ইসমাতে আম্বিয়া,আদালতে সাহাবা এবং মিয়ারে হক নিয়ে মাওলানা মওদুদী সম্পর্কে যে সব অপবাদ দেওয়া হচ্ছে তা সঠিক নয়। স্রেফ অপবাদ।
আকাবীরদের বরাত দিয়ে এর আগেও এসব বিষয়ে একই ঘারানা থেকে তুমুল ফিতনা ছড়ানো হয়েছে। তাতে জামায়াতের কোন ক্ষতি হয়নি। এতে ক্ষতি হয়েছে ইসলামের। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইসলামী আন্দোলন।
ইসমাতে আম্বিয়া,আদালতে সাহাবা এবং মিয়ারে হক প্রসঙ্গে মাওলানা মওদুদী রাহেমাহুল্লাহ সম্পর্কে যে সব আকাবীররা যেভাবে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছেন, তা একেবারে জুলুমের সীমা অত্রিকম করে যাচ্ছে।
এসব ইলমী বিষয়ে উপযুক্ত ব্যাক্তিগণ বিতর্ক করতেই পারেন। এই বিতর্ক অতীতেও হয়েছে,ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে। ‘স্কুল অব ইসলামিক থট’এগুলো নিয়ে গবেষণা করবে, সেটাই উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর ছিলো।
তা না করে আকাবীরগণ যেভাবে চোখ বন্ধ করে মাঠে নেমেছেন, তাদের এই প্রোগান্ডা এবং আস্ফালন শেষ পর্যন্ত ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনকেই ক্ষতিগ্রস্থ করেব। আকাবীরগণ যেভাবে কাউকে বাতিল ফতোয়া দেওয়া,কারো কাপড় খুলে ফেলার হুমকী দিচ্চেন,তা রীতিমত বলাৎকারী জুলুমের সামিল।
‘দেওবন্দীয়ত’,‘কওমিয়ত’ আর ‘জমিয়ত’ যেভাবে মওদুদীয়তের পেছনে উঠেপড়ে লেগেছেন, তাতে বুঝতে বাঁকি নেই যে; আপনারা কিঞ্চিত হদীয়া-তোহফার লোভে নির্ঘাত ইহুদী-মুশরিকদের পাতানো ফাঁদে পড়েছেন।
আকাবীর নামধারী যে সব ‘মাকাবীর’ এইসব জুলুমে লিপ্ত হয়েছেন, দেশবাসী তাদেরকে হাড়ে হাড়ে চেনেন।
এই আকাবীররাই রাজনীতির ইসলামীকরণ নিয়ে মওদুদী রাহেমাহুল্লার উপর বহুত জুলুম করেছেন। এরাই এক সময় ইসলামী রাজনীতির বিরুদ্ধে বেশুমার অপবাদ দিয়েছেন । রাজনীতি হারাম হারাম করে ফিতনা ছড়িয়েছেন। এখন সেই রাজনীতিকেই নিজেদের আখের গোছানোর জন্য আরাম বানিয়ে নিয়েছেন।
আজকের এই আকাবীররাই ইসলাম বিরোধী মুশরিক এবং ইহুদীদের ইশারায় ফতোয়া দিতেন যে, মওদুদী ইসলামী রাজনীতির যে ধারণা পেশ করেছেন, তা নাজায়েজ।
এনারা বলে বেড়াতেন যে, ইসলামে রাজনীতির কোন স্থান নেই। ইসলামে রাজনীতি নিষিদ্ধ। ইসলামী রাজনীতি হারাম। জামায়াতে ইসলাম হারাম। জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম।
আমরা কিছুদিন পর দেখলাম সেই ফতোয়াবাজ আকাবীরদের ঘোর কেটে গেলো। তাদের ইয়াকিন আমল পাল্টে ফেললেন। নিজেই মওদুদীর (রাহেমাহুল্লাহ) দেখানো পথে হাঁটা শুরু করলেন। নিজেরাই ইসলামী রাজনীতিতে জড়িয়ে গেলেন।
নিষিদ্ধ ইসলামী রাজনীতি নিয়ে এনারা নিজেদের মধ্যে এতোটাই কামড়া-কামড়ি শুরু করলেন যে, নিজেরা পদ-পদবী নিয়ে ১৬ ভাগে ভাগ হয়ে গেলেন। অথচ ৮০ বছর আগের জামায়াতে ইসলামী এখনো এককই রয়ে গেলো।
যারা এতোদিন বলে বেড়াতেন, ইসলামে রাজনীতি হারাম ; তারাই এখন ইসলামী রাজনীতির নামে ১৬টি দল বানিয়ে ১৬ ভাগে ভাগ হয়ে ইসলামী রাজনীতির ষোলকলা পূর্ণ করলেন। মওদুদীর দেখানো পথেই এনারা এখন জোর কদমে হেঁটে বেড়াচ্ছেন।
এই আকাবীরগণ কিছুদিন আগেও বলে বেড়াতেন-গণতন্ত্র হারাম, নির্বাচন হারাম। এখন তারা নিজেরাই গণতন্ত্রের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। গণতন্ত্রের গোলাম হয়ে গেছেন। নির্বাচনে যেতার জন্য ইসলাম বিরোধী,শরীয়ত বিরোধীদের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতার লাগাম ধরার আশায় ছুটে বেড়াচ্ছেন।
এদের পেছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে ইহুদী-মুশরিক জোট। ‘র’ আর মোসাদের ইশরাতেই এরা জামায়াতের কাপড় খুলে ফেলার দু:সাহস দেখাচ্ছেন। এরপর হয়তো প্রকাশ্যে বলাৎকারের ঘোষণাও দিবে।
Leave a Reply