এফ শাহজাহান :
নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায় দিল্লিতে সাংবাদিক সমাবেশে হাসিনা বললেন, “ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবো। তারা আমাকে হত্যা করতে পারে, জেলে পাঠাতে পারে, আমি জানি আমাকে আটক করা হতে পারে, কারাগারে পাঠানো হতে পারে, তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে; কিন্তু ভয় আমার জনসেবার কর্তব্যকে নির্ধারণ করতে পারে না। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশ অনেক আগেই আমার জীবনের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে।”
দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়ার আয়োজিত অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে তিনি জানান, “বাংলাদেশে স্বত:স্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল না। বরং ক্ষমতা দখলের উদ্দেশে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পরিকল্পনা হয়েছিল। ১৫ই জুলাইয়ের পর থেকেই এই আন্দোলনের চরিত্র বদলে যায়। দেশের সম্পত্তি পুড়ে খাক হয়েছিল সেদিন।”
আওয়ামি লিগ সরকারের উৎখাতের নেপথ্যে মুহাম্মদ ইউনূস ছিলেন বলে সরাসরি অভিযোগ করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ছাত্রদের কোটা আন্দোলনকে ধীরে ধীরে এক দফার সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে পরিণত করা হয়েছিল।’
২০২৪-র ছাত্র আন্দোলন শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণ ছিল না বলে দাবি শেখ হাসিনার। তাঁর কথায়, ‘হাইকোর্টের কোটা-সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল। আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদেরও আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।’ হাসিনার দাবি, তাঁরা রাজি হননি। হাসিনার অভিযোগ, কোটা আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকার হটানোর এক দফা আন্দোলনে পরিণত হয়।
ছাত্র আন্দোলন একটি সহিংস দল হাইজ্যাক করে নিয়েছিল বলে অভিযোগ করলেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের সময়ে ৪৫০টিরও বেশি থানায় আগুন লাগানো, সরকারি ভবনে হামলা, কিছুই বাদ যায়নি। বহু পুলিশকর্মী নিহত হন।
হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও এদিন ভারচুয়ালি উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরি নওফেল, প্রাক্তন অধিনায়ক শাকিব-আল-হাসানের মতো একাধিক ব্যক্তিত্বরাও ছিলেন।
অনুষ্ঠানে হাসিনাপুত্র বলেন, “বাংলাদেশ আরেকটা পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে আওয়ামি কর্মীদের খুন করা হচ্ছে, সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত, দুবৃত্তের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। পাক ঘনিষ্ঠ মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত, হিজবুত তাহরিরের মতো সংগঠন সক্রিয় সে দেশে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তর গণমাধ্যম, তাই আমার আবেদন এই সমস্ত কথা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম যেন তুলে ধরে। তাহলে আন্তর্জাতিক আঙিনায় বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসবে। বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে না আনলে ভারতেরও ভবিষ্যৎ বিপন্ন।”
হাসিনার এই আস্ফালনের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিককালে তিস্তা পানিচুক্তি, পুশইন, বাংলাদেশ চিনা সক্রিয়তা নিয়ে নয়া দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে।
ক্ষমতায় এসে প্রথা ভেঙে আগে চিন সফর করেছেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিচ্ছে তাঁর সরকার। লালমণির হাট থেকে শুরু করে মংলা বন্দরে চিনা সক্রিয়তা বাড়ছে। সব মিলিয়ে বিষয়টিকে যে ভালভাবে দেখছে না দিল্লি।
এই প্রেক্ষাপটে হাসিনাকে দাবার ঘুঁটি বানিয়ে বাংলাদেশকে নতুন খেল দেখাতে চাচ্ছেন মোদী।
………………………………….
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
০৫ জুলাই ২০২৬
………………………………….
Leave a Reply