নির্যাতন ও হত্যায় জড়িতদের কোনো ক্ষমা নেই : সিরিয়ার বিদ্রোহী নেতা

সাতমাথা ডেস্ক:
    সময় : বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৪, ১২:০২ অপরাহ্ণ
  • ২৮৪ Time View

সিরিয়ায় স্বৈরাচার বাশার আল-আসাদ সরকারের সময় কারাবন্দীদের নির্যাতন ও হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা ও তাঁদের ক্ষমা না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আবু মোহাম্মদ আল–জুলানি (আল–শারা)।

এদিকে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের যেসব কর্মকর্তা বিদেশে পালিয়েছেন, তাঁদের ফেরত পাঠাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অনুরোধ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসাদকে হটাতে নেতৃত্ব দেওয়া এ বিদ্রোহী নেতা।

হায়াত তাহরির আল–শাম (এইচটিএস) নেতা আহমেদ আল–শারা গতকাল বুধবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান।

আসাদ সরকারের সময় বন্দী নির্যাতনে জড়িতদের ক্ষমা করার প্রশ্নই আসে না উল্লেখ করে বিবৃতিতে আল–শারা বলেন, ‘আমরা সিরিয়ায় তাঁদের (সাবেক কর্মকর্তাদের) খুঁজে বের করব। যাঁরা বিদেশে পালিয়েছেন, তাঁদের ফেরত পাঠাতে দেশগুলোর কাছে আমরা অনুরোধ জানাব; যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়।’

আসাদ সরকারকে হটানোর পর সিরিয়ায় হাজারো কারাবন্দীকে মুক্ত করে দিয়েছেন বিদ্রোহীরা। কুখ্যাত সেদনায়া কারাগারসহ দেশটির বিভিন্ন কারাগার থেকে নিখোঁজ হওয়া হাজারো মানুষের স্বজন এখন তাঁদের খুঁজে ফিরছেন। এমনই এক প্রেক্ষাপটে আল–শারা পতিত সরকারের কর্মকর্তাদের ব্যাপারে এ হুঁশিয়ারি দিলেন।

১৩ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে এ মুহূর্তে সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করছেন বিদ্রোহী নেতারা। নতুন এই শাসকেরা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারেন কি না, সেদিকে সতর্ক নজর রাখছে বিশ্ব। এ অবস্থায় বিদ্রোহী নেতার বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা আল–শারার গোষ্ঠী এইচটিএস এখন সিরিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর শক্তি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন শাসকদের অবশ্যই ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের দাবি পূরণ এবং সহিংসতা ঠেকানো ও আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ইতিমধ্যে, সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য, লাখ লাখ সিরীয় শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে আনা, দেশবাসীর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা ও জনগণকে মৌলিক সেবা দেওয়া। তবে দেশ পুনর্গঠনের কাজ করা হবে খুবই কঠিন।

অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল–বশির বলেন, ‘আমাদের কোনো বৈদেশিক মুদ্রা নেই। নেই ঋণ ও বন্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা। আমরা এখনো তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করছি।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com