সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু চুক্তির প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে পারমানবিক বোমা বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি আরব।
এরফলে শুধু পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাব পুরোপুরি উল্টে যাবে তা নয়, গোটা এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য পাল্টে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের মধ্যেই সৌদি আরবের সঙ্গে আমেরিকার এই ঐতিহাসিক চুক্তি হতে যাচ্ছে। সৌদি আরবকে পরমাণু বোমার কাঁচামাল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের অনুমতি দিতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাবেক সেনাকর্তাদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণের অনুমতি দিয়ে উপসাগরীয় এলাকায় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।
এতোদিন মুসলিম রাষ্ট্রগুলির মধ্যে শুধুমাত্র পাকিস্তানের কাছেই ছিল পারমানবিক বোমা। তলে তলে এখন ইরানও পারমানবিক শক্তিধর দেশে নাম লিখিয়েছে। এরপর সৌদি আরবও পারমানবিক বোমার মালিক হয়ে গেলে এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য পুরাটাই পাল্টে যাবে।
পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি করার পর সৌদি আরবের এই পারমানবিক শক্তিধর হয়ে ওঠাকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না ইস.রাইল। পাকিস্তানের সঙ্গে বন্দুত্ব পাতা সৌদি আরবের হাতে পারমানবিক বোমা যাওয়ার খবরে ভারতের কপালেও পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।
সৌদি-মার্কিন বেসামরিক পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে সর্বাধিক আপত্তি রয়েছে ইস.রায়েলের। পশ্চিম এশিয়ার ছোট্ট ওই ইহুদি রাষ্ট্রটি আণবিক শক্তিধর।
সৌদি আরবের সঙ্গে প্রস্তাবিত পরমাণু চুক্তির বাস্তবায়নে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনেরও প্রয়োজন পড়বে ট্রাম্পের।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবিত চুক্তিটিতে ‘সচেতন’ ভাবে দু’টি সুরক্ষা ব্যবস্থা বাদ রাখা হয়েছে। এত দিন ওয়াশিংটনের কাছে সেগুলি ছিল সংবেদনশীল শ্রেণিভুক্ত। সেই তালিকার প্রথমেই আছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ।
এ ছাড়া বেসামরিক পরমাণু চুক্তিতে সাধারণত ব্যবহৃত জ্বালানির পুনপ্রক্রিয়াকরণের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর আন্তর্জাতিক পরিদর্শন সংক্রান্ত ‘অতিরিক্ত প্রোটোকল’ শর্ত আরোপ করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সে দিক থেকেও ছাড় পাচ্ছে সৌদি আরব। আর একেই আরব রাষ্ট্রটির হাতে পারমানবিক অস্ত্র তৈরির ‘ফাঁকা চেক’ তুলে দেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন আন্তির্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
১৯৬৭ সালে ‘শান্তির জন্য পরমাণু’ কর্মসূচির আওতায় ইরানের হাতে আণবিক চুল্লি তুলে দেয় আমেরিকা। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার।
৮০-র দশকের শেষ দিকে অত্যন্ত গোপনে আণবিক অস্ত্র তৈরিতে নামে সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় রাষ্ট্র। একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেও তা কখনওই পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি আমেরিকা। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটবে বলে আশঙ্কা করছে ইস.রাইল।
২০১৮ এবং ২০২৩ সালে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ় এবং ফক্স নিউজ়ে সাক্ষাৎকার দেন সলমন। সেখানে পরমাণু বোমা নিয়ে ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, ‘‘তেহরান ওই গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করলে নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদেরও সেটা লাগবে।’’ প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে সেই স্বপ্ন পূরণের রাস্তায় হাটবে সৌদি আরব তাতে কোনই সন্দেহ নেই।
………………………………………
এফ শাহজাহান
ডিফেন্স অ্যানালাইসিস
২৫ জুলাই ২০২৬
………………………………………..
Leave a Reply