মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার ৪ মাস পর আয়াতুল্লাহ আল খামেনীর দাফন-কাফন শেষ হতে না হতেই আবার যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যে। আমেরিকা এবং ইরানের পাল্টা হামলায় আবার যুদ্ধ অবিনার্য হয়ে উঠেছে। আর এবারের যুদ্ধ হবে এতোটাই ভয়ঙ্কর যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
বাস্তবে ইরান-আমেরিকা যখন যুদ্ধবিরতিতে স্বাক্ষর করছিল তখনই একটা বিশ্লেষণে দেখিয়েছিলাম এই যুদ্ধবিরতি কী কারণে টিকবে না। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্য প্রমানিত হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে দুই দেশ আবারো যুদ্ধে জড়াচ্ছে।
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরই ইরানে ভয়ংকর হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে তেহরান, বন্দর আব্বাস-সহ ইরানের একের পর এক শহর।
হামলার পরই আমেরিকাকে পালটা হুমকি দেগেছে তেহরান। ইরানি পার্লামেন্টের বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই বলেন, “শহিদ খামেনেই ভয় না পেয়ে মাথা উঁচু করে আমেরিকাকে মোকাবিলা করতে শিখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে মিথ্যার বিনাশ ঘটবে। এবার ইরানের কাছ থেকে কড়া থাপ্পড়ের জন্য আপনারা অপেক্ষা করুন।”
বুধবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড একটি বিবৃতি জারি করেছে। সেখানে তারা লিখেছে, ‘হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে ইরান। সেই কারণেই আমেরিকার সেনা তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে।’
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ উপকূলে একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বুশেহর, যেখানে ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত। পাশাপাশি, দক্ষিণের বন্দরনগরী চাবাহার, কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও সিরিকেও হামলা হয়েছে বলে খবর।
এছাড়া ইরানশাহরের একটি বিমানঘাঁটিও মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে। সূত্রের খবর, এই বিমানঘাঁটিটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডও ব্যবহার করত। অভিযানের পর ট্রাম্প একাধিক ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ইরানের উপর ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী আঘাত হেনেছে ওয়াশিংটন।
ইরানে মার্কিন হামলার পরই আরও অশান্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। বাহরিন-কুয়েত সহ একাধিক দেশে বেজে উঠেছে সাইরেন। বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, সতর্কতা জারি করতেই সাইরেন বাজানো হয়েছে। বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এভাবে বার বার ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ চলতে চলতে যে কোন সময় ভয়ঙ্কর প্রলয়ঙ্কারী রূপ ধারণ করতে পারে। এমন কী এই যুদ্ধ থেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সুত্রপাত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
………………………………………
এফ শাহজাহান
গ্লোবাল কনফ্লিক্ট অ্যানালাইসিস
০৯ জুলাই ২০২৬
…………………………………….
Leave a Reply