বগুড়ায় জামায়াতের ‘জুলাই অভ্যুত্থান : সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

Reporter Name
    সময় : সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ
  • ৩১৪ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে “জুলাই অভ্যুত্থান : সাম্প্রতিক ভাবনা” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, চব্বিশের জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদী দমননীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমজীবী সর্বশ্রেণির মানুষ যেভাবে রাজপথে এক কাতারে দাঁড়িয়েছিলো, ঠিক তেমনি ভাবে মজবুত ঐক্য গড়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে। জুলাইয়ের সকল শক্তিকে বিভেদ ভুলে শহীদদের আকাঙকা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সোমবার বিকেলে শহরের নবাববাড়ীস্থ টিএমএসএস অডিটোরিয়ামে বগুড়া মহানগর ও জেলা জামায়াত আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারি পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ ও বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদী দমননীতির বিরুদ্ধে রাজপথে এক কাতারে দাঁড়িয়েছিলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমজীবী সর্বশ্রেণির মানুষ। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সেই গণআন্দোলন শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবিচার, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে একটি সাহসী জাতির সম্মিলিত প্রতিরোধ।

এই আন্দোলন ছিল তরুণ প্রজন্মের জাগরণ। যেখানে তারা চেয়েছিল জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা, ন্যায়বিচার, মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক অধিকার এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল, শুধুমাত্র বিবেকের তাড়নায়। কোনো রাজনৈতিক দলের নির্দেশে সরাসরি নয় বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতেই তারা পথে দাঁড়িয়েছিল। রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের অনেকেই সংযুক্ত হয়ে আন্দোলনকে বেগবান করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

এই আন্দোলনে অনেকেই রক্ত দিয়েছেন, হারিয়েছেন প্রিয়জন, কেউ পঙ্গু হয়েছেন, কেউ এখনো হাসপাতালের বিছানায়। এসব ত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত নয়, একটি প্রজন্মের সম্মিলিত আত্মদানের প্রতিচ্ছবি। বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সর্বশ্রেণি-পেশার মানুষের জনগণের অংশগ্রহণের ফলেই সফল হয়েছে জুলাই বিপ্লব।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এ বিপ্লবে যেসব পিতা-মাতা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, তারা এখনো আশায় বুক বেঁধে আছেন বৈষম্যহীন ন্যায্যতার নতুন এক বাংলাদেশের প্রত্যাশায়। কিন্তু জুলাই বিপ্লবে সমর্থন দিয়ে মাঠে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো এখন স্বার্থের জালে আটকা পড়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদে লিপ্ত। এমনকি যারা জুলাই বিপ্লবের সামনে বা আড়াল থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তারাও এখন নিজেদের মধ্যে সাফল্যের কৃতিত্ব ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত। অথচ এখনো জুলাই গণহত্যার বিচার হয়নি! খুন, ধর্ষণ কিংবা চাঁদাবাজিসহ পেশি শক্তির বড়াই থামেনি। ফিরে আসেনি ন্যায্যতা, বাস্তবায়িত হয়নি গণভোটের রায়, বাস্তবায়ন হয়নি জুলাইয়ের স্বপ্নসনদ। সব ভেদাভেদ ভুলে জুলাই অভ্যুত্থানের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার জন্য সেমিনার থেকে আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির আকাঙখা পূরণে আন্তরিক হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ব আহ্বান জানানো হয়।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন বগুড়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান ও মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক আ.স.ম আব্দুল মালেক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©  doiniksatmatha.com