই গাছগুলো কাটা শুরু করেন। পরে সালামের সাথে কথা বলে জানতে পারি দমদমা গ্রামের জনৈক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তাকে গাছগুলো কাটতে বলেছেন। অনুমোদন ছাড়াই বৃক্ষরোপনকারিদের না জানিয়ে তিনি গাছগুলো কাটা অন্যায় এবং অপরাধ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।’

জানতে চাইলে আব্দুস সালাম জানান, তিনি গাছগুলো কিনে নিয়েছেন মাত্র। গাছগুলো কাটতে দমদমা পূর্বপাড়া মসজিদের নামে একটি দরখাস্ত দেওয়া হয়। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে তাদের একটি কাগজ দিয়েছে। গাছগুলো কাটার কাগজ তার কাছে রয়েছে। কিন্তু তিনি সেই কাগজ কাউকে দেখাতে রাজী নয়।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা আদমদীঘি থানার উপ পরিদর্শক মানিক কুমার বলেন, আব্দুস সালাম অনুমোদনের কোনো কাগজ দেখাতে পারেন নি। গাছ কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। সেই সাথে সংশ্লীষ্ট দপ্তরকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারাই পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান পিন্টু বলেন, সড়কে যে কেউ গাছ লাগাতে পারবে তবে দরপত্র ছাড়া কেউ কাটতে পারবেন না। তারা যে কাজটি করেছেন এটি রিতিমতো অপরাধ। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা হওয়া উচিৎ। তা না হলে আরো বেশি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানতে চাইলে আদমদীঘি উপজেলা বন কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) জানান, বিষয়টি দেখা হবে। বগুড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতানা খানম জানান, ওই সড়কে গাছ কাটতে তাঁরা কাউকে অনুমোদন দেন নি। অবৈধভাবে গাছ কাটায় বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে ১০টি গাছ জব্দ করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com