ড.ইউনূস প্রেসিডেন্ট হতে পারলেন না যে কারণে

Reporter Name
    সময় : মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
  • ১০২ Time View
এফ শাহজাহান :
দলমত নির্বশেষে সবাই ভেবেছিলেন ড.ইউনুসকে প্রেসিডেন্ট বানাবে বিএনপি। লন্ডন ষড়যন্ত্র বৈঠকে ড.ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট করার অঙ্গীকারও করা হয়েছিলো। এরপর থেকে বিএনপি যা চেয়েছে, যেভাবে চেয়েছে,ড.ইউনূস তাই করেছেন, সেভাবেই করেছেন। তবু শেষ পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারলেন না শুধু ভারতের ঘোর আপত্তির কারণে।
বিএনপিও চেয়েছিল ড.ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট করতে। বিএনপির ফিটলিস্টে বরাবরই ড.ইউনূস শীর্ষে ছিলেন। সবকিছুর বিবেচনায় এই সময়ে বাংলাদেশে তাঁর মতো একজন যোগ্য প্রেসিডেন্টের খুব বেশি দরকার ছিলো।
দেশের মানুষও চেয়েছিলেন ড.ইউনূস প্রেসিডেন্ট হোক। এমনকি বিরোধী দলগুলোও চেয়েছিলো ড.ইউনূস প্রেসিডেন্ট হোক। দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম চাওয়া ছিলো ইউনূস।
এতোকিছুর পরও শুধু ভারতের আপত্তির কারণে বিএনপি শেষ পর্যন্ত ড.ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট বানাতে পারলো না। ভারত কখনোই প্রেসিডেন্ট হিসেবে ড.ইউনুসকে চায় না। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে এমন কাউকে প্রেসিডেন্ট হতে দিতে চায় না ভারত।
ড.ইউনূস প্রেসিডেন্ট হলে ভারতের নীলনকশা অনুযায়ী পলাতক হাসিনাকে পূণর্বাসন করা সম্ভব হবে না। বরং দন্ডিত হাসিনার রায় কার্যকরার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়িত হবে।
ভারত বেশ ভালো করেই জানে যে, ড.ইউনুস প্রেসিডেন্ট হলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর প্ল্যান-বি সফল হবে না। শুধু এই কারণেই শেষ পর্যন্ত ড.ইউনূস প্রেসিডেন্ট হতে পারলেন না।
লন্ডন ষড়যন্ত্র বৈঠকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আশ্বাস পেয়ে থ্রি-সিক্সটি ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছিলেন ড.ইউনূস। বিএনপির চাহিদা মত ১২ই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দিয়েছেন। ডিপস্টেটকে কাজে লাগিয়ে ব্নিপিকে ক্ষমতার চেয়ারে বসিয়েছেন।
দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ড.ইউনূসের কাছে পিআর পদ্বিধতির নির্বাচন চাইলেও শুধুমাত্র বিএনপির বিরোধিতার কারণে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেননি তিনি। জুলাই সনদ,জুলাই ঘোষণা,গণভোট এবং রাষ্ট্র মেরামতের সব ইস্যুতেই বিএনপি বিরোধিতা করেছে আর ড.ইউনূস সেটাতেই সায় দিয়ে গেছেন।
বিএনপি ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দল একই দিনে জাতীয় নির্বাচন আর গণভোটের আয়োজন না করে আগে গণভোটের দাবি জানালেও ড.ইউনূস তা শোনেন নি।
বিএনপির ইচ্ছামত একই দিনে গণভোট আর জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার কারণে আজ বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করার সুযোগ পাচ্ছে। সংবিধান সংস্কারের গণদাবি অস্বীকার করছে। এরফলে জুলাই বিপ্লব বিফলে যাচ্ছে।
লন্ডন ষড়যন্ত্র বৈঠকের বোঝাপড়া অনুযায়ী ড.ইউনূস এবং ডিপস্টেট মিলে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সফট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছেন।
বিএনপি ক্ষমতা পেয়েই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। তারা ক্ষমতার চেয়ারে বসেই জুলাই বিপ্লবের চেতনার মূলে কুঠারাঘাত করেছে। গণভোটের রায় অস্বীকার করার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের গণআকাঙ্খার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি বিএনপি নিজেদের সেই ৩১ দফার কথাও বেমালুম ভুলে গেছে।
সেই একই ধারাবাহিকতায় ড.ইউনূসকে দেওয়া অঙ্গীকারও ভুলে গেছে বিএনপি। ভারতকে খুশি রাখতে গিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি ভুলতে বাধ্য হয়েছে বিএনপি।
ক্ষমতায় যাওয়ার অগে এবং ক্ষমতায় যাওয়ার পরে বিএনপির ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ার পেছনে মূল কারিগর হচ্ছে ভারত।
বিএনপি নির্বাচনের আগে দেওয়া সব ওয়াদা ভুলে গেলেও ভারতকে দেওয়া ওয়াদার কথা একটাও ভোলেনি। ভারতকে খুশি করার জন্য বাধ্য হয়েই বিএনপিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরতে হয়েছে। আর ভারতের অনিচ্ছার কারণেই এখন ড. ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট করতে পারছে না।
বিএনপির জুলাই চেতনা বিরোধী অবস্থান এবং গণভোটের রায় প্রত্যাখানের কারনে একপর্যায়ে ড. ইউনূসও বিএনপির প্রেসিডেন্ট হতে রাজি হননি। একদিকে ভারতের প্রবল বিরোধীতা আর অন্যদিকে ড.ইউনূসের অনীহার কারণে শেষপর্যন্ত ভারতের নীলনকশা অনুযায়ী মীর্জা ফখরুলের কপাল খুলেছে।
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভারতের প্রথম চয়েস মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হাসিনা এবং আওয়ামী লীগেরও পছন্দের বাছাই তিনি। একারণে বিএনপিও শেষ পর্যন্ত মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো একজন বহুল সমালোচিত ব্যক্তিকেই প্রেসিডেন্ট বানাতে বাধ্য হচ্ছে।
…………………………………………
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
১১ জুলাই ২০২৬
………………………………………….

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com