ঘোড়ারগাড়ি চালিয়ে সংসার চলে অর্ধশত পরিবারের!

সোনাতলার চরাঞ্চলে পণ্য বহনের একমাত্র বাহন ঘোড়ারগাড়ি

মোশাররফ হোসেন মজনু, সোনাতলা (বগুড়া) থেকে:
    সময় : মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০২৪, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
  • ৬৯৮ Time View
সোনাতলার চরাঞ্চলে ঘোড়ারগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় অর্ধশত পরিবার। ছবি: মোশাররফ হোসেন মজনু

বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা নদীর চরাঞ্চলে পণ্য বহনের একমাত্র বাহন ঘোড়ারগাড়ি। ঘোড়ার গাড়িতে পণ্য বহনে আয়-রোজগার করে জীবন জীবিকা চলে অর্র্ধশতাধিক পরিবার।

উপজেলার তেকানী চুকাই নগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের নিভৃত যমুনার চরাঞ্চলসহ আশেপাশের অঞ্চলে একমাত্র বাহন ঘোড়ারগাড়ি। চরাঞ্চলে নেই কোনো ভালো রাস্তাঘাট। রাখার মতো নেই কোনো ভালো ব্যবস্থা। ঘোড়াগুলো পায় না কোনো ভালো খাবার। বর্ষা ও বন্যার সময় এ এলাকার ঘোড়াসহ অন্যান্য প্রাণির মতো ঘোড়ার খাদ্যের অভাব দেখা দেয়।

চরাঞ্চলের জমিতে মরিচ,ভ্ট্টূা,গম,পিঁয়াজ ও ধানসহ অন্যান্য ফসলের জন্য বিখ্যাত। এখানকার ফসল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যায়। চরাঞ্চল থেকে ফসলগুলো ঘোড়ার গাড়িতে করে পৌছানো হয় পাকুল্লা, হরিখালী,কাচারী বাজার, ওয়াপদা বাঁধ ও বালিয়াডাঙ্গা ছাড়াও অন্যান্য স্থানে। আবার ঘরবাড়ির জন্য নির্মাণ সামগ্রী ঘোড়ার গাড়িতে করেই বহন করে আনা-নেয়া করা হয় চরাঞ্চলে। চরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য ভালো রাস্তা না থাকায় ধু-ধু বালুর মধ্য দিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে অতি কষ্টে পণ্য বহন করা হয়। এ সুবিধা শুধু শীত ও খরা মৌসুমে। কারণ এ সময়ে নদীতে পানি থাকে না।

ঘোড়ার গাড়ির মালিকরা এ দুই মৌসুমে বিভিন্ন পণ্য বহন করে যেটুকু আয় করে তা দিয়ে ঘোড়ার খাবারের ব্যবস্থা ও পরিবারে সংসার চালাতে হয়। তবে ঘোড়ার যে পরিশ্রম, সেমোতাবেক এই নিরীহ প্রাণিকে উপযুক্ত খাবার দেয়া সম্ভব হয় না। কারণ খাদ্যের দাম বেশি। ঘোড়া পালনের জন্য সরকারি ভাবে কোনো সুযোগ সুবিধা পায় না তারা।

ঘোড়ারগাড়ি মালিক সবু আকন্দ জানান, তিনি প্রায় তিন বছর ধরে ঘোড়ারগাড়ি চালান। তিনি পণ্য বহন করে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করেন। এ দিয়ে তার ঘোড়ার খাবার ব্যবস্থা ও নিজের সংসার চালাতে হয় কোনো মতে। সরকার যদি ঘোড়া লালন-পালনের জন্য বিনামূল্যে খাবার ও আর্থিক সহযোগিতা করে,তাহলে আমার মতো অন্যান্য ঘোড়ারগাড়ি মালিকদের অনেকটা সুবিধা হতো। চরাঞ্চল ও আশপাশের এলাকার কৃষকরা জানান, আমাদের চরাঞ্চলের জমিতে ভূট্টা,মরিচ,গম,ধান ইত্যাদি ফসল ফলাই। উৎপাদিত ফসলগুলো একমাত্র বাহন ঘোড়ারগাড়িতে করে বাড়িতে কিংবা বিক্রির জন্য স্থানীয় হাটবাজারে নিয়ে যাই। আবার বাড়ি-ঘর নির্মাণের জন্য ইট,সিমেন্ট বালু ছাড়াও অন্যান্য জিনিসপত্র ঘোড়ারগাড়িতে করে বাড়িতে আনা-নেয়া করে থাকি। কিন্তু ভালো কোনো রাস্তা না থাকায় অতিকষ্টে মালামাল বা পণ্য বহন করা হয়ে থাকে।

পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম লতিফুল বারী টিম জানান,যমুনা নদীর পূর্ব এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত করতে গেলে রাস্তাঘাটের প্রয়োজন। চরাঞ্চলের ফসল ও বিভিন্ন জিনিসপত্র ঘোড়ারগাড়িতে করে আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র বাহন হিসেবে কাজ করে ঘোড়ারগাড়ি। এ অঞ্চলে ভালো কোনো রাস্তা নেই। তবে ইতোমধ্যে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৩টি রাস্তার কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন,ঘোড়ার খাদ্যের দাম অনেক বেশি। বেশি দামেই খাদ্য কিনতে হয়। টাকা অভাবে অনেকে তা কিনতে পারে না। সরকার যদি ঘোড়ার খাদ্যের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতো তাহলে ঘোড়া পালনের জন্য সুবিধা হতো।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নুসরাত জাহান লাকী জানান,গরু লালন-পালনের ক্ষেত্রে যেমন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, বিনামূল্যে খাদ্য দেয়া হয়, নানা রকম উপকরণ দেয়া হয়। যদি ঘোড়ার ক্ষেত্রে এ রকম একটি ব্যবস্থা করা যায় এ বিষয়ে আমি আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখবো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com