লাঞ্চের আগেই অস্ট্রেলিয়ার যাই যাই অবস্থা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। বাংলাদেশের ৪২৬ থেকে ৬৭ রান দূরে থেকে দিনের খেলা শুরু, অস্ট্রেলিয়ার হাতে ছিল ৬ উইকেট। কিন্তু লাঞ্চের আগে প্রথম সেশনে ৩১ ওভার ব্যাটিং করেই তারা হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট এবং তিনটিই নেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়া অবশ্য তাঁর এই ঘূর্ণি তাণ্ডবের মধ্যেই প্রথম সেশনে ৮২ রান করে ইনিংস হার এড়ানো নিশ্চিত করে। লাঞ্চ করতে যায় ৭ উইকেটে ২৪৩ রান, ১৫ রানের লিড এবং ৩ উইকেট হাতে নিয়ে। লাঞ্চের পর ১১.১ ওভারের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান গ্রিনসহ সেই ব্যাটসম্যানও।
৫৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের জয়টা এরপর হয়ে দাঁড়ায় কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বোল্ড হয়ে যান জস হ্যাজলউডের বলে। তবে আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম আর তিনে নামা অভিজ্ঞ মুমিনুল হক মিলে এরপর ইতিহাসের বাকিটা লিখেই মাঠ ছেড়েছেন বিজয়ের উৎসবে ভাসতে ভাসতে। সাদমান ২৫ আর মুমিনুল অপরাজিত ৩০ রানে। ওয়েবস্টারকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে মারা বাউন্ডারিতে জয়সূচক রানটা করেছেন মুমিনুলই।
গ্যালারি থেকে তখন একটাই চিৎকার ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।’ অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের হাততালি আর সেই চিৎকারে কিছু সময়ের জন্য ডারউইন যেন হয়ে উঠল সত্যিকারের বাংলাদেশ! ড্রেসিংরুমের সামনে ক্রিকেটাররা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে আবেগে ভাসছেন। ওদিকে ড্রেসিংরুম থেকে প্রেসবক্স—অস্ট্রলিয়ান শিবির তখন পুরোপুরি স্তব্ধ।
অবশ্য চতুর্থ দিনে টেস্টের সম্ভাব্য পরিণতি বুঝতে পেরে ছুটির দিনেও আজ খুব সামান্য কিছু অস্ট্রেলিয়ান দর্শকই মাঠে এসেছেন খেলা দেখতে। গ্যালারি প্রায় ফাঁকাই ছিল, মাঠের বাইরে ছিল না গত তিন দিনের উৎসবমুখর পরিবেশ। এমনকি স্টেডিয়ামের প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স লাউঞ্জ, যেটি মূলত ভিআইপি লাউঞ্জ হিসেবেই পরিচিত, সেখানেও প্রতিটি চেয়ার পড়ে থাকল শূন্য!
টেস্টের অন্য দিনগুলোতে বিলাসবহুল এই লাউঞ্জ সাবেক ক্রিকেটার, ক্রিকেট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গমগম করেছে। সারা দিনের জন্যই থাকত বুফে খাওয়াদাওয়া আর নানা রকম পানীয়ের আয়োজন। অথচ আজ কিছুই ছিল না! পুরো লাউঞ্জ খালি, বসানো হয়নি খাবার টেবিল, সাজানো হয়নি খাবার।
Leave a Reply