গাইবান্ধায় বিএনপি সন্ত্রাসীদের হামলায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ নিহত

Reporter Name
    সময় : রবিবার, জুন ২১, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
  • ৯২ Time View
 সাতমাথা ডেস্ক : গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নে বিএনপি সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ নিহত হয়েছেন।বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে ও রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসা তৃতীয় বর্ষের আল কুরআন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।

অপর দিকে অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা একই ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি।

স্থানীয়রা জানান,  “রবিবার বিকাল আনুমানিক ৪টার কিছু পরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মতবিরোধের জেরে বিএনপির উগ্র ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর আকস্মিক হামলা চালাতে উদ্যত হয়। এ সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি মীমাংসা করেন। এর কিছু সময় পর বোনারপাড়া চৌমাথায় অবস্থানকালে যুবদলের সন্ত্রাসী মুকুল, আশরাফ ও পলাশ অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ গলায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন। একই ঘটনায় সালাহউদ্দিন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হন, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।  ২১ জুন রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন,হত্যার প্রতিবাদ ও খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করার ঘটনা আইনের শাসন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। আমরা এ নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গাইবান্ধার এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপির একশ্রেণির উগ্র নেতাকর্মী রাষ্ট্রীয় সম্পদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার এবং অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে, যা কোনোভাবেই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।”
নেতৃবৃন্দ বর্তমান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা ও আইনের শাসন মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ২০৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ, দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের বিস্তারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। সরকারের কার্যকর ভূমিকা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং ক্ষেত্রবিশেষে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”
নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবিরের কর্মী সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সেই সাথে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “ক্ষমতার মোহে বিএনপি দেশজুড়ে যে খুন, সন্ত্রাস, দখল ও অস্ত্রের রাজনীতির মাধ্যমে পুনরায় ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রদর্শন করছে, যদি তারা এসব কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে না ধরে, তবে অচিরেই তাদেরকেও পতিত ফ্যাসিস্টদের পরিণতি বরণ করতে হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com