পৃথিবীর বিখ্যাত ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ কিংবা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী হাটহাজারী মাদরাসার ইফতা বিভাগের খবরদারি হয়তো আর বেশিদিন চলবে না। আকাবীরদের খোঁজ-খবর নেওয়ারও কেউ প্রয়োজনবোধ করবে না। কারণ খুব দ্রুতই জামানা পাল্টে যাচ্ছে।
পৃথিবীর বিখ্যাত এবং প্রাচীন ইলমে ওহীর প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। হেফাজতে ইসলাম কিংবা ‘কাপড় খোলা’ জমিয়তে ইসলামের ধুম-ধাড়াক্কা ফতোয়ার কাজও কেড়ে নিচ্ছে এআই। ইসলাম ধর্মীয় সব স্পর্শকাতর বিষয়েও নাক গলাতে শুরু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে মাদরাসা এবং আলেম-ওলামাদের হাত থেকে ইসলামের সবকিছুরই নিয়ন্ত্রন কেড়ে নিবে নয়া জামানার এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
কয়েক বছর আগে ‘ডিজিটাল মুফতি’ সম্পর্কে একটা ফেসবুক পোস্ট করেছিলাম। তখনও পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচলন শুরু হয়নি। সেই সময় লিখেছিলাম মানুষের পরিবর্তে ফতোয়া দিবে মেশিন। মানুষও ধর্মীয় নানা সমস্যার সমাধানের জন্য আলেম-ওলামা কিংবা বিখ্যাত মাদরাসার ইফতা বিভাগের কাছে অথবা প্রসিদ্ধ কোন মুফতির কাছে না গিয়ে মেশিনের কাছ থেকে ফতোয়া জেনে নিবে। মানুষ নয়, মেশিনই দিবে ধর্মীয় সমস্যার সব সমাধান।
এখন সেই সময় চলে এসেছে। এখন মানুষের পরিবর্তে ফতোয়া দিচ্ছে মেশিন। এখন আর মানুষ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হয়ে উঠছে আলেম-ওলামাদের বিকল্প।
মানুষের ধর্মীয় আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার ক্ষমতা ছিনিয়ে নিচ্ছে মেশিন।
এ বছর হজের দিনগুলোতে বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশের লাখো মুসলিম ধর্মীয় বিধান পালনে সঙ্গী করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআইকে।
যে প্রশ্নগুলো নিয়ে এতোদিন আপনাকে ইমামের কাছে যেতে হতো, এখন সেই প্রয়োজন মেটাচ্ছে ‘ইউর ইমাম’ নামের একটি অ্যাপ। যেখানে এআই দিয়ে বানানো দাড়িওয়ালা একটা মুখের সঙ্গে ইসলামী বিষয় নিয়ে দিব্বি চ্যাট করা যাযচ্ছে।
‘আনসারি’ নামের আরেকটি এআই অ্যাপ এ পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। জুমার খুতবার খসড়া তৈরি করে দেওয়া থেকে শুরু করে হাজারো জটিল বিষয়ে ফতোয় দিচ্ছে এই ‘আনসারী’। ‘ফানার’ নামের আরেকটি এআই মডেলও ভালো পারফর্ম করছে।
শিয়াকেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম ‘উইসকু’ ৯৬ শতাংশ নির্ভুল ধর্মীয় উত্তর দিতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
কওমী মাদরাসার নবীন হাফেজদের শুনানী কিংবা ‘দাওর’ এর কাজ করছে ‘তারতিল’ নামের একটি এআই অ্যাপ। কুরআন তিলাওয়াতের ভুলত্রুটিও ধরিয়ে দিচ্ছে এই অ্যাপ।
মিশরের সরকারি ফতোয়া সংস্থা দার আল-ইফতা আল-মিসরিয়্যাহ চলতি বছরের শুরুতে কোরআনের তাফসির ও ব্যাখ্যায় চ্যাটজিপিটির মতো এআই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। অথচ তারা নিজেরাই আবার ‘ফতোয়াপ্রো ’নামের একটা এআই অ্যাপ বানিয়েছে।
মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার নাহদলাতুল উলামা ও মুহাম্মাদিয়াহর মতো বৃহৎ ধর্মীয় সংগঠন এবং দোহার রিসার্চ সেন্টার ফর ইসলামিক লেজিসলেশন অ্যান্ড এথিকসের স্কলাররাও যৌথভাবে কাজ করছেন একটি বৈশ্বিক নৈতিক এআই-নীতিমালা তৈরির জন্য, যা দাঁড় করানো হচ্ছে ‘মাকাসিদ আশ-শরিয়া’
সহিহ বুখারির ১০০ নং হাদীসে বলা হচ্ছে,শেষ জামানায় ইলম তুলে নেওয়া হবে, আলেমশূন্য পৃথিবীতে মানুষ মূর্খকে নেতা বানাবে, আর তারা না জেনেই ফতোয়া দেবে ,এতে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে, অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে।
সহীহ হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের পূর্বে এক রাতে আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদ উঠিয়ে নেবেন। তখন লিখিত কুরআন ও মানুষের স্মৃতি থেকে প্রতিটি হরফ মুছে ফেলা হবে এবং এর কোনো আয়াত অবশিষ্ট থাকবে না।
আমরা কী খুব দ্রুতই সেই সময়ের দিকে ধাবিত হচ্ছি ?
Leave a Reply