হাসিনা কখন ফিরবেন সেটা বড় কথা নয়। ডিসেম্বরে হোক আর জানুয়ারিতে হোক, তিনি ফিরবেন। তাকে ফেরানো হবে। শুধু ফেরানোই নয়, জুলাই গণহত্যার দায়মুক্তিও দেওয়া হবে।
হাসিনাকে ফেরানো এবং পুনর্বাসনের জন্যই গণভোটের রায় প্রত্যাখান করা হয়েছে। জুলাই সনদকে অস্বীকার করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লব নিয়ে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে হাশি-মশকরা করার দুসাহসও দেখানো হচ্ছে।
ফাঁসির আসামী ফেরারি হাসিনার আস্ফালন দেখে মনে হচ্ছে তিনি সহি সালমতে দেশে ফেরার গ্রিন সিগনাল পেয়ে গেছেন। গ্রিন সিগনাল না পেলে এভাবে দেশে ফেরা এবং আইনের মুখোমুখী হওয়ার সাহস দেখাতে পারতেন না। হাসিনার সে সাহসও নেই,নৈতিক শক্তিও নেই। শেখ হাসিনা যদি সাহসী হতেন, তাহলে দেশ ছেড়ে পালাতেন না।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পলাতক হাসিনাকে এই সাহস যোগাচ্ছে কে ?
এর সহজ জবাব হচ্ছে দেশের বাইরে ভারত আর দেশের ভেতরে থাকা জুলাই বিপ্লবের শত্রুরাই ফেরারি হাসিনার ফেরার ব্যবস্থা করছে।
বাংলাদেশের ভারতপন্থী ডিপস্টেটও হাসিনাকে পুনর্বাসনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো ফাঁসির আসামী হাসিনার স্বাক্ষাৎকার প্রচারের দু:সাহসও দেখাচ্ছে। এরাই হাসিনাকে বরণের মঞ্চ সাজাচ্ছে।
গত ১৯ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান শেখ হাসিনাকে ফেরার একটা গ্রিন সিগনাল দিয়েছেন।
ঐ দিন তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনার প্রতিও আমাদের ইনসাফ থাকবে। শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফেরত আসেন। তাঁকে কোনো এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিছু আমরা করব না। ‘ওনার’ বিচার হয়েছে, ওনাকে ডিফেন্ড করতে আবার দেওয়া হবে। তাতে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে যদি তিনি মুক্তি পান,সেটা আমরা মানব’।
হাসিনার দেশে ফেরার জন্য এর চেয়ে বড় গ্রিন সিগনাল আর কী হতে পারে ? একজন ফেরারি আসামীর নিরাপদে ফিরে আসার জন্য এর চেয়ে বড় গ্যারান্টি আর কী হতে পারে ?
বিএনপি সরকারের তিন মাসের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার এই গ্রিন সিগনাল দিয়েছেন।
যারা ভারতকে খুশি করে ক্ষমতায় বসতে চেয়েছেন এবং ভারতপন্থী হিন্দু ও আওয়ামী লীগের ভোট নিয়েছেন, তাদের একটা দায় আছে। সেই দায় থেকেই হাসিনাকে ফেরানো এবং পুনর্বাসন করা তাদের জন্য এখন ফরজ হয়ে গেছে।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন শেখ হাসিনার বক্তব্যের পেছনে অন্তর্নিহিত রহস্য এবং ষড়যন্ত্র রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারও কারও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্যের পেছনে যে ষড়যন্ত্র আছে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরও কেউ কেউ সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। বর্তমান সরকারের অভ্যন্তরের কোনো অংশ ওই ষড়যন্ত্রের সাথে রয়েছে বলে আমরা মনে করি।”
সরকার যে হাসিনার গণহত্যার বিচার চায় না তা স্পষ্ট করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রিজভি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা যে হত্যার মহাযজ্ঞ চালিয়েছেন, শিশু-কিশোরদেরও হত্যা করেছেন। সেই হত্যাযজ্ঞের বিচার নিশ্চিত হোক, সেটা জনগণ চায়।
এখানে খেয়াল করুন,রিজভি কিন্তু বলেননি যে, সরকার শেখ হাসিনার অপরাধের বিচার চায়। তিনি বলেছেন জনগণ বিচার চায়। আবার তিনি বলেছেন, আদালতে হাসিনার বিচার চলছে। ফলে অপরাধের ব্যাপারে বিচার হবে এবং আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।
রিজভির কথায় স্পষ্ট হয়েছে যে হাসিনার বিচারের বিষয়ে সরকারের কোন দায়-দায়িত্ব নেই। সব দায় জনগণের।
জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনা ‘কেবলমাত্র’ ফাঁসির সাজা পাওয়ার জন্যই দেশে ফিরতে পারেন। আমরাও চাই যে হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।
২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী পলাতক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৫ সালের ১৭ই নভেম্বর এই রায় ঘোষণা করা হয়।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় সারা দেশে ৬৬৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা রয়েছে ৪৫৩টি।
হাসিনার দেশে ফেরার আইনী বাধা হচ্ছে পাসপোর্ট । তার কাছে এখন কোন পাসপোর্ট নাই। সেক্ষেত্রে তিনি ট্রাভেল পাস চাইলে সেটি দেওয়ার এখতিয়ার কেবলমাত্র সরকারের। সরকার যদি তাকে সেটি দেয় তাহলে তিনি দেশে ফিরতে পারেন।
সরকার ট্রাভেল পাস দিলেও এবং শেখ হাসিনা সেই ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরলেই আইনত তিনি গ্রেফতার হবেন । এরপর তার বিরুদ্ধে দেওয়া ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।শেখ হাসিনা আপিল করলেই তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হয়ে যাবে। তারপর মূল আপিলের শুনানি হবে। এরপর আপিলে যদি খালাস পেয়ে যান, তাহলে শেখ হাসিনা আবার রাজকীয় স্টাইলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হবেন।
ভোটের আগে যারা ভারতের দারস্থ হয়েছিলেন এবং হাসিনার কাছে আওয়ামী লীগের ভোট চেয়েছিলেন,তারাই যে হাসিনাকে ফেরাতে বাধ্য হচ্ছেন ; তাতে আর সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।
…………………………………….
এফ শাহজাহান
ক্রাইসিস অ্যানালাইসিস
১২ জুলাই ২০২৬
……………………………………..
Leave a Reply