দিনাজপুরের পার্বতীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতিসহ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে মানব বন্ধন হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১১ টায় পার্বতীপুর পৌরসভা চত্ত্বরে পৌরসভার মাস্টাররোলে কর্মচারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা এই মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মাহাবুব রশিদ সংগ্রাম, শরফিুল ইসলাম বাবু, পৌরসভার কর্মচারী আফছানা খাতুন লিপ্টি, নবাব হোসেন প্রমুখ। এদিকে মেয়র না থাকলেও নিয়ম বহির্ভুতভাবে অনুষ্ঠিতব্য নিয়োগ বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন অপতৎপরতায় মেতেছেন এ নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম হোতা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম। জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর, সহকারী কর আদায়কারী, কোষাধ্যক্ষ, স্বাস্থ্য সহকারী, নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক ও সার্ভেয়ার ৬টি পদ শুন্য থাকায় দায়িত্ব নেয়ার পর পরই নিয়োগ বাণিজ্য বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লাগেন সাবেক মেয়র।
এরই অংশ হিসেবে চলতি বছর ৫ মে নাম সর্বস্ব দুটি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ফলে স্থানীয়রা ছাড়াও আগে থেকে পার্বতীপুর পৌরসভার অস্থায়ীভাবে কর্মরত কর্মচারীরা আবেদন প্রক্রিয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাস্টাররোলে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি জানান, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও আমরা তাতে আবেদন করার সুযোগ পাইনি। এতে ৬ পদের বিপরীতে আত্মীয় স্বজনদের দিয়ে ২৭ চাকুরী প্রার্থী দেখানো হয়।
এসব পদে পূর্ব থেকে নির্ধারিত ৬ প্রার্থীর মধ্যে পৌর মেয়রের ভাতিজা মাহমুদুল হাসান, নির্বাহী প্রকৌশলীর ছেলে নাফিস হাসান নিয়নসহ তিন জন এবং মেয়রের দুই শুভাকাঙ্খীর দু’জন প্রার্থী রয়েছেন। অনৈতিক পন্থায় নিয়োগ প্রদানের জন্য আগে থেকেই একটি তালিকা তৈরী করা হয়। এদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে, সাবেক মেয়র আমজাদ হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মতামত জানাও সম্ভব হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার ছেলে আবেদন করেছে। যোগ্যতা থাকলে তার চাকুরী হবে। কিন্তু একই পদে তার নিকটাত্মীয় অন্য দুই প্রার্থীর জন্য অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জানে আলম বলেন, নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। পার্বতীপুর পৌরসভার মাস্টাররোলে কর্মরত কর্মচারীবৃন্দ মানব বন্ধনে এ ৬ পদে অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল সহ নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ও প্রধান সহকারী মিজানুর রহমানের অপসারনেরও দাবী জানান।
Leave a Reply